

ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কৌশল সম্পর্কে তথ্য জানতে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের ওপর গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়িয়েছে ইসরায়েল। এমন দাবি করেছে মার্কিন সংবাদপত্র নিউইয়র্ক টাইমস।
প্রতিবেদনে মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নের বরাতে বলা হয়, ইসরায়েলের গোয়েন্দা কার্যক্রম সাম্প্রতিক সময়ে অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে তা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ দেশগুলোর কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও তুলনা করা হয়েছে।
খবরে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তার কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণের চেষ্টা চালিয়েছে।
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, ইসরায়েলের গুপ্তচরবৃত্তিমূলক কার্যক্রম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরে উদ্বেগ বেড়েছে। প্রতিবেদনে বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়, মার্কিন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা সম্প্রতি ইসরায়েল-সম্পর্কিত পাল্টা গোয়েন্দা সতর্কতার মাত্রা সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে ইরান যুদ্ধসংক্রান্ত মতপার্থক্য বাড়ার পর একটি অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা নোটিশে ইসরায়েলি গুপ্তচরবৃত্তির ঝুঁকিকে অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, অতীতেও যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলি গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। বিশেষ করে ১৯৮০-এর দশকে মার্কিন নৌবাহিনীর গোয়েন্দা বিশ্লেষক জনাথন পোলার্ড গোপন নথি ইসরায়েলের কাছে সরবরাহের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ৩০ বছর কারাভোগ করেন।
অন্যদিকে, প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে যুক্তরাষ্ট্রও মিত্র দেশগুলোর ওপর গোয়েন্দা নজরদারি চালিয়ে থাকে। ২০১৩ সালে সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা ঠিকাদার এডওয়ার্ড স্নোডেন ফাঁস করা নথিতে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্র জার্মানির সাবেক চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মারকেলসহ কয়েকজন মিত্র দেশের নেতার যোগাযোগ পর্যবেক্ষণ করেছিল।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ট্রাম্প প্রশাসন তেহরানের সঙ্গে একটি কূটনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।