সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি সরকার : ভিপি নুর
আগামী ৮ মার্চ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধসহ ৫ দফা দাবিতে সমাবেশ করবে গণঅধিকার পরিষদ। সমাবেশ সফলে সোমবার (৪ মার্চ) দ্বিতীয় দিনের মতো গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করেছেন দলটির একাংশের নেতারা। লিফলেট বিতরণের আগে পুরানা পল্টনের মোড়ে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। পথসভা শেষে পুরানা পল্টন মোড়, ফকিরাপুল, বায়তুল মোকাররম মসজিদ এলাকা ও গুলিস্তানে লিফলেট বিতরণ করা হয়। এ সময় গণঅধিকার পরিষদের একাংশের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধিতে মানুষের কষ্ট হচ্ছে। জিনিসপত্রের দাম হুড়হুড় করে বাড়ছে। জনবিচ্ছিন্ন সরকার মানুষের কষ্ট দেখতে পাচ্ছে না। কারণ তাদের জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা নেই। জনগণ তাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেনি। তারা গায়ের জোরে একতরফা নির্বাচন করে অবৈধভাবে ক্ষমতায় আছে। তিনি আরও বলেন, ৭ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচন করে দেশকে আরও ঝুঁকিতে ফেলেছে। সংকট ঘনীভূত করেছে। জিনিসপত্রের বাজারে আগুন আর ডামি সংসদে ফাগুন। সরকার জিনিসপত্রের দাম কমাতে পারবে না। সরকার সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি। তাই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে জনগণকে প্রতিবাদ করতে হবে, রাস্তায় নেমে দাম কমাতে সরকারকে বাধ্য করতে হবে। সরকার দুর্নীতিবাজ ও কালোবাজারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে ড. ইউনূসকে আদালতের বারান্দায় ঘুরাচ্ছে, হয়রানি করছে। দেশের মানুষ ও বিশ্ববাসীকে ড. ইউনূসের পক্ষে থাকার আহ্বান জানান ভিপি নুর। গণঅধিকার পরিষদের এই অংশের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খাঁন বলেন, সরকারের বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বলেছেন- ‘জনগণের পকেটে টাকার অভাব নেই’। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে তিনি এমন কথা বলতে পারতেন না। আমাদের কারও পকেটে টাকা নেই। সাংবাদিক থেকে শুরু করে সরকারি-বেসরকারি সকল পেশার মানুষ কষ্টে রয়েছে। মানুষ সঞ্চয় ভেঙে খেয়ে এখন ঋণের জালে আবদ্ধ হতে শুরু করেছে। যে টাকা আয় করে, তা দিয়ে কারও সংসার চলে না। এই ডামি সরকারের পক্ষে নিত্যপণ্যের দাম কমানো সম্ভবপর নয়। সুতরাং এই সরকারের বিরুদ্ধে আমাদের জোরালো আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। গণসংযোগ কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের উচ্চতর পরিষদের সদস্য ফাতেমা তাসনীম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসালম, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন, কেন্দ্রীয় নেতা ওমর ফারুক, সাইফুল ইসলাম, ছাত্র অধিকার পরিষদের সহ-সভাপতি সাব্বির হোসাইন, নাহিদ উদ্দিন তারেক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান, যুব অধিকার পরিষদের দপ্তর সম্পাদক সবুজ সেরনিয়াবাতসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
৮ ঘণ্টা আগে

ইসরায়েলি হামলায় আরও ৭ জিম্মি নিহত
গাজা উপত্যকায় অব্যাহতভাবে হামলা চালিয়ে আসছে ইসরায়েলের সেনারা। দেশটির সেনাদের হামলায় গাজায় আরও সাত জিম্মি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামীদের সংগঠন হামাস। দলটি জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে তিনজন বিদেশি ও চারজন ইসরায়েলি রয়েছেন।  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে শুক্রবার এক পোস্টে হামাসের সামরিক শাখা আল কাসেম ব্রিগেডের মুখপাত্র আবু উবাইদা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে কোন এলাকায় এ জিম্মিরা নিহত হয়েছেন তারা তিনি স্পষ্ট করে জানাননি।  টেলিগ্রামে এক পোস্টে তিনি বলেন, পাঁচ মাস ধরে চলা ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় গাজায় বেশ কয়েকজন জিম্মি নিহত হয়েছেন। শুক্রবারে এ সংখ্যা দিয়ে নিহত ৭০ জন ছাড়িয়েছে।  গত ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে প্রবেশ করে নজিরবিহীন হামলা চালিয়ে ১ হাজার ২০০ ইসরায়েলিকে হত্যার পাশাপাশি প্রায় ২৫০ ইসরায়েলি ও বিদেশি নাগরিককে গাজায় বন্দি করে নিয়ে আসে হামাস। একই দিন হামাসকে নির্মূল এবং বন্দিদের মুক্তি নিশ্চিত করতে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী এই সংগঠনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে ইসরায়েল। গত নভেম্বরে সাত দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তির বিনিময়ে ১১০ ইসরায়েলি বন্দিকে হামাস মুক্তি দিলেও এখনো তাদের হাতে ১৩০ জনের মতো বন্দি আছেন।
০২ মার্চ, ২০২৪

স্বামীকে জিম্মি করে অন্তঃসত্ত্বাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ
পাবনার আমিনপুরে স্বামীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে অন্তঃসত্ত্বাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এতে তার গর্ভের সন্তানও মারা গেছে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে আমিনপুরের সাগরকান্দি ইউনিয়নের চর কেষ্টপুরে এ ঘটনা ঘটে। গতকাল বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আমিনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুনুর রশিদ। তবে ঘটনার পাঁচ দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ অভিযুক্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। চাপ ও হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ভুক্তভোগী নারীসহ তার পরিবারের সদস্যরা। অভিযুক্তরা হলো চর কেষ্টপুরের মাজেদ প্রামাণিকের ছেলে সেলিম প্রামাণিক (২৩), একই এলাকার মো. শরীফ (২৪), আনিছ সরদারের ছেলে রাজীব সরদার (২১), তালেব মণ্ডলের ছেলে রুহুল মণ্ডল (২৬), শফিক সরদারের ছেলে লালন সরদার (২০) ও মো. শামসুলের ছেলে সিরাজুল (২৩)। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে চর কেষ্টপুরের কাদেরিয়া তরিকাপন্থিদের একটি ওয়াজ মাহফিল আয়োজন করা হয়। মাহফিলের ডেকোরেশনের কাজ করছিলেন ভুক্তভোগী নারীর স্বামী। টাকার প্রয়োজনে ওই রাতে তার স্বামীর কাছে যান তিনি। সেখানে ওয়াজ শুনে রাত ১২টার দিকে পাশেই তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার পথে গতিরোধ করে অভিযুক্ত ৬ যুবক। তাদের নানা প্রশ্ন করা হয়। একপর্যায়ে নারীর স্বামীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এবং ওই নারীকে ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে গিয়ে অভিযুক্তদের দুজন পালাক্রমে ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে ওই নারীর স্বামী তাদের কাছ থেকে ছুটে এসে স্থানীয়দের বললে তারা দলবদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে অভিযুক্তদের একজনকে আটক করে গণধোলাই দেওয়া হয়। বাকিরা পালিয়ে যায়। পরে ওই নারীকে স্থানীয় পল্লি চিকিৎসকের কাছে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। স্থানীয় এক যুবক বলেন, ‘আমাদের ওয়াজ মাহফিল চলা অবস্থায় রাত ১টার দিকে ওই ছেলে (ভু্ক্তভোগীর স্বামী) ছুটে এসে বলল, কয়েক যুবক তাকে মারধর করে তার স্ত্রীকে ধরে নিয়ে গেছে। এ কথা শোনার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা গিয়ে একজনকে হাতেনাতে ধরে গণধোলাই দিই। আর মেয়েটিকে উদ্ধার করে স্থানীয় পল্লি চিকিৎসক তোফাজ্জল হোসেন কাদেরির কাছে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতালে পাঠাই।’ ভুক্তভোগী নারী বলেন, ‘আমরা আমাদের আত্মীয় বাড়িতে যাওয়া পথে তারা মাঠের মধ্যে পথ আটকায়। আমাদের বলে তোরা স্বামী-স্ত্রী কি না। আমরা নিজেদের স্বামী-স্ত্রী দাবি করলেও তারা কর্ণপাত করেনি। ফোনে আমাদের বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বললেও ওরা শোনেনি। একপর্যায়ে আমার স্বামীকে ব্যাপক মারধর করে এবং অস্ত্র আর ব্লেডের মুখে আমার তাকে জিম্মি করে আমাকে মাঠের মধ্যে ভু্ট্টাক্ষেতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে।’ ভুক্তভোগী নারীর স্বামী বলেন, ‘আমার স্ত্রী ৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল। গর্ভের সন্তান মারা গেছে। মামলা হলেও আমাদের এখনো কোনো কাগজপত্র দেওয়া হয়নি। থানায় গেলে কিছু পুলিশ সদস্য নানা কথা বলেন। আর যারা ধর্ষণ করেছে তাদের পক্ষ থেকেও নানা হুমকি ও চাপ আসছে। বলছে এ ঘটনায় কিছুই হবে না, তোমাদেরই বিপদ হবে, তাই মীমাংসা করো। আমরা ধর্ষণ এবং আমাদের সন্তান হত্যার বিচার চাই।’ স্থানীয় পল্লি চিকিৎসক তোফাজ্জল হোসেন কাদেরী বলেন, ‘স্থানীয়রা ওই নারীকে উদ্ধার করে আমার কাছে নিয়ে এলে আমি প্রাথমিক চিকিৎসা দিই। পরে তাদের বলি, মেয়েটাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতাল বা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে।’ অভিযুক্তরা এখনো গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাগরকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শাহীন চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে ঘুরছেন, কিন্তু পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করতে পারছে না। এটা নিয়ে প্রশাসনের তেমন তোড়জোড় আছে বলেও মনে হচ্ছে না। আমরা এরকম একটা ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তির আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানাই।’ তবে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত আছে দাবি করে আমিনপুর থানার ওসি হারুনুর রশিদ বলেন, ‘অভিযুক্তরা সবাই পলাতক আছে। পুলিশের গাফিলতির বিষয়টি মিথ্যা। আমরা চেষ্টা করছি তাদের গ্রেপ্তারের। ধর্ষণের ঘটনা মীমাংসা হয় না, বাদীকে হুমকি-ধমকির বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে। তাদের নিরাপত্তার জন্য সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।’
২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

স্বামীকে জিম্মি করে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ
পাবনার আমিনপুরে স্বামীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এতে তার গর্ভের সন্তানও মারা গেছে। এ ঘটনার ৫ দিন অতিবাহিত হলেও এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আমিনপুর থানার ওসি হারুনুর রশিদ। এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে আমিনপুরের সাগরকান্দি ইউনিয়নের চর কেষ্টপুরে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্তরা হলো- চর কেষ্টপুরের মাজেদ প্রামাণিকের ছেলে সেলিম প্রামাণিক (২৩), একই এলাকার মো. শরীফ (২৪), আনিছ সরদারের ছেলে রাজীব সরদার (২১), তালেব মণ্ডলের ছেলে রুহুল মণ্ডল (২৬), শফিক সরদারের ছেলে লালন সরদার (২০) ও  মো. শামসুলের ছেলে সিরাজুল (২৩)। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে চর কেষ্টপুরে একটি ওয়াজ মাহফিল আয়োজন করা হয়। মাহফিলের ডেকোরেশনের কাজ করছিলেন ভুক্তভোগী নারীর স্বামী। টাকার প্রয়োজনে ওই রাতে তার স্বামীর কাছে যান তিনি। সেখানে ওয়াজ শুনে রাত ১২টার দিকে পাশে তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার পথে গতিরোধ করে অভিযুক্ত ৬ যুবক। একপর্যায়ে নারীর স্বামীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এবং ওই নারীকে ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে গিয়ে অভিযুক্তদের দুজন ধর্ষণ করে। ভুক্তভোগীর স্বামী তাদের কাছ থেকে ছুটে এসে স্থানীয়দের বললে তারা দলবদ্ধ নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। এ সময় গেলে অভিযুক্তদের একজনকে আটক করে গণধোলাই দেন এবং বাকিরা পালিয়ে যায়। পরে ওই নারীকে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকের কাছে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। স্থানীয় লিটন মণ্ডল, রাজ্জাক মণ্ডল, নিফাস মণ্ডল ও শহিদ মণ্ডল বলেন, আমাদের ওয়াজ মাহফিল চলা অবস্থায় রাত ১টার দিকে ওই ছেলে ছুটে এসে বলল, কয়েকজন যুবক তাকে মারধর করে তার স্ত্রীকে ধরে নিয়ে গেছে। এ কথা শোনার সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয়রা গিয়ে একজনকে হাতেনাতে ধরে গণধোলাই দেন। আর মেয়েটিকে উদ্ধার করে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকের কাছে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতালে পাঠানো হয়। ভুক্তভোগী নারী বলেন, আমরা আমাদের আত্মীয় বাড়িতে যাওয়া পথে তারা মাঠের মধ্যে পথ আটকায়। আমাদের বলে তোরা স্বামী-স্ত্রী কি না। আমরা নিজেদের স্বামী-স্ত্রী দাবি করলেও তারা কর্ণপাত করেননি। ফোনে আমাদের বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বললেও ওরা শোনেনি। একপর্যায়ে আমার স্বামীকে ব্যাপক মারধর করে এবং অস্ত্র ঠেকিয়ে জিম্মি করে আমাকে মাঠের মধ্যে ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। এ সময় আমার স্বামী ছুটে গিয়ে পাশের লোকজন ডেকে আনলে একজনকে আটক করা হয় এবং বাকিরা পালিয়ে যায়। ভুক্তভোগীর স্বামী বলেন, আমার স্ত্রী ৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল। গর্ভের সন্তান মারা গেছে। মামলা হলেও আমাদের এখনো কোনো কাগজপত্র দেওয়া হয়নি। থানায় গেলে কিছু পুলিশ সদস্য নানা কথা বলেন। আর যারা ধর্ষণ করেছে তাদের পক্ষ থেকেও নানা হুমকি ও চাপ আসছে। বলছে এ ঘটনায় কিছুই হবে না। তোমাদেরই বিপদ হবে, তাই মীমাংসা কর। আমরা ধর্ষণ এবং আমাদের সন্তান হত্যার বিচার চাই। অভিযুক্তরা এখনো গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাগরকান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহীন চৌধুরী। তিনি বলেন, অভিযুক্তরা প্রকাশ্য দিবালোকে বেড়াচ্ছে কিন্তু পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করতে পারছে না। আমরা এরকম একটা ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তির আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানাই। তবে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত আছে দাবি করে আমিনপুর থানার ওসি হারুনুর রশিদ বলেন, অভিযুক্তরা সবাই পলাতক আছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে। গ্রেপ্তারের বিষয়ে পুলিশি গাফিলতির বিষয়টি মিথ্যা। ধর্ষণের ঘটনা মিমাংসা হয় না, বাদীকে হুমকি-ধমকির বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে। তাদের নিরাপত্তার জন্য সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

মুশতাকের ফোনের অশ্লীল ভিডিওতে জিম্মি তিশা!
আলোচিত দম্পতি সিনথিয়া ইসলাম তিশা ও খন্দকার মুশতাক আহমেদ। তাদের নিয়ে আলোচনার শেষ নেই। নানাভাবে সমালোচিত এই জুটি এবার বইমেলায় গিয়েও হেনস্তার শিকার হয়েছেন।  তিশা-মুশতাককে নিয়ে যে শুধু বাইরে সমালোচনা হয় এমনটা না। তাদের বিয়ে এখনো মেনে নেয়নি তিশার পরিবার। এ বিয়েকাণ্ড আদালত পর্যন্ত গেছেন তারা। যা এখনো বিচারাধীন। এ বিষয়ে এবার কথা বলেছেন তিশার বাবা সাইফুল ইসলাম। তার অভিযোগ, ব্ল্যাকমেইল করে তিশাকে বিয়ে করেছেন মুশতাক। সাইফুল ফেসবুক লাইভে বলেন, আমি মুশতাকের ছায়াটাও দেখতে চাই না। মুশতাকের নামটা শুনলে আমার ওজুটাও নষ্ট হয়ে যায়। আম্মু তুমি আমার কাছে ফিরে এসো, কোনো কারণে যদি ট্রেন লাইনচ্যুত হয়, সেটার আবার লাইনে তুলে সামনে আগানো যায়। তুমি আমার কাছে ফিরে এসো, মুশতাকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।   তিনি বলেন, একটা মেয়ে কতটা জিম্মি হলে বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারে। তিশাকে খুব রেস্ট্রিকসনে রাখে, তাকে মোবাইলেও কথা বলতে দেয় না। কথা বলতে দিলে মুশতাক পাশে বসে থাকে।   একদিন আমার স্ত্রী তিশাকে বলছিল, মুশতাকের কাছ থেকে না এলে তোমার জীবনটা ধ্বংস হয়ে যাবে?  জবাবে তিশা বলেন, আম্মু আমার অনেক অশ্লীল ছবি ওর (মুশতাক) কাছে আছে। ছবিগুলো দিলে লাথি দিয়ে চলে আসতাম।    তিশার বাবা বলেন, মুশতাক আমার মেয়ে তিশাকে ব্ল্যাকমেইল করে বিয়ে করেছেন। তিনি আমার মেয়ের কিছু অশ্লীল ছবি ও ভিডিও ধারণ করছেন। ১০-১২ জন ছেলেকে ভাড়া করে আমার মেয়ের অশ্লীল ছবি তুলেছেন। মুশতাককে বিয়ে না করলে তিশার এসব ভিডিও ও ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলে হুমকি দিয়েছেন। আমার মেয়েকে মুশতাক বলেছেন, ‘তুমি আমাকে বিয়ে না করলে তোমার বাবা-মাকে মেরে ফেলব’।  ঢাকার মতিঝিলের আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী তিশা এবং খন্দকার মুশতাক ওই কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য ছিলেন। 
১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালের সদস্য পরিচয়ে গৃহবধূকে জিম্মি করে চাঁদাবাজি
কক্সবাজারের উপকূলীয় উপজেলা পেকুয়ায় সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালের সদস্য পরিচয় দিয়ে এক গৃহবধূকে জিম্মি করে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে গোলাম রহমান (৩৮) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে।  গোলাম রহমান উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের বদিউদ্দিন পাড়া এলাকার হাছন আলীর ছেলে। এ ব্যাপারে ওই গৃহবধূ পেকুয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।  অভিযোগে বলা হয়, কিছুদিন পূর্বে গোলাম রহমান নামের এক ব্যক্তি ০১৬২৪ ৯৬৮ ৫৫১ নম্বর থেকে ওই গৃহবধূর সাথে যোগাযোগ করে সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালের সদস্য বলে পরিচয় দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গৃহবধূর নামে একটি ফেক আইডি আছে বলে জানান তিনি। যেখানে বিভিন্ন ধরনের আপত্তিকর ছবি-ভিডিও ভেসে বেড়াচ্ছে। এতে এসব ছবি-ভিডিও অপসারণ করতে ১৮ হাজার টাকার প্রয়োজন বলে ওই গৃহবধূকে জানান গোলাম রহমান। একপর্যায়ে সামাজিক মর্যাদা রক্ষার্থে গোলামকে ০১৮৫০ ৬৪১ ০০০ নম্বরের একটি বিকাশ অ্যাকাউন্টে ১০ হাজার টাকা পাঠায় ওই গৃহবধূ।  অভিযোগে আরও বলা হয়, ১০ হাজার টাকা পাওয়ার পরে গোলাম রহমান আরও টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গৃহবধূর নামে থাকা ওই ফেক আইডিতে আপত্তিকর আরও ছবি-ভিডিও আপলোড করার হুমকি দেন। টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে গোলাম রহমান সাংবাদিকদের জানান, আমি সাইবার ক্রাইম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করতেছি। আমি ওই মহিলার কাছ থেকে টাকা নিয়েছিলাম তার উপকার করার জন্য। এখন তিনি না চাইলে টাকা ফেরত দেওয়া হবে।  এ বিষয়ে পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইলিয়াছ বলেন, সাইবার ক্রাইমের সদস্য পরিচয় দিয়ে গোলাম রহমান নামের এক যুবক টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ব্যাপারটি ওই গৃহবধূ আমাকে জানিয়েছিল। লিখিত অভিযোগ পাওয়া মাত্রই আমরা তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
১৬ জানুয়ারি, ২০২৪

২০ খেলাপিতে জিম্মি সোনালী ব্যাংক
রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের বিতরণ করা মোট ঋণের ৩৫ শতাংশই দেওয়া হয়েছে সরকারি ও বেসরকারি খাতের ১৩টি প্রতিষ্ঠানকে। এরই মধ্যে খেলাপি হয়ে পড়েছে এর উল্লেখযোগ্য অংশ। সব মিলিয়ে মাত্র ২০ খেলাপির কাছে আটকে গেছে দেশের সর্ববৃহৎ এই ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা, যা মোট খেলাপি ঋণের ৩১ শতাংশের বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন ও ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সোনালী ব্যাংক ৮৭ হাজার ৫০৮ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে। এর ১৩ হাজার ৯৯২ কোটি টাকাই খেলাপি হয়ে পড়েছে, যা মোট ঋণের ১৬ শতাংশ। এর বড় অংশই গেছে হাতেগোনা কয়েকজনের পকেটে। প্রভাবশালী এই ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করতে না পারায় সোনালী ব্যাংক ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে। প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সোনালী ব্যাংকের কাছে বাংলাদেশ ব্যাংকের বকেয়া (ডেফারেল) পাওনা রয়েছে ৩ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। এটি মূলত খেলাপি ঋণের প্রভিশন সংরক্ষণ খাতের ডেফারেলের বকেয়া পাওনা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পাওনা পরিশোধে ব্যাংকটি ২০২৬ সাল পর্যন্ত সময়ে নিয়েছে। এই দায় পরিশোধ না করেই সোনালী ব্যাংক সম্প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায়ী বছরের অনিরীক্ষিত পরিচালন মুনাফা প্রকাশ করেছে। ব্যাংকটির দাবি, ২০২৩ সালে ৩ হাজার ৭২৭ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা অর্জিত হয়েছে। যদিও দায়-দেনা পরিশোধের পর প্রকৃত মুনাফা অনেক কমে যাবে। তথ্য বলছে, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সোনালী ব্যাংকের ডেফারেল সুবিধা নেওয়ার প্রধান কারণ খেলাপি ঋণ। ব্যাংকটির বিতরণ করা মোট ঋণের ১৬ শতাংশই খেলাপি হয়ে পড়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকে অতিরিক্ত প্রভিশন রাখতে হচ্ছে। কিন্তু প্রভিশনের টাকা জমা দিতে না পারায় বাধ্য হয়ে ডেফারেল সুবিধা নিতে হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোকে তাদের নিয়মিত বা অশ্রেণিকৃত ঋণের বিপরীতে পরিচালন মুনাফার শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত প্রভিশন হিসেবে রাখতে হয়। এ ছাড়া নিম্নমানের শ্রেণিকৃত ঋণের বিপরীতে ২০ শতাংশ এবং সন্দেহজনক শ্রেণিকৃত ঋণের বিপরীতে ৫০ শতাংশ প্রভিশন হিসেবে রাখতে হয়। তবে মন্দ বা লোকসান ক্যাটাগরির খেলাপি ঋণের বিপরীতে ব্যাংককে সমপরিমাণ (শতভাগ) অর্থ প্রভিশন হিসেবে আলাদা করে রাখতে হয়। প্রাপ্ত তথ্যমতে, গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাত্র ২০ খেলাপির পকেটে সোনালী ব্যাংকের ৪ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা আটকে আছে। অর্থাৎ সোনালী ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণের ৩১ শতাংশই এসব ব্যবসায়ীর পকেটে। ব্যাংকটির শীর্ষ খেলাপির তালিকায় সবার আগে রয়েছে টি অ্যান্ড ব্রাদার্স গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটির কাছে সোনালী ব্যাংকের পাওনা ৪৯০ কোটি টাকাই এখন খেলাপি হয়ে পড়েছে। বর্তমানে এই গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন জিনাত ফাতেমা। সোনালী ব্যাংকের শীর্ষ খেলাপির তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে হলমার্ক গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটি ২০১০-১২ সালের মধ্যে জালিয়াতির মাধ্যমে রাষ্ট্রায়ত্ত এই ব্যাংক থেকে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা নিয়েছিল। এ-সংক্রান্ত মামলায় এখন কারাগারে আছেন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর মাহমুদ। হলমার্কের মোট ঋণের মধ্যে ৪৮৪ কোটি টাকা বর্তমানে খেলাপি হয়ে আছে। জানতে চাইলে হলমার্ক গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক শামিম আল মামুন কালবেলাকে বলেন, ‘হলমার্কের ঘটনা তো ১২-১৩ বছর হয়ে গেছে। ঋণ পরিশোধ করতে হলে চেয়ারম্যান ও এমডির কারামুক্তি প্রয়োজন। তারা মুক্ত হলে সম্পদ বিক্রি করে দায় পরিশোধের ব্যবস্থা করা যেত। কিন্তু আদালত কোনোভাবেই তাদের মুক্তি দিচ্ছেন না।’ শীর্ষ খেলাপিদের মধ্যে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রতনপুর গ্রুপের প্রতিষ্ঠান মডার্ন স্টিল মিলস। প্রতিষ্ঠানটির নেওয়া ঋণের ৪৪৮ কোটি টাকাই বর্তমানে খেলাপি। শুধু সোনালী ব্যাংক নয়, এই প্রতিষ্ঠানটি আরও কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও ঋণখেলাপি। ট্রাস্ট ব্যাংকের এ-সংক্রান্ত এক মামলায় রতনপুর গ্রুপের মালিক মাকসুদুর রহমান ও তার দুই ছেলে মিজানুর রহমান এবং মারজানুর রহমানকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে থাকা তাইপে বাংলা ফেব্রিক্সের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৩৪৮ কোটি টাকা। সোনালী ব্যাংকের লোকাল অফিস থেকে নেওয়া এই ঋণ দীর্ঘদিন ধরেই খেলাপি হয়ে আছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সারওয়ার হোসেন কালবেলাকে বলেন, ‘গ্যাস সমস্যা আর ক্রয়াদেশ না থাকায় ঋণটি খেলাপি হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই ঋণ পুনঃতপশিল করার চিন্তা করা হচ্ছে।’ পঞ্চম অবস্থানে থাকা ফেয়ার ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৩১৬ কোটি টাকা। ২০১২ সালে খেলাপি হওয়া প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন জসিম আহমেদ। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য তাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও রিসিভ করেননি। এ ছাড়া শীর্ষ খেলাপির তালিকায় থাকা রহমান গ্রুপের ৩১৪ কোটি, অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজের ৩০০ কোটি, লিনা পেপার মিলসের ২১৫ কোটি, রতনপুর স্টিল রি-রোলিং মিলস ২১৪ কোটি, এপেক্স ওয়েভিং অ্যান্ড ফিনিশিং মিলস ১৫৬ কোটি, বিশ্বাস গার্মেন্টস ১৫৫ কোটি, রেজা জুট ট্রেডিং ১৩১ কোটি, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক ১৩১ কোটি, সোনালী জুট মিলস ১২৭ কোটি, থার্মেক্স গ্রুপভুক্ত দুই প্রতিষ্ঠানের ১২৩ কোটি, ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড ১১৫ কোটি এবং সুপ্রিম জুট অ্যান্ড নিটিংয়ের ১০৫ কোটি টাকার ঋণ খেলাপি হয়ে গেছে। বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ ও তা আদায়ের উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে বারবার চেষ্টা করেও সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান নির্বাহী আফজাল করিমের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘দেশের সর্ববৃহৎ ব্যাংক হিসেবে সোনালী ব্যাংকের বিপুলসংখ্যক গ্রাহক রয়েছে। তাদের আমানতের পরিমাণও অনেক। এই ব্যাংকটি ভালো হলে সার্বিকভাবে ব্যাংক খাতে ভালো হবে। তবে দুঃখের বিষয়, হলমার্কসহ বড় আর্থিক কেলেঙ্কারি এই ব্যাংকেই হয়েছে। এজন্য জবাবদিহি বাড়াতে হবে। সঠিকভাবে প্রভিশন রাখতে হবে। প্রভিশন বকেয়া রেখে মুনাফা দেখানোর সুযোগ নেই।’
১৪ জানুয়ারি, ২০২৪

মানুষকে জিম্মি করে গণতান্ত্রিক আন্দোলন হতে পারে না : নাছিম
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা ৮ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেছেন, যারা নির্বাচন করতে চায় না তারাই নির্বাচন নিয়ে নানা ধরনের সংঘাত সৃষ্টি করতে চায়। বাংলাদেশে গুটি কয়েক দল রাজনৈতিক সংঘাত সৃষ্টি করছে। তারা নির্বাচনে সহিংসতা ও রাজনৈতিক সহিংসতা করছে। মানুষকে জিম্মি ও টার্গেট করে গণতান্ত্রিক আন্দোলন হতে পারে না।  মঙ্গলবার (২ জানুয়ারি) সকালে পল্টন কমিউনিটি সেন্টারে ইমাম, মোয়াজ্জিন ও আলেম ওলামাদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, নির্বাচন যখন আসে সেটাকে সুষ্ঠু ও সুন্দর করার দায়িত্ব সবার। নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য তাদের অবস্থান থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করে। এর পাশাপাশি যে দলগুলো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তারাও এ দায়িত্ব পালনে অংশীদার হয়। মানুষের সাথে যেহেতু রাজনৈতিক দলগুলোর সরাসরি সম্পর্ক, যার কারণে এ কার্যক্রম সম্পর্কে মানুষকে জানানো ও বোঝানোর মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক দল মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে। আমার ভোট আমি দেব সেখানে কোনো ভয় থাকবে না। আমরা সবার কাছে ভোট চাই। আমরা চাই যাতে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।  উপস্থিত ওলামা-মাশায়েখদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনারা বিভিন্ন জায়গায় ধর্মীয় কার্যক্রম করে থাকেন। আপনারা মসজিদের ইমাম মোয়াজ্জিন। মুসল্লিদের সাথে আপনাদের সম্পর্ক অনেক গভীর। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে সুন্দর একটি নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য আপনারা কাজ করতে পারেন। এর পাশাপাশি আমি যেহেতু একজন প্রার্থী, বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা আমাকে নৌকায় মনোনয়ন দিয়েছেন, আপনারা আমাকে একটু সহযোগিতা করবেন। আমি আপনাদের কাছে দোয়া চাই।  তিনি আরও বলেন, আপনাদের যে কোনো প্রয়োজনে আমি পাশে আছি। বাংলাদেশের সংবিধান সকল ধর্মকে মর্যাদা দিয়েছে। অনেকেই অপপ্রচার চালায় যে এদেশে ইসলামিক ব্যক্তিদের সাথে অবিচার করা হয়। এটা অপপ্রচার। এর মাধ্যমে ধর্মীয় বিভেদ সৃষ্টির পাঁয়তারা করে একটি গোষ্ঠী। আমি আপনাদের কথা দিতে চাই, যে কোনো অন্যায়ের বিপক্ষে রুখে দাঁড়ানোর জন্য আমি সব সময় প্রস্তুত থাকি। আপনারা যদি আমায় ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেন, আমি কাজের মধ্য দিয়ে কথার প্রমাণ দেব।  নাছিম বলেন, বঙ্গবন্ধু ইসলামিক ফাউন্ডেশন গড়েছেন। আজকে বাংলাদেশে সেই ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মধ্য দিয়ে সারাদেশে মসজিদ, ইসলামিক কালচারাল সেন্টার করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। ইসলামের প্রতি তার যে অনুরাগ, তা আমি আর বলতে চাই না। আপনারা এ সম্পর্কে যথেষ্ট ভালো জানেন। ইসলামে যেমন জঙ্গিবাদ ও সহিংসতার সুযোগ নেই, তেমনি ইসলামকে ব্যবহার করে যারা রাজনৈতিক ফায়দা লুটার অপচেষ্টা করে সেটিরও সুযোগ নেই। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে আমি বলতে চাই, যারা অপপ্রচার ও সংঘাতের রাজনীতি করে, মিথ্যাচার করে এদের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন হতে হবে।  বাহাউদ্দিন নাছিম সকাল ১০টায় পল্টন কমিউনিটি সেন্টারে ইমাম, মোয়াজ্জিন ও আলেম ওলামাদের সাথে মতবিনিময় সভার মাধ্যমে তার কার্যক্রম শুরু করেন। পরে ১৩ নং ওয়ার্ড নয়া পল্টন, পল্টন সুপার মার্কেট এলাকায় মতবিনিময় সভা, ২০ নং ওয়ার্ডের পি ডব্লিউ ডি, স্টাফ কোয়ার্টার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় গণসংযোগ, বিকালে শাহাজানপুর মৈত্রী মাঠে নির্বাচনী জনসভা ও শান্তিনগর প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে নোয়াখালী এসোসিয়েশন এর সাথে মতবিনিময় সভা করেন।
০২ জানুয়ারি, ২০২৪

চারজনকে জিম্মি করে টাকা দাবি সাবেক ছাত্রলীগ নেতার
‘আমার বোনটাকে আপনারা বাঁচান। তিন দিন ধইরা তার খাওন নাই, মাইরের ওপর মাইর চলছে।’ এমন একটি ভয়েস রেকর্ড কালবেলার হাতে এসেছে। রেকর্ডের সূত্র ধরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত তিন দিন ধরে চুরির অপবাদ দিয়ে একই পরিবারের চারজনকে নিজ বাসায় আটকে রেখেছেন আদাবর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রুবেল। বাসা নম্বর ৩৭/এ৫, আলিফ হাউজিং, পানির পাম্পসংলগ্ন, উত্তর আদাবর। আটক চারজন হলেন জয় (২২), তার স্ত্রী, জয়ের ছোট ভাই রিদয় (১২), মা জরিনা। তাদের আটক করে ৬ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করছেন সাবেক এই ছাত্রলীগ নেতা। টাকা না থাকায় গ্রামের জমি বিক্রি করে এনে টাকা দিতে বলেছেন তিনি। বিষয়টি থানা পুলিশকে জানানো হলেও গত তিন দিনে তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া কোনো উপায় না দেখে ৯৯৯-এ কল করেও মেলেনি জিম্মিদশা থেকে মুক্তি। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (গতকাল সোমবার সন্ধ্যা) তারা ওই বাড়িতেই আটকা রয়েছেন। জানতে চাইলে ওই ভুক্তভোগীর বোন হনুফা কালবেলাকে বলেন, আমার বোন, তার দুই ছেলে আর ছেলের বউকে তিন দিন ধরে আটক করে রেখেছেন রুবেল। আমার বোনকে এমনভাবে মেরেছে সে আর জীবনে চলাফেরা করে খেতে পারবে না। তার ১২ বছরের ছোট ছেলেটাকেও চুরির অপবাদ দিয়ে মেরেছে। আটক সবাইকে বেধড়ক মারধর করছে। আমাদের দুনিয়ায় কেউ নেই। আমার বোন আর তার ছেলেদের আপনারা বাঁচান। কেন আটক করছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ছোট ছেলে রিদয় ছাত্রলীগ নেতা রুবেলের বাসায় কাজ করত। ও নাকি চুরি করছে- তাই আটক করে মারধর করতেছে। ওরা ৬ লাখ টাকা দাবি করছে। আমার বোন বাসায় কাজ করে। এত টাকা কোথায় পাবে? এখন ওরা বলছে, গ্রামে জমি বিক্রি করে তাদের টাকা দিতে। ওরা আমার বাসায় এসেও তল্লাসি করে গেছে। কিছু পায়নি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত রোববার সন্ধ্যায় সেখানে যান তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার এএসআই মশিউর। তিনি সবকিছু দেখেও কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে রুবেলের সঙ্গে কথা বলে চলে আসেন। জানতে চাইলে এএসআই মশিউর কালবেলাকে বলেন, আসলে ভাই আমার বাসা ওখানে। আর রুবেল আমার পূর্বপরিচিত। আমি গত (রোববার) রাতে রুবেলের বাসায় যাই। ওখানে গিয়ে দেখি রুবেলের অফিসে অনেক লোকজন। ওখানে অনেক নারীও ছিল। পরে আমি ওখান থেকে চলে আসি। আমি তার সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো কথা বলিনি। মশিউরের সঙ্গে কথা বলার ১-২ মিনিট পরেই এই প্রতিবেদকের নম্বরে অভিযুক্ত রুবেল ফোন দেন; কিন্তু ফোনটি ধরার আগেই কেটে যায়। এরপর রুবেলকে ফোন দেওয়া হলে তিনি কালবেলাকে বলেন, ওরা আমার বাসায় চুরি করছে। আমার ৫ ভরি স্বর্ণ আর সাড়ে ৩ লাখ টাকা নিয়ে গেছে। চুরির কথা তারা স্বীকার করেছে। বিষয়টি আদাবর থানার ওসি জানে, আদাবর থানার দারোগারা জানে। তারা (ভুক্তভোগী) সময় নিয়েছে, তারা দেশে গেছে টাকা আনতে। তাদের আটকিয়ে রাখে কীভাবে? জানা গেছে, কোনো উপায় না দেখে ভুক্তভোগীর পরিবার গত রোববার জরুরি সহায়তা সেবা ৯৯৯-এ কল করে। কল পেয়ে সেখানে যান আদাবর থানার এসআই ময়নাল হক। তবে অভিযোগ রয়েছে, ময়নাল সেখানে গিয়ে ভুক্তভোগীদের উদ্ধার না করে বরং অভিযুক্ত রুবেলের সঙ্গে কথা বলে চলে আসেন। এ বিষয়ে জানতে গতকাল সন্ধ্যায় ময়নালকে ফোন দেওয়া হলে তিনি কোনো উত্তর না দিয়েই ফোন কেটে দেন। এরপর একাধিকবার কল এবং খুদেবার্তা পাঠিয়েও তার কোনো উত্তর মেলেনি। জানতে চাইলে আদাবর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাহাবুব রহমান কালবেলাকে বলেন, আমিও এ ম্যাসেজটি পেয়েছি। আমি এখনই ওখানে টিম পাঠাচ্ছি। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
১২ ডিসেম্বর, ২০২৩

চোর চক্রের হাতে জিম্মি বাইক্কা বিল
মৌলভীবাজারে শ্রীমঙ্গল উপজেলার হাইল হাওর অন্তর্গত বাইক্কা বিলে আবারও মাছ ও পাখি চোর চক্রদের হাতে জিম্মি বাইক্কা বিল। স্থায়ী মৎস্য অভয়াশ্রম বাইক্কা বিল থেকে মাছ চুরি করতে গিয়ে বড়গাঙ্গিনা সম্পদ ব্যবস্থাপনা সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীর বাধার সম্মুখীন হয়। এ কারণে প্রায় সময় মাছ  চোরদের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আহত হয়েছেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের অনেক সদস্য ও পাহারাদার। এ সমস্ত ঘটনায় থানায় মামলাও হয়। মামলার বেশিরভাগ ফাইল চাপা পড়ে গেছে। বর্তমানে মাছ চুরি ও পাখি শিকারের কারণে বাইক্কা বিল হুমকির মুখে পড়েছে। ২০০৩ সালে চাপড়া, মাগুড়া ও যাদুরিয়া বিলের ১০০ একর জলাভূমিতে বাইক্কা বিল নামে একটি স্থায়ী মাছের অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়। দুই যুগ বয়সী ১০০ হেক্টর জায়গার এই অভয়াশ্রমে বিল ভর্তি মাছ ও পাখি থাকার কথা থাকলেও স্থানীয়দের চোখে তেমন মাছ ধরা পড়ে না। সরকার এ পর্যন্ত জেলায় হারিয়েছে কোটি টাকার রাজস্ব।  তাদের মতে, অভয়াশ্রম মানেই তো নিরাপদ আশ্রয়। মাছেরা বিলে ইচ্ছেমত ঘুরবে, খাবে, পাখিরা খেলা করবে। কিন্তু বাইক্কায় হয়েছে তার উল্টোটা। বাইক্কা বিল অভয়াশ্রমটির জীববৈচিত্র্য ফিরে পাওয়া ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য শুরু থেকে সরকার বড়গাংগিনা সম্পদ ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করে। দেশীয় নানা জাতের ছোট বড় মাছ ও পাখির নিরাপদ আবাসস্থল এটি। বাইক্কা বিল যে মনিটরিং করতে যে পরিমাণ অর্থ লাগে ওই টাকা নাই আমাদের আয়ের উৎস বন্ধ করার ফলে। বাইক্কা বিল অনেক বড় এরিয়া, কিন্তু ৪ জন পাহারাদার এটা কন্ট্রোল করতে পারে না। বাইক্কা বিলের এত বড় এরিয়া মাত্র ৪ জন পাহারাদার। এই ৪ জন পাহারাদার দিয়ে বাইক্কা বিল মেইনটেইন করাটা কঠিন। তারপরও কন্ট্রোল করে, কিন্তু মাঝেমধ্যে এরাই বিলের ক্ষতি করে। এরাই প্রকৃত বাইক্কা বিলের শত্রু। এলাকাবাসী মসজিদের ইমাম মো. তৌইয়বুল ইসলাম বলেন,বাইক্কা বিলটা সারা বিশ্বের কাছে পরিচিত, কিন্তু এই বিলের মধ্যে চোর যে কীভাবে মাছ ও পাখি চুরি করে, আবার কীভাবে ছাড়া পায় আমরা এটাই বুঝতে পারছি না। স্থানীয় বাসিন্দা রুমেন আহমদ বলেন, মাছ ও পাখি চুরি হচ্ছে, এগুলা রোধে আমাদের পাহারাদার এবং আমাদের সংঘটনের লোকজন বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে, চোরদেরকে ধরা হচ্ছে, ধরার পর দেখা যাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা হওয়ার পর ও তারা কীভাবে প্রশাসনের হাত থেকে রক্ষা পায় সে বিষয়টি আমরা ধরতে পারি না। বাইক্কা বিলের গার্ড তানভির আহমদ বলেন, রাতে আমরা গার্ড চার জন থাকি। তারা তো ১৫/২০ জন আসে চুরি করতে। আমাদের হাতে তো কোনো ধরনের অস্ত্র নাই, কিন্তু তাদের হাতে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র থাকে। তাদের সাথে যদি আমরা মারামারি করি, তাহলে তাদের সাথে পারবো না। কিছুদিন আগে ওইখানে মাছ চুরি হইছিল, আমরা বাধা দিতে গেলে আমাদের মারপিট করে। পরে তাদের সাথে না পেরে সংঘটনে ফোন দিছি, পরে সংঘটনের লোকজন এসে আমাদের উদ্ধার করে। বাইক্কা বিল বড়গাংগিনা সম্পদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. মিন্নত আলী জানান, কিছু চোর আছে এরা পেশাদার জাগির, রোজেল, শাহআলম এরা অনেকেই আছেন যারা চুরি করে। এদের বিরুদ্ধে মামলা আছে, যদি প্রশাসনিক সহযোগিতা বেশি থাকে তাহলে চুরি রোধ করা সম্ভব। মামলা গুলো যদি একটু দ্রুত রেকর্ড করে আইনের আওতায় আনা হয় এবং সঠিকভাবে আ্যকশন নেওয়া হয় তাহলে এই চুরি  বন্ধ হয়ে যাবে। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল বাইক্কা বিলের বড়গাঙ্গিনা সম্পদ ব্যবস্থাপনা সংগঠন (আরএমও) সংগঠনের সভাপতি পিয়ার আলী বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আসছে, এই অভিযোগটা বাইক্কা বিলের মাছ চুরির সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে মামলা করতে গিয়ে তারা আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনছে। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। জাকির, জাহাঙ্গীর, আলমগীর তারা একি গোত্রের শাহআলম সহ তারা ছয় ভাই তাদের সাথে আরও কিছু লোক আছে তারা বাইক্কা বিলের কাছেই থাকে, এরাই সবসময় বাইক্কা বিলের মাছ চুরি করে। শ্রীমঙ্গল উপজেলা মৎস্য সিনিয়র অফিসার মো. ফারাজুল কবির বলেন, এটা হাতেনাতে কখনোই ধরা পড়ে নাই, আমরা বিভিন্ন সময় জাল ধরি, জালগুলোকে জব্দ করে পুড়িয়ে দেই। ওরা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে কাজ করে এই অভিযোগটা সত্য নয়। আমাদের জানামতে এই বিষয়ে একটা মামলা জজকোর্টে চলমান আছে এবং আমরা আরেকটি অভিযোগ দায়ের করি সাম্প্রতিক সময়ে ওটা থানার তদন্ত পর্যায়ে আছে। শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলী রাজিব মাহমুদ মিঠুন জানান, বাইক্কা বিলে সম্প্রতি মাছ ও পাখি চুরি ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এখন বিলে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে। যারা দোষি হবে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
০৫ ডিসেম্বর, ২০২৩
X