দেশে নতুন ১১ জন করোনা শনাক্ত
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু হয়নি। এ পর্যন্ত দেশে করোনাভাইরাসে মোট মৃত্যু হয়েছে ২৯ হাজার ৪৭৭ জনের। এদিন নতুন করে শনাক্ত হয়েছে ১১ জন। সব মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৪৫ হাজার ৬৯৮ জন। বুধবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সারা দেশে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৮৮৫টি ল্যাবে ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে এক হাজার ছয়টি। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে এক কোটি ৫৫ লাখ ৭৮ হাজার ৪৩১টি। এতে বলা হয়, ঢাকা সিটিসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ও বাড়িতে উপসর্গবিহীন রোগীসহ গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩ জন সুস্থ হয়েছেন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ২০ লাখ ১৩ হাজার ৩১৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার এক দশমিক ০৯ শতাংশ। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ১৩ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯৮ দশমিক ৪২ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার এক দশমিক ৪৪ শতাংশ। এতে আরও জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় কেউ আইসোলেশনে আসেনি এবং আইসোলেশন থেকে তিনজন ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ পর্যন্ত মোট আইসোলেশনে এসেছেন চার লাখ ৫২ হাজার ৮০২ জন এবং আইসোলেশন থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন চার লাখ ২৩ হাজার ৫৬৭ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ২৯ হাজার ২৩৫ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে করোনা ভাইরাসের প্রথম রোগী শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল আরও ৪ জনের
দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যু ৮৭৯ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ১৫৩ জন। শুক্রবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ইনচার্জ মো. জাহিদুল ইসলামের সই করা ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া দুই হাজার ১৫৩ জনের মধ্যে ঢাকার বাসিন্দা ৬৬৭ জন। ঢাকার বাইরে ১৪৮৬ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া চারজনের মধ্যে ঢাকার বাসিন্দা একজন এবং ঢাকার বাইরের তিনজন। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন মোট ১ লাখ ৮১ হাজার ৮৫২ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার বাসিন্দা ৭৭ হাজার ২৮৯ জন। আর ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ চার হাজার ৫৬৩ জন। এখন পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে মোট ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ৭০ হাজার ৯০২ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার বাসিন্দা ৭৩ হাজার ৪১ জন এবং ঢাকার বাইরের ৯৭ হাজার ৮৬১ জন। এর আগে ২০২২ সালে ডেঙ্গুতে ২৮১ জন মারা যান। ওই বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে ডেঙ্গুতে ২৭ জনের মৃত্যু হয়। একই সঙ্গে আলোচ্য বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ৬২ হাজার ৩৮২ জন।
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

মহামারি প্রতিরোধে বৈশ্বিক সহযোগিতা কাঠামো গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
মহামারি প্রতিরোধের অংশ হিসেবে একটি বৈশ্বিক সহযোগিতা কাঠামো গড়ে তুলতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কভিড-১৯ মহামারি সবার জন্য একটি টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে হাজির হয়েছে। সারা বিশ্বে অনেককে হারিয়েছি। আমরা বুঝতে পেরেছি, মানুষের হস্তক্ষেপের জন্য প্রকৃতির নিজস্ব সীমা রয়েছে। বিশ্ব সংহতির অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতাও পেয়েছি। স্বীকার করেছি, সবাই নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত আমরা কেউই নিরাপদ নই। গতকাল বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে মহামারি প্রতিরোধ, প্রস্তুতি ও প্রতিক্রিয়া (পিপিপিআর) বিষয়ে ৭৮তম ইউএনজিএ উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের (সিভিএফ) থিমেটিক দূত সায়মা ওয়াজেদ। করোনার প্রথম দিকে ডব্লিউএইচওর সহায়তায় একটি জাতীয় প্রস্তুতি ও পরিস্থিতি মোকাবিলায় পরিকল্পনা গ্রহণের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা গরিবদের জন্য বিনামূল্যে ওষুধ ও পিপিই সরবরাহ নিশ্চিত করি। আইসিইউ শয্যাসংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি করি। শূন্য থেকে ৮৮৫টি কেন্দ্রে পরীক্ষাগার স্থাপন করা হয়। প্রায় সব হাসপাতালে অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়। এ সময় মহামারি প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রী পাঁচটি অগ্রাধিকার তুলে ধরেন। এগুলো হলো উন্নয়নশীল দেশগুলোতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে রেয়াতযোগ্য আন্তর্জাতিক অর্থায়ন, মহামারি নজরদারি, প্রতিরোধ, প্রস্তুতি ও বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতিতে মোকাবিলার জন্য সম্পদ ও দক্ষতা একত্রিত করা, সবার জন্য ভ্যাকসিনসহ মানসম্পন্ন, সাশ্রয়ী ও কার্যকর মহামারি পণ্যগুলোর ন্যায়সংগত ও অবাধ প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা, প্রযুক্তির প্রাপ্যতা ও বাস্তব জ্ঞানের মাধ্যমে মহামারি পণ্যগুলোর উৎপাদন বৈচিত্র্যকরণ এবং ডব্লিউএইচওর নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে প্রাপ্যতা ও সুবিধা ভাগ করে নেওয়ার জন্য একটি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা কাঠামো তৈরি করা। আন্তর্জাতিক অর্থ ব্যবস্থা পুনর্গঠনের দাবি: এদিকে গত মঙ্গলবার সাধারণ পরিষদের ৭৮তম অধিবেশনের ফাঁকে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে স্পেন এবং ইউরোপীয় কাউন্সিল আয়োজিত ‘টুওয়ার্ডস এ ফেয়ার ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সিয়াল আর্কিটেকচার’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের এক গোলটেবিল বৈঠকে চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক অর্থ ব্যবস্থা পুনর্গঠনের দাবি তুলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা বলেন, বৈশ্বিক ক্রেডিট রেটিং সিস্টেম পর্যালোচনার বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রস্তাবকে সমর্থন করি। কারণ, বর্তমান রেটিং সিস্টেম নিম্ন এবং মধ্যম আয়ের অনেক দেশের জন্য তহবিল সুবিধাকে আগের চেয়ে সীমাবদ্ধ করেছে। তিনি বলেন, দেশগুলোর ভোটাধিকার, কোটা এবং বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংক (এমডিবিএস) এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে (আইএফআইএস) প্রতিনিধিত্বের সীমা তাদের দর কষাকষির ক্ষমতাকেও ক্ষুণ্ন করে। বৈঠকে ‘একটি মৌলিক পরিবর্তন প্রয়োজন’ উল্লেখ করে জাতিসংঘের মহাসচিবের কাছে পাঁচ দফা প্রস্তাব করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রথম প্রস্তাবে তিনি বলেন, এমডিবি, আইএফআই এবং বেসরকারি ঋণদাতা সংস্থাগুলোকে অগ্রাধিকারগুলো ফের সাজাতে হবে এবং এসডিজি বাস্তবায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের সমস্যা মোকাবিলায় অতিরিক্ত তহবিল সংগ্রহ করতে হবে। দ্বিতীয় এবং তৃতীয় দফায় তিনি বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য স্বল্প ব্যয়ে, রেয়াতি হারে তহবিলের পর্যাপ্ততা প্রয়োজন এবং পছন্দমতো উচ্চমানের বিপুল পরিমাণে অনুদান এবং সব ঋণদান উপকরণে দুর্যোগের ধারা থাকতে হবে, যাতে দুর্বল দেশগুলো সংকটকালীন ধাক্কা সামাল দিতে পারে। চতুর্থ দফা সম্পর্কে বলেন, ঋণদাতাদের মধ্যে স্বচ্ছতা ও সমন্বয়ের ভিত্তিতে ন্যায্য এবং কার্যকর ঋণ হিসেবে ত্রাণ ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। পঞ্চম প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোটার পরিবর্তে এসডিআর ঋণের সীমা প্রয়োজন এবং সীমাবদ্ধতার ভিত্তিতে সহজ ঋণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হওয়া উচিত। ওই সভা আহ্বান করায় স্পেনের প্রধানমন্ত্রী ও ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতিকে ধন্যবাদ জানান শেখ হাসিনা। এ সময় সিভিএফের থিমেটিক দূত সায়মা ওয়াজেদ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন ছিলেন। বাইডেনের নৈশভোজে অংশগ্রহণ: পরে প্রধানমন্ত্রী মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে আগত রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সম্মানে সন্ধ্যায় মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম অব আর্টে এক নৈশভোজের আয়োজন করেন বাইডেন। ব্রাউন ইউনিভার্সিটির বিশেষ সম্মাননা: এদিন ব্রাউন ইউনিভার্সিটি থেকে দেওয়া বিশেষ সম্মাননা গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী। জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কমিউনিটি ক্লিনিক মডেল তৈরির জন্য জাতিসংঘ স্বীকৃতি দেওয়ায় শেখ হাসিনাকে এ বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়। ব্রাউন ইউনিভার্সিটির স্বাস্থ্যবিষয়ক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ওয়ারেন অ্যালপার্ট মেডিকেল স্কুলের মেডিসিন অ্যান্ড বায়োলজিক্যাল সায়েন্সের ডিন ডা. মুকেশ কে. জৈন প্রধানমন্ত্রীর অবস্থানস্থল দ্য লোটে নিউইয়র্ক হোটেলে গিয়ে প্রশংসাপত্রটি তার হাতে হস্তান্তর করেন।
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৩
*/ ?>
X