

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি হামলার প্রতিক্রিয়ায় আবারও হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ডের বরাতে আল-জাজিরা জানায়, ইসরায়েলের ‘চুক্তি লঙ্ঘনের’ জবাবে শনিবার এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হচ্ছে। এটি শত্রুপক্ষের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের প্রথম প্রতিক্রিয়া। যদি আগ্রাসন অব্যাহত থাকে, তাহলে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হবে যাতে শত্রুপক্ষকে তার বাধ্যবাধকতা মানতে বাধ্য করা যায়।’
ইরানের খাতাম আল আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর এই বিবৃতিটি রাষ্ট্রীয় টিভিতে প্রচার করে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।
এই ঘোষণাটি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের ১৪-দফা চুক্তিতে সম্মত হওয়া যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে বলে তিনি আত্মবিশ্বাসী। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, হরমুজ খাল বন্ধ থাকার কোনো প্রমাণ তিনি দেখেননি, বরং তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ইরান নৌ-মাইনের মধ্যে দিয়ে যাওয়া জাহাজগুলোকে অন্য পথে চালিত করছে।
এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তারা ‘নৌচলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখতে’ হরমুজের ‘সাধারণ এলাকায় কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে’। তারা আরও জানায়, শনিবার প্রণালীটি দিয়ে পণ্যবাহী ও ১ কোটি ৭০ লাখ ব্যারেল তেলবাহী ৫৫টি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করেছে।
গেল সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার ইরানি প্রতিপক্ষ মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে ভার্চুয়ালি একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। যার লক্ষ্য হলো, ২৮শে ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া সংঘাতের অবসান ঘটানো। এতে লেবাননসহ সব রণাঙ্গণে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং তাদের মিত্রদের মধ্যে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো হয়েছে। এছাড়াও এতে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বৃহত্তর বিভিন্ন বিষয়ে ৬০ দিনের একটি আলোচনা পর্ব শুরুর বিধান রাখা হয়েছে।
এছাড়াও, একজন মার্কিন কর্মকর্তা শুক্রবার ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন, যা স্থানীয় সময় বিকেল ৪টায় শুরু হয়েছে। ইসরায়েলি ও হিজবুল্লাহ সূত্র রয়টার্সকে এই চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।