অর্ধেকে নেমে এসেছে মরিচ ও পেঁয়াজের দাম
বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় দুই সপ্তাহের ব্যবধানে বগুড়ার আদমদীঘিতে কাঁচা মরিচ ও পেঁয়াজের দাম অর্ধেকে নেমে এসেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় এই দুই পণ্যের দাম কমায় স্বস্তি ফিরে এসেছে ক্রেতাদের মাঝে। বুধবার (২৭ মার্চ) দুপুরে আদমদীঘি হাটে গিয়ে ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।  সরেজমিনে দেখা গেছে, দোকানে দোকানে ব্যবসায়ীরা সাজিয়ে রেখেছেন কাঁচা মরিচ ও পেঁয়াজ। গেল দুই সপ্তাহ আগে রোজার শুরুর দিকে দেশি কাঁচা মরিচ ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে সেই মরিচ খুচরা বাজারে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আড়তে পাইকারি ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। গত সপ্তাহে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায়। বর্তমানে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রয় হচ্ছে। আড়তে পাইকারি প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। হাটে বাজার করতে আসা ব্যাংক কর্মকর্তা ফিরোজ হোসেন বলেন, ‘রমজানের শুরুর দিকে ৮০ টাকা কেজি কাঁচা মরিচ ও ১০০ টাকা দরে পেঁয়াজ কিনেছিলাম। আজকে বাজার করতে এসে দেখি কাঁচা মরিচ ও পেঁয়াজের দাম অর্ধেকে নেমে এসেছে। পণ্য দুটির দাম কমায় সবার জন্য ভালো হলো।’ খাবার হোটেলের মালিক এমরান বলেন, ‘আমার খাবারের হোটেলে প্রতিদিন ছয় থেকে আট কেজি কাঁচা মরিচ ও পেঁয়াজ লাগে। মরিচ পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি হলেও আমরা খাবারের দাম বৃদ্ধি করতে পারি না। যার কারণে আমরা হোটেল ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়ে যাই। এখন দাম কমার কারণে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসবে।’ খুচরা কাঁচা মরিচ বিক্রেতা এরশাদ আলী বলেন, ‘আমরা আড়তে কম দামে কিনতে পারলে কম দামেই খুচরা বিক্রি করি। নওগাঁ আড়ত থেকে পাইকারি ১২০০ টাকা মণ কাঁচা মরিচ কিনেছি। ভালো মানের পেঁয়াজ কিনেছি ১৪০০ টাকা মণ। যার কারণে কাচাঁ মরিচ ও পেঁয়াজ কম দামে বিক্রি করতে পারছি।’
২৮ মার্চ, ২০২৪

রপ্তানি বন্ধের খবরে হিলিতে বাড়ল পেঁয়াজের দাম
ভারত সরকারের অনির্দিষ্টকালের জন্য রপ্তানি বন্ধ ঘোষণায় দিনাজপুরের হিলিতে কেজিপ্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। এতে বিপাকে পড়েছেন ক্রেতা সাধারণ। মঙ্গলবার (২৬ মার্চ) সরেজমিনে হিলি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি দোকানেই দেশি পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। আগে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকা বিক্রি হলেও আজ তা প্রকারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা দরে। হিলি বাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা রানা হোসেন বলেন, দুদিন আগে পেঁয়াজ কম দামে কিনেছিলাম, আজ কেজিপ্রতি ১০ টাকা বাড়তি। দাম বাড়তির কারণে কম করে পেঁয়াজ কিনেছি। হিলি বাজারের পেঁয়াজ বিক্রেতা তাহের উদ্দিন বলেন, ভারত থেকে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করার খবরে দেশি পেঁয়াজের দাম বাড়তির দিকে। আগে কম দামে পেঁয়াজ কিনে কম দামে বিক্রি করছিলাম। এখন মোকামে পেঁয়াজের দাম বেশি, যার কারণে বেশি দামে কিনে বেশি দামেই বিক্রি করছি।
২৬ মার্চ, ২০২৪

বাজারে কমেছে পেঁয়াজের দাম
দেশের মোট উৎপাদনের ১৪ শতাংশ পেঁয়াজ উৎপাদিত হয় রাজবাড়ীতে। আর মসলাজাতীয় ফসল উৎপাদনে বিখ্যাত এলাকা হিসেবে পরিচিত বালিয়াকান্দি উপজেলা। এ উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে চলতি মওসুমে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। ফলনের সঙ্গে বাজারে বিক্রিমূল্য ভালো পেয়ে এ বছর বেশ খুশি কৃষকরা। মৌসুমের প্রথম দিকে কেজিপ্রতি ৮০-৯০ টাকা পেলেও এখন গুণগত মাণ ভেদে ৪৫-৫০ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন তারা। বেশি দামের আশায় ইতোমধ্যে অপরিপক্ব পেঁয়াজ উঠিয়ে কেউ কেউ বাজারে তুলছেন। এখন হালি পেঁয়াজ উঠাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। সোমবার (২৪ মার্চ) সকালে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বিভিন্ন মাঠে গিয়ে দেখা যায়, হালি পেঁয়াজ তোলায় ব্যস্ত কৃষকেরা। এ উপজেলায় মুড়িকাটা ও হালি পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। ১৫ দিন আগেই মুড়িকাটা পেঁয়াজ তোলা শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে হালি পেঁয়াজ তুলছেন কৃষকেরা। বাজারগুলোতে উঠতে শুরু করেছে দেশি নতুন পেঁয়াজ। ফলে পেঁয়াজের দামও কমতে শুরু করেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্যটির দাম কমায় খুশি ক্রেতারা।  উপজেলার জঙ্গল ইউনিয়নের অলংকাপুর গ্রামের কৃষক মো. লিটন মোল্লা জানান, এ বছর তিনি আড়াই পাকি জমিতে উচ্চ ফলনশীল লাল তীর কিং জাতের পেঁয়াজের চাষ করছেন। স্থানীয় কৃষি বিভাগ পেঁয়াজ চাষে তাকে নানা পরমর্শ দিয়ে সহযোগিতা করায় ভালো ফলন পাবেন বলে আশা করছেন। চাষকৃত জমি থেকে প্রায় ৮০ মনের অধিক পেঁয়াজ পাবেন বলে আশা করছেন তিনি।
২৪ মার্চ, ২০২৪

পেঁয়াজের দাম কমে ৪৫-৫০ টাকায় বিক্রি
এক সপ্তাহ আগে ঢাকার খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায়। তিন দিন আগেও বিক্রি হয়েছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। সেই পেঁয়াজের দাম নেমে এসেছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়। সপ্তাহের ব্যবধানে দেশের পেঁয়াজের বাজারে বড় দরপতন দেখা গেছে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর মালিবাগ, মগবাজার, কারওয়ান বাজার ও শ্যামবাজারের বিভিন্ন ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, হালি পেঁয়াজের মৌসুম শুরু হওয়ায় পেঁয়াজের সরবরাহ বেড়েছে। ফলে দাম কমে পাইকারি বাজারে মানভেদে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকার মধ্যে। খুচরা বাজারে এই পেঁয়াজের দাম পড়ছে ৪৬ থেকে ৫০ টাকায়। দরদাম করে নিলে আরও কিছুটা কমে মিলছে পেঁয়াজ। মোকামগুলোতে সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় দাম কমেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ভারত থেকে আমদানি শুরু হলে ২০ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি হবে বলে আশা করছেন তারা। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, হঠাৎ সরবরাহ বৃদ্ধির ফলে দাম কমায় কেজি প্রতি ২০ থেকে ২৫ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের। কারওয়ান বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, ভারত থেকে পেঁয়াজ আসবে শুনে কৃষকরা দ্রুত হালি পেঁয়াজ উঠিয়ে বিক্রি করতে শুরু করেছেন। এর ফলেই বাজারে সরবরাহ বেড়েছে এবং পেঁয়াজের দামও কমে এসেছে। দেশের বৃহত্তম পেঁয়াজ উৎপাদনের এলাকা হিসেবে খ্যাত পাবনার সুজানগর ও সাঁথিয়া উপজেলা। চলতি সপ্তাহে এই দুই উপজেলায় পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দামে ব্যাপক পতন দেখা গেছে। সপ্তাহখানেকের ব্যবধানে সেখানে পেঁয়াজের দাম রীতিমতো অর্ধেক হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন সেখানকার ব্যবসায়ীরা। স্থানীয় কৃষক ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, পবিত্র রমজান মাসে বেশি দামে বিক্রির আশায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পেঁয়াজ মজুত করেছিলেন। সেই পেঁয়াজ এখন বাজারে এসেছে। আবার কৃষকরাও নতুন পেঁয়াজ বাজারে বিক্রির জন্য তুলতে শুরু করেছেন। ফলে বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় পেঁয়াজের দামে এই পতন ঘটেছে। দেশে যত পেঁয়াজের উৎপাদন হয়, তার বেশিরভাগই হালি পেঁয়াজ। সাধারণত মার্চের শেষের দিকে এই জাতের পেঁয়াজ বাজারে উঠতে শুরু করে। এর আগে দেশে উৎপাদিত আরেক ধরনের পেঁয়াজ বাজারে আসে, যা পরিচিত মুড়িকাটা পেঁয়াজ নামে। এটি অল্প সময় বাজারে থাকে এবং এর উৎপাদনও হয় অল্প পরিমাণে। রোজায় সাধারণত পেঁয়াজের চাহিদা বাড়ে। এবারের রোজার ঠিক আগে বাজারে মুড়িকাটা পেঁয়াজের সরবরাহ কম থাকায় দাম বাড়তির দিকে ছিল। তবে সময়মতো বাজারে হালি পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়তে থাকায় এখন দাম দ্রুত কমে যাবে বলে মনে করছেন পেঁয়াজ ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। রাজধানীর শ্যামবাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী ও আমদানিকারক নারায়ণ সাহা বলেন, হালি পেঁয়াজ সময়মতো বাজারে এসেছে। তাতে বাজারে দামের ক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়েছে। তবে কৃষককে সুরক্ষা দিতে এখন পেঁয়াজ আমদানির আর প্রয়োজন নেই। এখন পেঁয়াজ সংরক্ষণে জোর দিতে হবে। বাজারে আসা হালি পেঁয়াজ ঠিকমতো সংরক্ষণ করা গেলে বছরের বাকি সময়েও তা বাজার স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করবে।
২০ মার্চ, ২০২৪

পেঁয়াজের দাম আরও বাড়ল
পেঁয়াজের দাম আরও বেড়েছে। প্রতি কেজি ৩০ টাকা বেড়ে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অপরদিকে কাঁচা মরিচ প্রকারভেদে ২৮ থেকে ৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। রোববার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকালে সবজি বাজার ঘুরে দেখা যায়, পাইকারি এবং খুচরা দোকানে কাঁচা মরিচ ও পেঁয়াজের সরবরাহ গত শুক্রবার ও শনিবার দুই দিনের তুলনায় বেশি। তবে সরবরাহ কম এবং মোকামে দাম বেশি, এমন কথা বলে পাইকার ব্যবসায়ীরা বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন। খুচরা ব্যবসায়ীদের প্রতি কেজি দেশি জাতের পেঁয়াজ প্রকারভেদে ১১০ থেকে ১১৫ টাকা কেজি দরে কিনতে হচ্ছে। অপরদিকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ প্রকারভেদে ২৮ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন।  কয়েকজন পাইকারি ব্যবসায়ী বলেন, গত বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে প্রতি কেজি দেশি জাতের পেঁয়াজ প্রকারভেদে ৮৮ থেকে ৯০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ২৮ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করে সরবরাহ কমে যাওয়াসহ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ফুলবাড়ীসহ আশপাশের উপজেলার হাটবাজারে পেঁয়াজের দামের প্রভাব পড়েছে। গত শুক্রবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার পর থেকে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ১০৫ টাকা এবং খুচরা বাজারে ১১০ টাকা এবং শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) থেকে আজ রোববারও (১১ ফেব্রুয়ারি) প্রতি কেজি পেঁয়াজ ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর গত সপ্তাহ থেকে পাইকারি বাজারে কাঁচা মরিচ প্রকারভেদে প্রতি কেজি ২৮ থেকে ৩০ টাকা এবং খুচরা বাজারে প্রকারভেদে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।  ফুলবাড়ী পৌর বাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা পূর্ব কাঁটাবাড়ী গ্রামের বুলু শীল বলেন, এক কেজি পেঁয়াজ কিনতে এসেছিলেন। দোকানে এসে শুনলাম দাম ১২০ টাকায় উঠেছে। কী আর করা আধা কেজি পেঁয়াজ কিনে বাড়ি ফিরছি। ফুলবাড়ী বাজারের কাঁচা মরিচের পাইকারি ব্যবসায়ী অজয় দত্ত বলেন, কৃষকের মরিচের উৎপাদন বেড়েছে। এতে বাজারে কাঁচা মরিচের সরবরাহ বেড়েছে। একই সঙ্গে পঞ্চগড়, খানসামা, জয়পুরহাটের অক্কেলপুর, পাঁচবিবিসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে কাঁচা মরিচ পাইকারি বাজারে আসছে। এতে কাঁচা মরিচের দাম কমে এসেছে।  পেঁয়াজের পাইকারি ব্যবসায়ী মিহির প্রামাণিক বলেন, পেঁয়াজের বাজার নিয়ে চট্টগ্রাম মোকাম থেকে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। মোকাম থেকে পাইকারি মূল্য নির্ধারণ করা হচ্ছে।  পেঁয়াজের আরেক পাইকারি ব্যবসায়ী দীপক কুমার বলেন, আগাম পেঁয়াজ শেষের দিকে এবং সরবরাহ কম থাকাসহ ঢাকা ও চট্টগ্রাম পেঁয়াজের মোকামে পাইকারি মূল্য বেড়েছে। নতুন পেঁয়াজ বাজারে ওঠার পাশাপাশি ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হলে পেঁয়াজের দাম কমে আসবে।  উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মাদ আবু জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, পেঁয়াজের বাজারের অস্থিরতা কাটাতে নিয়মিতভাবে বাজার মনিটরিংসহ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।
১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

এক ঘণ্টার ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম বাড়ল ২৫ টাকা
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে এক ঘণ্টার ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম বাড়ল প্রকারভেদে কেজিতে ২০ থেকে ২৫ টাকা। খুচরা পেঁয়াজ ব্যবসায়িদের দাবি, সিন্ডিকেট করে স্থানীয় পেঁয়াজের পাইকার ব্যবসায়ীরা এ দাম বাড়িয়েছেন। উপজেলার বাজারে ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজির পেঁয়াজ বর্তমানে ১০০ থেকে ১০৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। শুক্রবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০ টায় ফুলবাড়ী পৌর এলাকার পেঁয়াজের খুচরা ও পাইকারী বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরা ও পাইকারী বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ প্রকারভেদে ১০০ থেকে ১০৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন ব্যবসায়িরা। খুচরা পেঁয়াজ ব্যবসায়ী হারুন উর রশীদ বলেন, আজ সকাল ৭টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত পেঁয়াজের পাইকারী বাজারে প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে প্রকারভেদে ৮৭ থেকে ৯০ টাকা। আর খুচরা বাজারে ওই পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৯০ থেকে ৯৫ টাকা কেজি দরে। কিন্তু সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কোনো প্রকার কারণ ছাড়াই পাইকারী ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে প্রকারভেদে ১০৫ টাকা কেজি দরে খুচরা বিক্রি করতে শুরু করেন। এদিকে বাজারে অভিযান চালানোর কথাও শোনা যাচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর মো. আল কামাহ তমাল বলেন, পেঁয়াজের দাম কি কারণে বাড়লো তা আজই (শুক্রবার ৯ ফেব্রুয়ারি) বাজারে ভ্রাম্যমান অভিযান চালিয়ে খতিয়ে দেখা হবে। পেঁয়াজ কিনতে আসা হিরেন্দ্র নাথ বর্মন বলেন, গত শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) দেশি পেঁয়াজ ৭০ টাকা কেজি দরে তিন কেজি পেঁয়াজ কিনেছিলেন। কিন্তু আজ শুক্রবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বাজারে এসে দেখছেন একই দেশি পেঁয়াজের প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১০৫ টাকা। এ জন্য এক কেজি পেঁয়াজ কিনতে বাধ্য হয়েছেন।  হোটেল ব্যবসায়ি উজ্জ্বল মহন্ত বলেন, গত বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ও গত বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) প্রতিকেজি পেঁয়াজ কিনেছেন ৮০ থেকে ৮২ টাকা কেজি দরে। কিন্তু আজ শুক্রবার (৯ ফেব্রুয়ারি) একই পেঁয়াজের দাম বেড়ে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১০৫ টাকা কেজি দরে। এ জন্য হোটেলের জন্য প্রয়োজন ১০ কেজি পেঁয়াজ কিন্তু দাম বৃদ্ধি পাওয়া ৭ কেজি পেঁয়াজ কিনেছেন। কম বেশি করে এতেই চালিয়ে নেবেন তার ব্যবসা।  এদিকে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা হতে পারে এমন খবরে পাইকারী বাজারের ব্যবসায়ীদের বেশির ভাগই তাদের দোকান বন্ধ করে দেন। আবার অনেকে আরো দাম বাড়বে এমন আশঙ্কায় পেঁয়াজ বিক্রি না করে দোকানে মজুত করে রেখে দিয়ে দোকান বন্ধ করে দিয়েছেন।  এ ব্যাপারে পাইকারী পেঁয়াজ ব্যবসায়ী দীপক কুমার বলেন, সকালে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মোকাম থেকে জানানো হয় মোকামে প্রতি মণ দেশি পেঁয়াজ ৪ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ জন্য মোকাম থেকে বলা হয় খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ১১০ টাকায় বিক্রি করতে। কিন্তু তারা সেটি না করে ৫ টাকা কমিয়ে ১০৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন।  তিনি আরও বলেন, যেহেতু এলসির পেঁয়াজ নেই, সেজন্য দেশি পেঁয়াজের ওপর চাপ পড়েছে। তা ছাড়া দেশি পেঁয়াজ শেষের দিকে থাকায় দাম বাড়ছে। নতুন পেঁয়াজ উঠলে দাম কমে আসবে। এ ছাড়া ভারত থেকে এলসিতে পেঁয়াজ আমদানি হলেও পেঁয়াজের দাম কমবে। 
০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

পাইকারি পেঁয়াজের দাম অর্ধেক, খুচরায় প্রতারণা
পাবনা, নাটোর ও ফরিদপুর অঞ্চল থেকে সরবরাহ বাড়ায় এক দিনের ব্যবধানে গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম অর্ধেকে নেমেছে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, গতকাল তারা প্রতি কেজি দেশি (পুরোনো) পেঁয়াজ বিক্রি করেছেন সর্বোচ্চ ১০০ টাকা এবং মুড়িকাটা ও আমদানি পেঁয়াজের কেজি ৮০ থেকে ৯০ টাকা। এর আগে একই মানের পেঁয়াজের কেজি ছিল ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা। তবে পাইকারি বাজারে দাম কমলেও খুচরায় এর সুফল পাচ্ছেন না ভোক্তারা। মানভেদে ১৮০ থেকে ২৩০ টাকা কেজি দরে পণ্যটি কিনতে হচ্ছে। পাইকারিতে দাম কমলেও নতুন কৌশলে খুচরা ব্যবসায়ীরা ভোক্তার সঙ্গে প্রতারণা করছেন। দোকানিরা বলছেন, বেশি দামে কেনা! আগের মাল! যেজন্য দাম কমানো যাচ্ছে না। অন্যদিকে দেশজুড়ে যখন পেঁয়াজের আলোচনা তুঙ্গে, আর এই সুযোগে অতিপ্রয়োজনীয় আরেকটি নিত্যপণ্য আলুর দাম বেড়েছে। মানভেদে নতুন ও পুরোনো আলুর কেজি ৫০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক্ষেত্রে নতুন আলুর দাম কমলেও উল্টো বাড়ছে পুরোনো আলুর। নতুন আলুর কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যা সপ্তাহখানেক আগে ৮০ থেকে ১২০ টাকা ছিল। আর গত সপ্তাহে মানভেদে পুরোনো আলু ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও গতকাল বিক্রি হয়েছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে নতুন আলু এলেও পুরোনো আলুর চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম। যেজন্য দাম বেড়েছে। যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু কালবেলাকে বলেন, আমাদের ধারণা ছিল ডিসেম্বরে নতুন আলু বাজারে এলে দাম কমবে। এ ক্ষেত্রে আমাদের ধারণার তুলনায় কম আলু উঠছে। এ ছাড়া হিমাগারে মজুত আলু শেষের দিকে। এখন যা মজুত আছে তা দিয়ে আগামী সপ্তাহ বা দশ দিনের চাহিদা মেটানো যেতে পারে। ফলে উৎপাদন ও সরবরাহ কম থাকায় বাজারে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। এদিকে পেঁয়াজের বাজার পরিস্থিতির বিষয়ে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ হামিদুল্লা মার্কেট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. ইদ্রিস কালবেলাকে জানান, গত তিন দিনে পেঁয়াজের বাজারে যে অস্থিরতা ছিল, গতকাল থেকে তা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। বাজারটিতে আমদানি পেঁয়াজের সরবরাহ কম থাকলেও নতুন দেশি বা মুড়িকাটা পেঁয়াজের সরবরাহ বেড়েছে। নতুন পেঁয়াজ ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছেন তিনি। এ ছাড়া দু-এক দিনের মধ্যে বাজার আরও কমতে পারে বলে তিনি জানিয়েছন। ঢাকার শ্যামবাজার কৃষিপণ্য আড়ত বণিক সমিতির সভাপতি হাজী মো. সাঈদ কালবেলাকে বলেছেন, বাজারে এলসি (আমদানি) পেঁয়াজ নেই বললেই চলে। এখন সব দেশি (নতুন মুড়িকাটা ও আগের) পেঁয়াজ। মানভেদে মুড়িকাটা পেঁয়াজের কেজি ৬৫ থেকে ৮০ টাকা। আমদানি ও পুরোনো (দেশি) পেঁয়াজ ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম কমার তথ্য পেয়ে খুচরা বাজারে এর প্রভাব যাচাই করতে গিয়ে দেখা গেছে, ভিন্ন চিত্র। রাজধানীর প্রতিটি মুদির দোকানে পর্যাপ্ত দেশি, আমদানি ও নতুন মুড়িকাটা পেঁয়াজ থাকলেও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি দেশি (পুরোনো) পেঁয়াজ ২১০ থেকে ২৩০ টাকা এবং মানভেদে আমদানি পেঁয়াজ ১৬০ থেকে ১৯০ টাকা, মুড়িকাটা পেঁয়াজের কেজি ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। বেশি দামে বিক্রির কারণ জানতে চাইলে দোকানিরা বলেন, পাইকারিতে পেঁয়াজের দাম কমলেও কম দামের পেঁয়াজ তাদের হাতে আসেনি। দোকানে আগের বেশি দামে কেনা পেঁয়াজ থাকায় কম দামে বিক্রি করতে পারছেন না। যদিও রাজধানীর শান্তিনগর, সেগুনবাগিচা, ফকিরাপুল, হাতিরপুল, নিউমার্কেট কাঁচাবাজারের বাইরের রাস্তায় পেঁয়াজবোঝাই রিকশা ও ভ্যানগাড়ি থেকে বস্তা নামাতে দেখা গেছে, যা শ্যামবাজার থেকে আনা হয়েছে।
১৩ ডিসেম্বর, ২০২৩

কমতে শুরু করেছে পেঁয়াজের দাম
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে কমতে শুরু করেছে পেঁয়াজের দাম। দুই দিনের ব্যবধানে প্রকারভেদে পেঁয়াজের দাম কমেছে ৪০-৫০ টাকা। মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) বিকেলে কালীগঞ্জে শিয়ালখোওয়া বাজারের পাইকারি পেঁয়াজের বাজার ঘুরে এমন চিত্রই দেখা যায়। বাজার ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে প্রতি কেজি নতুন পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকা এবং ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকা। এই একই বাজারে গত দুই দিন আগে প্রতি কেজি নতুন পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল ১৫০ টাকা ও ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল ২২০ টাকা দরে। পেঁয়াজের দাম কমার কারণ জানতে চাইলে মো. জমসের আলী নামের এক বিক্রেতা বলেন, বাজারে নতুন পেঁয়াজ আসতে শুরু করেছে। নতুন এই পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়ায় দাম কমতে শুরু করেছে। এ ছাড়া পেঁয়াজের দাম বাড়ায় ক্রেতারাও পেঁয়াজ কেনা কমিয়ে দিয়েছিলেন। পেঁয়াজ যেহেতু পচে যায়, বেশি দিন রাখা যায় না; সেটিও পেঁয়াজের দাম কমার একটি কারণ। পেঁয়াজের দাম কমায় ব্যবসায়ীদের লোকসান হচ্ছে বলেও জানান তিনি।   পেঁয়াজের দাম কমায় স্বস্তি প্রকাশ করলেও সন্তুষ্ট নন ক্রেতারা। তারা জানান, প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৩০-৪০ টাকা হলে ভালো হতো। বাজারে প্রতিটি জিনিসেরই দাম বেশি।  কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জহির ইমাম জানান, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পেঁয়াজের দাম বাড়িয়েছে। যখন ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করল তখন কোনো লেবার খরচ বাড়েনি। তারপরও অতি মুনাফার লোভে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এর দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। তাদের আমরা মনিটরিং করছি এবং আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
১২ ডিসেম্বর, ২০২৩
*/ ?>
X