

ভারতে শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ (সিজেপি) ডাকে সংসদ অভিমুখে মিছিল করতে যাচ্ছেন হাজারো শিক্ষার্থী, অভিভাবক, অধিকারকর্মী ও রাজনৈতিক নেতারা।
সোমবার (২০ জুলাই) দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে এই মিছিল শুরু হওয়ার কথা। তবে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, মিছিলের জন্য অনুমতি নেওয়া হয়নি। যদিও সিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা পূর্বঘোষিত কর্মসূচি চালিয়ে যাবে।
মিছিলকে ঘিরে দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিবাদস্থলে শত শত পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে এবং যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
শিক্ষাব্যবস্থায় অনিয়ম, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষার ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতার প্রতিবাদে চলতি বছরের মে মাসে অনলাইন ব্যঙ্গ আন্দোলন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে ককরোচ জনতা পার্টি। পরে এটি বড় ধরনের প্রতিবাদ আন্দোলনে রূপ নেয়।
আন্দোলনকারীরা ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করছেন। তবে মন্ত্রী সিজেপি ও তাদের সমর্থকদের ‘বিশৃঙ্খলাকারীদের বি-টিম’ বলে মন্তব্য করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার এখনো আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি।
সোমবার সকালে যন্তর মন্তরে বৃষ্টির মধ্যেও প্রতিবাদকারীদের ভিড় দেখা যায়। অনেকেই ভারতের জাতীয় পতাকা হাতে ছিলেন। কেউ কেউ শান্তির প্রতীক হিসেবে প্লাস্টিকের গোলাপ নিয়ে অংশ নেন।
আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বলেন, সংসদ অভিমুখে মিছিল হবে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী। তিনি বলেন, প্রতিবাদী নেতা ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুককে হাসপাতালে থেকে মুক্তি দিয়ে মিছিলে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।
ওয়াংচুক শিক্ষা ব্যবস্থার অনিয়মের প্রতিবাদে অনশন শুরু করেছিলেন। ২১ দিন অনশনের পর শনিবার পুলিশ তাকে জোর করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। বর্তমানে তিনি সেখানেই অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন।
ওয়াংচুক জানিয়েছেন, সরকার শিক্ষা ব্যবস্থার সাম্প্রতিক ব্যর্থতার দায় স্বীকার করলে, সংসদ সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করার আশ্বাস দিলে অথবা তাকে হাসপাতালে গিয়ে আইনপ্রণেতারা এ বিষয়ে পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দিলে তিনি অনশন শেষ করবেন।
দিল্লির পাশাপাশি ভারতের মুম্বাই, বেঙ্গালুরু ও হায়দরাবাদেও এই আন্দোলনের সমর্থনে বিক্ষোভ হয়েছে।
সিজেপির আন্দোলনের অন্যতম কারণ হলো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ হয়েছে। এই অভিযোগে মে মাসে একটি মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা বাতিল করা হয়; যার প্রভাব পড়ে প্রায় ২২ লাখ ৮০ হাজার পরীক্ষার্থীর ওপর।
শনিবার ওয়াংচুককে হাসপাতাল নেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ আরও বেড়েছে। এরপর আন্দোলনকারীরা শুধু শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান নয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগের দাবিও তুলেছেন।