কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৯ জুন ২০২৬, ০২:১৭ এএম
আপডেট : ১৯ জুন ২০২৬, ০৮:০৬ এএম
অনলাইন সংস্করণ

এক বছরে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অর্থ বেড়েছে ৪১ শতাংশ

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

এক বছরের ব্যবধানে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের জমা অর্থ প্রায় ৪১ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৫ সালের শেষে এই অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৩ কোটি ৪১ লাখ সুইস ফ্রাঁ, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকার সমান। ২০২৪ সালে এ পরিমাণ ছিল প্রায় ৫৯ কোটি সুইস ফ্রাঁ।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২১ সালের পর ২০২৫ সালেই বাংলাদেশিদের সবচেয়ে বেশি অর্থ সুইস ব্যাংকে জমা হয়েছে। গত এক দশকের মধ্যে এটিই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পরিমাণ জমা।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুইস ব্যাংকে থাকা সব অর্থই যে অবৈধভাবে পাচার করা হয়েছে, এমন ধারণা সঠিক নয়। ব্যক্তি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংকও বৈধভাবে সেখানে অর্থ জমা রাখতে পারে। এছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিরাও সুইস ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় হিসাব খুলে অর্থ জমা রাখেন।

তবে জমার পরিমাণ হঠাৎ এতটা বেড়ে যাওয়ায় অর্থ পাচার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক মইনুল ইসলাম মনে করেন, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অর্থ পাচার কমবে বলে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু সুইস ব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, সেই প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ হয়নি।

তিনি বলেন, শুধু সুইস ব্যাংক নয়, বিশ্বের আরও বিভিন্ন দেশে অর্থ পাচার হয়ে থাকে। তাই অর্থ পাচার বন্ধের পাশাপাশি বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগও জোরদার করতে হবে।

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশের বাইরে চলে যাওয়া কিছু ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর অর্থ বিভিন্ন দেশে স্থানান্তরিত হয়ে থাকতে পারে। এছাড়া আগের বছরগুলোতে দেশ থেকে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, তার একটি অংশও বিভিন্ন উপায়ে সুইস ব্যাংকে জমা হতে পারে।

একসময় সুইস ব্যাংককে গোপনে অর্থ রাখার নিরাপদ স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হতো। তবে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন চুক্তির কারণে এখন পরিস্থিতি অনেক বদলে গেছে। বর্তমানে প্রয়োজন হলে সুইজারল্যান্ড বিভিন্ন দেশের সরকারকে ব্যাংক হিসাবসংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করে থাকে।

তারপরও অর্থ পাচার ঠেকানো এবং বিদেশে থাকা অবৈধ অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই রয়ে গেছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

১৫০০ শয্যায় উন্নীত হচ্ছে শজিমেক হাসপাতাল

মেহেরপুর সীমান্তে আবারও পুশ-ইনের চেষ্টা

'মনে হচ্ছে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেছি', কেন বললেন আ খ ম হাসান

অবশেষে সেই ‘মাস্টারমাইন্ড’ ইস্যুটি খোলাসা করলেন সাবেক উপদেষ্টা

আজ তিস্তা ব্যারাজ পরিদর্শনে যাচ্ছেন ৩ মন্ত্রী

রাশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রম উইং নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ / ঘুষবাণিজ্য-ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রবাসীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন প্রথম সচিব

শিগগিরই জামায়াতের পতন হবে : রাশেদ

ইবনে সিনায় চাকরির সুযোগ

আ.লীগের দুই শতাধিক নেতাকর্মীর বিএনপিতে যোগদান

নামাজরত মুসল্লির মৃত্যু

১০

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

১১

গাজীপুরে শুরু হলো আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্যারাম প্রতিযোগিতা 

১২

যমজ কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ায় স্ত্রীকে তালাক

১৩

মেসির বাবার ভুল মৃত্যুসংবাদ প্রচার করে চাকরি ছাড়লেন উপস্থাপক

১৪

পে-স্কেলে বাড়ছে বেতন, বাড়তি টাকা কবে হাতে পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা?

১৫

আর্জেন্টিনার সমর্থক বহনকারী গাড়িতে গুলি, নিহত ১

১৬

বন্ধুর বাড়ি বেড়াতে গিয়ে প্রাণ গেল ২ যুবকের

১৭

ইরানের সঙ্গে মার্কিন সমঝোতার পরও ইসরায়েলি হামলা, লেবাননে নিহত ১৬

১৮

‘অপবাদ’ একটি জঘন্যতম কবিরা গুনাহ 

১৯

পেনশন-অবসর সুবিধায় বড় পরিবর্তন : একাধিক সুবিধা বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন

২০
X