

ক্ষমতায় আসার চার মাসের মাথায় প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে মালয়েশিয়ায় বসবাসরত লাখ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশীদের মধ্যে বিরাজ করছে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা। দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে এই সফরের মাধ্যমে ভূরাজনৈতিক সমীকরণের নতুন দিগন্ত উন্মোচন, ঝিমিয়ে পড়া শ্রমবাজারের পুনরুজ্জীবন এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা করছেন প্রবাসীরা।
তাদের প্রত্যাশা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা শ্রমবাজার সিন্ডিকেট মুক্ত হবে এবং প্রবাসীদের দুঃখ দুর্দশা লাঘবে এই সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরকে ঘিরে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সফরটি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং এতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারের বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মালয়েশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা হলো বন্ধ ও সীমিত হয়ে থাকা শ্রমবাজারের জটিলতা দূর করা। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশের বিশাল চাহিদা থাকা সত্ত্বেও বিগত দিনগুলোতে নানা আইনি ও কূটনৈতিক জটিলতায় স্থবিরতা নেমে এসেছিল।
প্রবাসীরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের ফলে দুই দেশের মধ্যে নতুন সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হতে পারে, যা বৈধ পথে এবং স্বল্প খরচে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার অর্থনীতির জানালা পুরোপুরি খুলে দেবে।
এদিকে মালয়েশিয়ায় প্রবাসীদের যাতায়াত সুবিধার্থে বিমান টিকিট সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে হয়রানি বন্ধের দাবি প্রবাসীদের। তারা জানান, মালয়েশিয়া প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের একটি অন্যতম প্রধান ক্ষোভের জায়গা হলো ঢাকা-কুয়ালালামপুর রুটে বিমানের টিকিটের আকাশচুম্বী মূল্য এবং সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য। সাধারণ প্রবাসীরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উপার্জিত অর্থ টিকিটের পেছনেই উজাড় করে দিতে বাধ্য হন।
বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ী মো. মামুন বিন আব্দুল মান্নান কালবেলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকার গঠনের পর প্রথম মালয়েশিয়া সফর করছেন এটি কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের প্রত্যাশা থাকবে-দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা শ্রমবাজার চালু হবে এবং প্রবাসীদের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে তিনি কিছু পদক্ষেপ নেবেন। বিশেষ করে দুই দেশের ব্যবসা বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণ হবে।’
কয়েকজন প্রবাসী আকুতি জানিয়ে বলেন, সিন্ডিকেট ভেঙে বিমান টিকিটের মূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনতে হবে। প্রবাসীদের রক্ত পানি করা টাকা যেন কোনো মধ্যস্বত্বভোগী লুটে নিতে না পারে, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর হস্তক্ষেপ চাই।
সরকারি খরচে মরদেহ দেশে পাঠানোর দাবি
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রবাসীদের মাঝে সবচেয়ে যে বিষয়টি প্রভাব ফেলে সেটি হলো কেউ মারা গেলে তার লাশ দেশে পাঠানো নিয়ে। কেননা, মালয়েশিয়ায় কর্মরত অবস্থায় কোনো প্রবাসী মারা গেলে তার মরদেহ দেশে পাঠানো নিয়ে পরিবারগুলোকে চরম ভোগান্তি ও আর্থিক অনটনে পড়তে হয়।
প্রবাসী বাংলাদেশীদের দীর্ঘদিনের দাবি, কোনো প্রবাসী মারা গেলে যেন আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এড়িয়ে সর্বোচ্চ ৩ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ সরকারি খরচে তার লাশ বাংলাদেশে স্বজনদের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। তারা চান, প্রধানমন্ত্রী যেন এবারের সফরেই এই মানবিক দাবিটি পূরণের সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দেন।
দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর এই সফর কেবল শ্রমবাজারেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করবে। মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও গতিশীল করার বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
যুবদলের মালয়েশিয়া শাখার কর্মবিষয়ক সম্পাদক জাহাঙ্গীর হাওলাদার কালবেলাকে বলেন, ‘মালয়েশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশীরা দেশের অর্থনীতিতে প্রতি বছর বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়ে চাকা সচল রাখছেন। রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের এই বিশাল ত্যাগ ও অবদানের বিপরীতে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর তাদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার এক নতুন সুযোগ এনে দিয়েছে। কুয়ালালামপুরের বুকজুড়ে এখন একটাই সুর—প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে কাটবে প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের দুঃখ-দুর্দশা, আর উন্মোচিত হবে সম্ভাবনার এক নতুন দিগন্ত।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা থাকবে—যেন প্রবাসীদের মৃতদেহ তিনদিনের মধ্যে দেশে বিনা খরচে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সেইসঙ্গে বিমানের টিকিট ও জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে সব ধরনের সিন্ডিকেট যেন ভেঙে দেওয়া হয়।’
মালয়েশিয়া যুবদলের সাবেক সহসভাপতি ইকবাল পাঠান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর মালয়েশিয়ায়। এই সফরে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির বাধা দুর হবে, এটাই আমাদের চাওয়া।’
উল্লেখ্য, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে মালয়েশিয়াকে বেছে নেন তারেক রহমান। তিনি বাংলাদেশ সময় রোববার (২১ জুন) বেলা ২টা ৪৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমানের ফ্লাইট বিজি ৩৮৬-এ কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সফরের প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানো হবে। পরদিন সোমবার স্থানীয় সময় পুত্রজায়ায় দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে একান্ত বৈঠক (টেট-আ-টেট) অনুষ্ঠিত হবে। এরপর উভয় দেশের প্রতিনিধিদল নিয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করা হবে।
তাছাড়া বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি আসিয়ানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা আরও জোরদারের বিষয়ও আলোচনায় থাকতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, মালয়েশিয়ায় বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মরত থাকায় শ্রম অভিবাসন, নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং কর্মীদের কল্যাণ সফরের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা হতে পারে। বিভিন্ন অভিবাসী অধিকার সংগঠনও শ্রমিক নিয়োগ ব্যবস্থার সংস্কার, অবৈধ দালালচক্র নিয়ন্ত্রণ এবং বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছে।
এ সফরকে বাংলাদেশের নতুন সরকারের কূটনৈতিক অগ্রাধিকারের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য হিসেবে মালয়েশিয়া নির্বাচন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করার ইঙ্গিত বহন করে।
এ ছাড়া বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও নতুন উদ্যোগের সম্ভাবনা রয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি, উৎপাদনশিল্প, অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষিভিত্তিক শিল্প এবং হালাল অর্থনীতিসহ বিভিন্ন খাতে যৌথ সহযোগিতার সুযোগ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। সংশ্লিষ্ট মহলের আশা, সফরের মাধ্যমে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আরও বেশি বিনিয়োগে উৎসাহিত করা সম্ভব হবে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ সফর শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংযোগ আরও শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। একইসঙ্গে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
মালয়েশিয়ায় অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও মতবিনিময় করতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সফর শেষে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে সমঝোতা বা যৌথ ঘোষণা আসার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
সার্বিকভাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফরকে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে শ্রমবাজার পুনরুজ্জীবন, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কৌশলগত সহযোগিতা জোরদারের ক্ষেত্রে সফরটি বাস্তবসম্মত অগ্রগতি বয়ে আনবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হচ্ছে।
বিশেষ করে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের প্রবেশাধিকারের সম্প্রসারণ, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করার বিষয়ে বাংলাদেশ ইতিবাচক অগ্রগতি প্রত্যাশা করছে। দীর্ঘদিন ধরে দেশটিতে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকরা দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত।
প্রধানমন্ত্রীর খসড়া কর্মসূচি
খসড়া কর্মসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়া পৌঁছানোর পর মালয়েশিয়ার সরকারের পক্ষ থেকে তাকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানো হবে। পরে তিনি রাজধানীর শাংগ্রি-লা হোটেলে অবস্থান করবেন।
সফরের দ্বিতীয় দিন ২২ জুন পুত্রাজায়ার পারদানা পুত্রায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক স্বাগত অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। গার্ড অব অনারের পর দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে সীমিত পরিসরের বৈঠক এবং পরে প্রতিনিধি পর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
এদিন উভয় দেশের উপস্থিতিতে কয়েকটি সমঝোতা স্মারক ও একটি নোট বিনিময়ের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রাথমিক আলোচনায় সাংস্কৃতিক সহযোগিতা এবং সন্ত্রাস দমনসংক্রান্ত সহযোগিতার বিষয়ে দলিল বিনিময়ের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এরপর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেবেন।
সরকারি কর্মসূচিতে আরও রয়েছে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর আয়োজিত আনুষ্ঠানিক মধ্যাহ্নভোজে অংশগ্রহণ। একই দিনে মালয়েশিয়ার রাজার সঙ্গে সম্ভাব্য সৌজন্য সাক্ষাতের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে, যদিও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সময়সূচি তখনও নির্ধারিত হয়নি।
এ ছাড়া এমএমসি পোর্টস, এয়ারএশিয়া এবং পেট্রোনাস গ্রুপের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
দুই দিনের সফর শেষে ২২ জুন বিকেলে কুয়ালালামপুর থেকে বিমানের বিশেষ ফ্লাইটে চীনের ডালিয়ানের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।