

ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে বন্যা পূর্বাভাস ও তথ্য বিনিময়ে সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় হয়েছে। সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সর্তকতা জারি করেছে। এমন সংকটময় সময়ে ভারত বাংলাদেশকে রিয়েল টাইম বন্যা-সংক্রান্ত তথ্য শেয়ার করে যাচ্ছে।
দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার আওতায় এ তথ্য আদান-প্রদান চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।
বাংলাদেশের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি) রোববার (২১ জুন) সিলেট, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের নিম্নাঞ্চলে আগামী ২৪-৭২ ঘণ্টার মধ্যে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা করেছে। ভারী মৌসুমি বৃষ্টিপাতের কারণে প্রধান নদ-নদীর পানির উচ্চতা বাড়তে থাকায় এ সতর্কতা জারি করা হয়।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, জয়েন্ট রিভার্স কমিশনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আন্তঃসীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা চলছে। গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা সহ বিভিন্ন নদীর পানির উচ্চতা, নিষ্কাশন হার, বৃষ্টিপাতের ধরন এবং পূর্বাভাসের তথ্য বাংলাদেশকে সরবরাহ করছে ভারত।
এসব তথ্য ব্যবহার করে নদীর অবস্থা মূল্যায়ন, সময়মতো সতর্কতা জারি এবং প্রস্তুতি নেয়া সম্ভব হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ভারত একটি দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা কাঠামোর আওতায় বাংলাদেশকে বাস্তবসম্মত বন্যা-সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে। সময়োপযোগী জলবায়ু ও নদীর তথ্য বন্যা পূর্বাভাস উন্নত করতে এবং ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের জনগণকে আগাম সতর্ক করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে ভারত।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারত বার্ষিক বন্যা তথ্য আদান-প্রদানের মেয়াদ বাড়িয়ে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে এই সময়সীমা ছিল ১ মে থেকে ১৫ অক্টোবর। ২০২৩ সালে আরও এক ধাপ এগিয়ে ভারতের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিক মেসেজিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বন্যা পূর্বাভাস শেয়ার শুরু করেন। এতে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের পাশাপাশি দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান সম্ভব হচ্ছে এবং বিলম্ব অনেকাংশে কমেছে।
এছাড়া ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) পশ্চিমবঙ্গ ও আসামসহ সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোর আবহাওয়া ও বন্যা পূর্বাভাসও বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করে। এসব তথ্য উজানের অবস্থা বোঝার পাশাপাশি জরুরি প্রস্তুতি ও সাড়াদানে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
দুই দেশের এই সহযোগিতা বন্যাপ্রবণ এলাকার মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।