শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রহমান মৃধা
প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৪:১১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

গুড মর্নিং বাংলাদেশ

রহমান মৃধা। ছবি : সংগৃহীত
রহমান মৃধা। ছবি : সংগৃহীত

একটি নতুন সকাল মানে শুধু সূর্যোদয় নয়, একটি জাতির বিবেকেরও জাগরণ। প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা কি সত্যিই জেগে উঠছি, নাকি শুধু নতুন দিনের আলো দেখছি কিন্তু পুরোনো সমস্যার মধ্যেই আটকে আছি?

আজকের বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় শক্তি হলো জাগ্রত জনতা। মানুষ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। তারা প্রশ্ন করছে, বিচার চাইছে, জবাবদিহিতা চাইছে। কিন্তু একটি জাগ্রত সমাজের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি রাজনীতির দিকে গিয়ে দাঁড়ায়। কারণ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব যাদের হাতে, সেই রাজনৈতিক নেতৃত্বের কর্মদক্ষতা এবং সততার উপরই নির্ভর করে দেশের ভবিষ্যৎ।

একটি দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছে জনগণের প্রত্যাশা খুবই পরিষ্কার। তারা চায় সততা, দায়িত্ববোধ এবং রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সাহস। কিন্তু বাস্তবতার দিকে তাকালে দেখা যায়, রাজনীতি অনেক সময় নীতি ও আদর্শের চেয়ে ক্ষমতার প্রতিযোগিতায় বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এতে করে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সবসময় সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় না।

আজকের বাস্তবতা আমাদের সামনে একটি কঠিন প্রশ্ন তুলে ধরে। আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব কি সত্যিই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো দূরদর্শিতা দেখাতে পারছে? নাকি আমরা এখনো ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতি, দলীয় স্বার্থ এবং ক্ষমতার দ্বন্দ্বের মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছি?

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা শুধু সীমান্ত রক্ষা বা সামরিক শক্তির প্রশ্ন নয়। এটি একটি সামগ্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রশ্ন। শিক্ষা, অর্থনীতি, আইনের শাসন, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং সামাজিক ন্যায়বিচার একসাথে একটি নিরাপদ ভবিষ্যতের ভিত্তি তৈরি করে। রাজনৈতিক নেতৃত্ব যদি এই মৌলিক ভিত্তিগুলোকে শক্তিশালী করতে না পারে, তাহলে উন্নয়নের বড় বড় ঘোষণা দিয়েও একটি জাতির ভবিষ্যৎ নিরাপদ করা সম্ভব নয়।

এই মুহূর্তে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন একটি গতিশীল রাজনৈতিক পরিকাঠামো। এমন একটি কাঠামো যেখানে রাজনীতি হবে জনগণের সেবা করার মাধ্যম, ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত ক্ষমতার সিঁড়ি নয়। রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে গণতন্ত্র, রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা এবং নীতিনির্ধারণে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা ছাড়া এই পরিবর্তন সম্ভব নয়।

জাগ্রত জনতার শক্তি তখনই অর্থবহ হয় যখন তারা শুধু আবেগে নয়, সচেতন নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের প্রতি তাদের অধিকার এবং দায়িত্ব দুটোই বুঝতে পারে। কারণ গণতন্ত্রের প্রকৃত শক্তি কেবল ভোটের দিনে নয়, প্রতিদিনের নাগরিক সচেতনতার মধ্যেই নিহিত।

আজকের এই সকালে তাই একটি প্রশ্ন পুরো জাতির সামনে দাঁড়িয়ে আছে। আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব কি সত্যিই সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিয়ে একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারবে? নাকি জাগ্রত জনতাই শেষ পর্যন্ত রাজনীতিকে নতুন পথে হাঁটতে বাধ্য করবে?

গুড মর্নিং বাংলাদেশ। এটি কেবল একটি শুভেচ্ছা নয়। এটি একটি আহ্বান। জেগে ওঠার, প্রশ্ন করার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তোলার আহ্বান।

কথা দিয়ে কথা না রাখা, জনগণের ভোটের ফলাফলের উপর গাদ্দারি করা, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েই ক্ষমতায় দাপটে সেই জনগণের প্রতি অবিচার করা, জনগণকে ব্যবহার করে তাদের সঙ্গে প্রতারণা করা, নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশ সেটা মেনে নিয়ে নিশ্চুপ থাকবে, কীভাবে কোনো গোষ্ঠী তা কল্পনা করতে পারে, সেটা ভাবতেই আমার গা শিউরে উঠছে। ১৮ কোটি মানুষের বাংলাদেশে নতুন করে আবারও কোনো স্বৈরশাসকের জন্ম হবে, এ স্বপ্ন যদি কেউ দেখে থাকে, তাহলে স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, রাত হবে, কিন্তু অন্ধকার থেকে আলোর দিশা খুঁজে পাওয়া যাবে না। দুর্নীতিবাজ এবং পথভ্রষ্টদের বলতে চাই, আমরা রেমিট্যান্স যোদ্ধারা কিন্তু এখনও যুদ্ধের ময়দানে। অতএব দেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসে দেশকে ধ্বংস করার যদি নিম্নতম পরিকল্পনা কেউ দেখে থাকেন, তবে বিফল হবে সাধনা।

এই সতর্কবার্তাটি এখন কেবল ভূরাজনীতির নয়, মূল্যবোধের। আমরা কেমন বাংলাদেশ চাই, তার চেয়েও বড় প্রশ্ন, আমরা কেমন মানুষ হতে চাই? সেই উত্তরই নির্ধারণ করবে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের নৈতিক ভিত্তি কতটা দৃঢ় হবে। গুড মর্নিং বাংলাদেশের ১৮ কোটি জনতা।

রহমান মৃধা, গবেষক ও লেখক, প্রাক্তন পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন

[ নিবন্ধ, সাক্ষাৎকার, প্রতিক্রিয়া প্রভৃতিতে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। দৈনিক কালবেলার সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে নিবন্ধ ও সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত মত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে। প্রকাশিত লেখাটির ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ, তথ্য-উপাত্ত, রাজনৈতিক, আইনগতসহ যাবতীয় বিষয়ের দায়ভার লেখকের, দৈনিক কালবেলা কর্তৃপক্ষের নয়। ]
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সিএন্ডএফ ভবনেই মিলবে চসিকের ট্রেড লাইসেন্স, বুথ স্থাপনের নির্দেশ মেয়রের

নানার বাড়ি বেড়াতে গিয়ে পুকুরে ডুবে ২ ভাইয়ের মৃত্যু

নানার বাড়ি থেকে ফেরার পথে নিখোঁজ, খালে মিলল মরদেহ

দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে নিহত ১, একাধিক বাড়িঘরে আগুন

কারাগারে আইভীকে গান শোনাতেন মমতাজ, যে গান না গাইতে অনুরোধ

পাকিস্তানের সিরিজ জয়

ইউক্রেন ছাড় দিলে সমঝোতায় প্রস্তুত রাশিয়া : পুতিন

ডাচদের হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ শেষ বাংলাদেশের

আফগানিস্তানকেও রুখে দিল বাংলাদেশ

দিল্লির হোটেলে ভয়াবহ আগুনে প্রাণ হারালেন বাংলাদেশি নাগরিক

১০

পদোন্নতিতে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে সিআইডি প্রধানের পদত্যাগ

১১

যুবদলের যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক হলেন নির্যাতিত নেতা সাজিদ হাসান বাবু

১২

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তথ্য পেয়ে চুক্তি ও ঋণপত্র বাতিল, ফেরত যাচ্ছে ‘এমটি মেমেই’

১৩

ছবি প্রকাশ করলেন রাশেদ খান / সরকার পতনের পর আ. লীগ নেতাদের সঙ্গে কয়েক ধাপে মিটিং হান্নান মাসউদের

১৪

বজ্রপাতে সারা দেশে প্রাণ গেল ১২ জনের

১৫

অবিলম্বে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের দাম কমানোর দাবি এনসিপির

১৬

দাবি এমপি শওকতুলের / শ্রেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান নোবেল পাওয়ার যোগ্য

১৭

আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন অভিনেতা আলভীর মা

১৮

কোটি টাকার ইয়াবাসহ কোস্টগার্ডের হাতে ৪ জন আটক

১৯

২২ বলের ফিফটিতে দিলারার রেকর্ড

২০
X