আব্দুল্লাহ আল মাছুম
প্রকাশ : ১৯ জুন ২০২৬, ০৮:৫১ এএম
অনলাইন সংস্করণ
রয়টার্সের বিশ্লেষণ

মধ্যপ্রাচ্যের নতুন সমীকরণ, উদ্বিগ্ন ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলো

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এই প্রথম কোনো মার্কিন ও ইরানি প্রেসিডেন্টের মধ্যে এমন একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ায় সমর্থকরা একে ‘শতাব্দীর চুক্তি’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন।

তবে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ও গোষ্ঠীগুলোর কাছে বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখা হচ্ছে। তাদের আশঙ্কা, এই চুক্তির ফলে ইরান আরও নিরাপদ, আন্তর্জাতিকভাবে আরও গ্রহণযোগ্য এবং আঞ্চলিকভাবে আরও প্রভাবশালী হয়ে উঠতে পারে।

রয়টার্সের বিশ্লেষণে একে ‘ইসরায়েলের জন্য কৌশলগত বিপর্যয়’ বলা হয়েছে। ইসরায়েলি বিশ্লেষক ড্যানি সিট্রিনোভিচ চুক্তিটিকে কৌশলগত বিপর্যয় বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, যে প্রচেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে দুর্বল বা ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্য নিয়ে শুরু হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত উল্টো ইরানকেই বৈধতা দিয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা যে শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করতে চেয়েছিলাম, শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটন সেই ব্যবস্থাকেই কার্যত স্বীকৃতি ও শক্তিশালী করেছে।

সিট্রিনোভিচের দাবি, চুক্তিতে ইসরায়েলের প্রধান উদ্বেগগুলোর প্রতিফলন নেই। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম কিংবা দেশটির পারমাণবিক স্থাপনা ভেঙে ফেলার বিষয়ে কোনো স্পষ্ট অঙ্গীকার এতে নেই।

নেতানিয়াহুর অবস্থান দুর্বল হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি ইরান ইস্যুতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের অবস্থানকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তেল আবিবের প্রভাবের সীমাবদ্ধতাও সামনে এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

পাশাপাশি লেবাননে প্রভাব বাড়তে পারে ইরানের। চুক্তির প্রভাবে হিজবুল্লাহ-সমর্থিত রাজনৈতিক শক্তিগুলোর অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে লেবাননকে বৃহত্তর যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কূটনৈতিক কাঠামোর অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে বৈরুত-ইসরায়েল আলোচনার গুরুত্ব তুলনামূলকভাবে কমে যেতে পারে।

তবে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন সম্প্রতি বলেছেন, যুদ্ধবিরতি বা দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের মতো বিষয়ে ইরান লেবাননের হয়ে আলোচনা করতে পারে না।

অন্যদিকে, হিজবুল্লাহ-ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংলাপ লেবাননের অবস্থানকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলবে এবং উভয় পক্ষ তাদের মিত্রদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে সক্ষম হতে পারে।

তেমনি উপসাগরীয় দেশগুলোর উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ দেখা দিয়েছে উপসাগরীয় দেশগুলোতে। আঞ্চলিক সংঘাত ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তনের ফলে তারা নিজেদেরকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের বাইরে থাকা পক্ষ হিসেবে দেখছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ ও পরবর্তী কূটনৈতিক সমঝোতার ফলে তৈরি হওয়া নতুন বাস্তবতার প্রভাব এখন তাদেরই বহন করতে হতে পারে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্যে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে, যার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব আগামী মাসগুলোতে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

রয়টার্সের ‘US-Iran deal redraws the Middle East: Iran gains, rivals alarmed’ প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ভাঙল রেকর্ড, ব্রাজিলকেও ছাড়িয়ে গেল নেদারল্যান্ডস

২১ জুন / আজকের নামাজের সময়সূচি

জামায়াত নেতা গ্রেপ্তার

কানাডায় মসজিদের ইমামের ওপর হামলা

২০০ বছরে প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সংযোগ কমেছে ৬০ শতাংশ: গবেষণা

‘ইতিহাস সাক্ষী আওয়ামী লীগ ইসলাম ও দেশের চিরশত্রু’

লেবাননে ইসরায়েলি সেনা নিহত, হামলায় আহত আরও ১৩

রাজধানীতে আজ কোথায় কী

শেষ ১০ মিনিটে যা হলো, বিশ্বাস করাই কঠিন!

বিশ্ব বাবা দিবস আজ

১০

২১ জুন : ইতিহাসে এই দিনে আলোচিত কী ঘটেছিল

১১

তীব্র তাপে ফ্রান্সে বছরে সাড়ে ৫ হাজার মানুষের মৃত্যু

১২

কুরাসাও গোলরক্ষকের সামনে নিরুপায় ইকুয়েডর

১৩

হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন হচ্ছে : সেন্টকম

১৪

দুপুরের মধ্যে ব্যাপক ঝড়-বৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরেও সতর্কতা

১৫

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধান যাচ্ছেন সুইজারল্যান্ডে

১৬

বিশ্বকাপের ম্যাচসহ টিভিতে আজ যত খেলা

১৭

মালদ্বীপে বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ আহমেদ মুত্তাকী পেলেন বিশেষ সম্মাননা

১৮

বিকেলে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

১৯

তিস্তার পানি বিপৎসীমা ছুঁইছুঁই, দুশ্চিন্তায় কৃষক

২০
X