অর্ধেকে নেমেছে জিডিপি প্রবৃদ্ধি
বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় শিল্প ও সেবা খাতে উৎপাদন কমে যাওয়ায় অর্ধেকে নেমে এসেছে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হালনাগাদ প্রতিবেদনে এমন চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর) জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ৭৮ শতাংশ হারে। অথচ ২০২২-২৩ অর্থবছরে একই সময়ে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৭ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ। তারও আগে ২০২১-২২ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে এই হার ছিল ৯.৩০ শতাংশ। এমনকি চলতি (২০২৩-২৪) অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৬ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রবৃদ্ধির হার কমেছে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। আর তিন মাসে কমেছে ২ দশমিক ২৩ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে (২০২৩-২৪) সরকার জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। বাস্তবে প্রবৃদ্ধির হার এর ধারেকাছেও নেই। এ বিষয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, ‘সরকার জিডিপি প্রবৃদ্ধির যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, তা কোনোভাবেই অর্জিত হবে না। কারণ একদিকে আমদানি ব্যয় কমছে, অন্যদিকে বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা কমে যাচ্ছে। বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার মানেই হচ্ছে বিনিয়োগ কমে যাওয়া। আর বিনিয়োগ কমে গেলে উৎপাদন এবং কর্মসংস্থান কমে যাবে। ফলে জিডিপি প্রবৃদ্ধির কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না।’ বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর কালবেলাকে বলেন, ‘এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। কারণ এই সময়ে অর্থনীতিতে এক ধরনের অস্থিরতা দেখা গেছে। এরই প্রভাব পড়েছে জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে।’ তিনি বলেন, ‘শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি কমার মূল কারণ হচ্ছে ডলার সংকটের কারণে আমাদের আমদানি ব্যয় কমাতে হয়েছে। এর ফলে একদিকে উৎপাদন কমে গেছে, অন্যদিকে রপ্তানি আদেশও কমে গেছে। এ ছাড়া আমদানি কম হওয়ায় সেবা খাতও ব্যাহত হয়েছে। বর্তমান সামষ্টিক অর্থনীতিতে যে এক ধরনের অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে, সেখান থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। এটা করতে না পারলে নানামুখী সমস্যা বাড়বে। তবে ডলার সংকট কেটে গেলে হয়তো আগামীতে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে।’ বিবিএসের প্রকাশিত জিডিপির হিসাবে দেখা যায়, দেশের কৃষিতে উৎপাদন বাড়লেও শিল্প ও সেবা খাতে উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। একইভাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের তুলনায়, দ্বিতীয় প্রান্তিকে শিল্প ও সেবার সব খাতে প্রবৃদ্ধি কমেছে। শুধু কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। কৃষিতে প্রবৃদ্ধি বাড়লেও হতাশার চিত্র শিল্প ও সেবায়। চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কৃষিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪.৬৫ শতাংশ, যা প্রথম প্রান্তিকে ছিল ১.০৪ শতাংশ। প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি ৯.৬৩ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ৩.২৪ শতাংশ এবং সেবা খাতে ৩.৭৩ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ৩.০৬ শতাংশ। এদিকে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় শিল্প ও সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি ব্যাপক হারে কমেছে, আর কৃষিতে বেড়েছে। বিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪.৬৫ শতাংশ, যা ২০২২-২৩ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ছিল ৪.২২ শতাংশ, এবং ২০২১-২২ অর্থবছরের একই প্রান্তিকে তা ছিল ২.২০ শতাংশ। অন্যদিকে, চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩.২৪ শতাংশ, যা ২০২২-২৩ অর্থবছরের একই প্রান্তিকে ছিল ১০ শতাংশ, এবং ২০২১-২২ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ছিল ১৪.৫০ শতাংশ। সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩.০৬ শতাংশ, যা ২০২২-২৩ অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৬.৬২ শতাংশ, এবং ২০২১-২২ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে হয়েছিল ৭.২৫ শতাংশ।
১৬ এপ্রিল, ২০২৪

জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমার পূর্বাভাস বিশ্বব্যাংকের
চলতি অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি কমার পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি বলছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি হবে ৫.৬ শতাংশ, যা গত অর্থবছরের চেয়ে দশমিক ২ শতাংশ কম। ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ছিল ৫.৮ শতাংশ। তবে, আগামী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি সামান্য বাড়তে পারে বলেও জানায় সংস্থাটি। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিশ্বব্যাংক কার্যালয়ে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। বিশ্বব্যাংকে বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদৌলায়ে সেক প্রতিবেদনের বিস্তারিত তুলে ধরেন। সেখানে বলা হয়, করোনার পর বাংলাদেশের অর্থনীতিতে শক্তিশালী পরিবর্তন এসেছে। যেখানে মহামারি-পরবর্তী ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি, আর্থিক খাতের দুর্বলতা, বৈশ্বিক চাপ ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে ঝুঁকিতে পুরো দক্ষিণ এশিয়া। বিশ্বব্যাংকের হিসাব মতে, ২০২১-২২ অর্থবছরে ছিল ৭ দশমিক ১ শতাংশ। অর্থাৎ এরপর টানা দুবার প্রবৃদ্ধির হার ৬ শতাংশের নিচে নামতে যাচ্ছে। তবে আগামী অর্থবছর জিডিপি প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৫ দশমিক ৭ শতাংশে উন্নীত হতে পারে। বাংলাদেশের টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে অর্থনৈতিক সংস্কার জরুরি বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির মতে, ব্যাংক একীভূতকরণের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক থাকা দরকার। সম্পদের মান ও সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে তা করা উচিত। এ ছাড়া মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মুদ্রানীতির রাশ আরও টেনে ধরা দরকার। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে আর্থিক সংস্কার ও মুদ্রার একক বিনিময় হার ব্যবস্থা প্রবর্তন জরুরি। মুদ্রার বিনিময় হারে অধিকতর নমনীয়তা বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য পুনরুদ্ধারে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। বিশ্বব্যাংক বলেছে, ধারাবাহিক উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। তারল্যের রাশ টেনে ধরা, ক্রমবর্ধমান সুদের হার, আমদানি বিধিনিষেধ ও জ্বালানির দাম বাড়ায় কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিনিয়োগ ব্যাহত হয়েছে। ফলে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি আরও মন্থর ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের উচ্চ হারসহ দুর্বল নিয়ন্ত্রণের কারণে ব্যাংকিং খাত চাপের মুখে পড়েছে। আবদৌলায়ে সেক বলেন, বাংলাদেশের শক্তিশালী সামষ্টিক অর্থনৈতিক মৌলিক বিষয়গুলো অতীতের অনেক চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করেছে। দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও তথ্য দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে। বলা হয়েছে, বছর শেষে দক্ষিণ এশিয়ার প্রবৃদ্ধি দাঁড়াবে ৬ শতাংশে। এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে ভারত। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকবে বাংলাদেশ, প্রবৃদ্ধি হবে ৫.৬ শতাংশ। এরপর ভুটান ৪.৯ শতাংশ, মালদ্বীপ ৪.৭ শতাংশ, নেপাল ৩.৩ শতাংশ, শ্রীলঙ্কা ২.২ শতাংশ এবং পাকিস্তান ১.৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। আর আগামী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতের প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে আসবে। তবে, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়াই একমাত্র অঞ্চল, যেখানে কর্মরত পুরুষের হার গত দুই দশকে কমেছে এবং কর্মজীবী নারী সবচেয়ে কম। বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়ার প্রধান অর্থনীতিবিদ ফ্রানজিস্কা ওনসর্গ জানান, এ অঞ্চলটি জনশক্তিকে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্টিন রাইসার জানান, দক্ষিণ এশিয়ার প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা স্বল্পমেয়াদে উজ্জ্বল থাকবে। কিন্তু ভঙ্গুর আর্থিক অবস্থান এবং ক্রমবর্ধমান জলবায়ু ধাক্কায় কালো মেঘ থাকবে। এজন্য প্রবৃদ্ধি আরও বাড়াতে কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে। এই অঞ্চলের দেশগুলোকে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর নীতি গ্রহণ করতে হবে।
০৩ এপ্রিল, ২০২৪

জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬% মূল্যস্ফীতি ৭.৯
চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির প্রবৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতির সরকার নির্ধারিত কোনো লক্ষ্যমাত্রাই অর্জিত হবে না বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটির দাবি, অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৬ শতাংশ। আর মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়াতে পারে ৭ দশমিক ৯ শতাংশ। এ সময়ে চলতি হিসাবের ঘাটতিও কিছুটা বাড়তে পারে। এটি গত অর্থবছরের তুলনায় জিডিপির শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ থেকে বেড়ে শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ হতে পারে। গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত আইএমএফের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পূর্বাভাস প্রতিবেদনে এমন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটে সরকার প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা ৭ দশমিক ৫ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতির হার ৬ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। ফলে সরকার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে আইএমএফসহ এরই মধ্যে প্রকাশিত অন্যান্য উন্নয়ন সংস্থার পূর্বাভাসের বড় ধরনের পার্থক্য তৈরি হয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) জানিয়েছিল, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক বলেছে, জিডিপির প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। এদিকে আইএমএফের পূর্বাভাসে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৮ সালে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার বেড়ে ৭ শতাংশে উন্নীত হবে এবং মূল্যস্ফীতির হার নেমে ৫ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়াতে পারে। প্রতিবেদনে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বলা হয়, মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিজনিত সংকট থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে বিশ্ব অর্থনীতি। যুদ্ধের কারণে খাদ্য ও জ্বালানি বাজার বিঘ্নিত হয়েছে; সেইসঙ্গে উচ্চ মূল্যস্ফীতির রাশ টানতে নীতি সুদহার অভূতপূর্ব হারে বাড়ানো হয়েছে—এসব কারণে বিশ্ব অর্থনীতি গতি হারালেও থমকে যায়নি। আইএমএফের পূর্বাভাস, চলতি বছর বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির হার ৩ শতাংশে নেমে আসবে; আগের বছরে যা ছিল ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। পরের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে তা ২ দশমিক ৯ শতাংশে নামতে পারে। এটা ঐতিহাসিক গড় মানের চেয়ে কম। তবে চলতি বছর সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির হার কমে আসবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমএফ। ২০২৩ সালে বৈশ্বিক গড় মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়াতে পারে ৫ দশমিক ৯ শতাংশ; আগের বছরে যা ছিল ৯ দশমিক ২ শতাংশ। সেইসঙ্গে খাদ্য ও জ্বালানির মূল্য ছাড়া মূল্যস্ফীতির যে হিসাব, সেই মূল্যস্ফীতির হারও কমে আসবে। এ পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক মন্দা হওয়ার আশঙ্কা কম। অর্থনীতির বিশেষ ক্ষতি না করে মূল্যস্ফীতির হার কমিয়ে আনা সম্ভব হবে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটি উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রেকর্ড হারে নীতি সুদহার বাড়ালেও বেকারত্ব তেমন একটা বাড়বে না বলেই পূর্বাভাস। ২০২৫ সালে এই হার সামান্য বেড়ে ৩ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত হতে পারে।
১১ অক্টোবর, ২০২৩

মূল্যস্ফীতি হবে ৬.৬% জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬.৫
চলতি অর্থবছর শেষে বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি কমার পূর্বাভাস দিয়েছে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)। একই সঙ্গে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার তুলনায় সামান্য বৃদ্ধির কথা জানিয়েছে সংস্থাটি। গতকাল ‘উন্নয়নশীল এশিয়ায় অর্থনৈতিক প্রবণতা ও সম্ভাবনা: দক্ষিণ এশিয়া’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব পূর্বাভাস দিয়েছে এডিবি। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছর মূল্যস্ফীতি কমে হবে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ। আর জিডিপি প্রবৃদ্ধি বেড়ে হবে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানিবহির্ভূত পণ্যের দাম কিছুটা কমে যাওয়া, প্রত্যাশিত উচ্চতর কৃষি উৎপাদন ও নতুন কাঠামোর অধীনে মুদ্রানীতির কঠোরতার কারণে মূল্যস্ফীতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের ৯ শতাংশ থেকে কমে এবার ৬ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক ২০২৩’ প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির হার ৬ শতাংশ। সেই তুলনায় আগামী অর্থবছরে তা সামান্য বাড়তে পারে। প্রবৃদ্ধির বিষয়ে এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর এডমিন জিনটিং বলেন, বাহ্যিক আর্থিক অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও সরকার তুলনামূলকভাবে ভালো করছে। কেননা অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নতি করতে জরুরি সংস্কার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সংস্কারগুলোর মধ্যে রয়েছে জনসাধারণের আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করা, অভ্যন্তরীণ সম্পদের সংহতি বৃদ্ধি করা, সরবরাহের উন্নতি করা। এক্ষেত্রে বেসরকারি খাতের উন্নয়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান তিনি।
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৩
X