

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধের পথ তৈরি করবে এমন প্রত্যাশায় স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, সমঝোতাটি তেহরানের জন্য বেশ সুবিধাজনক হলেও এর বাস্তবায়ন এখনো অনিশ্চয়তায় রয়ে গেছে।
দুই সপ্তাহ আগে স্বাক্ষরিত এই সমঝোতা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের জব্দ করা সম্পদ মুক্ত, ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ইরানি তেল রপ্তানির অনুমতি, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ তুলে নেওয়া এবং দেশটির পুনর্গঠনের জন্য একটি তহবিল গঠন করতে হবে।
এর বিনিময়ে ইরানকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করবে।
তবে এই দুই সপ্তাহে একাধিক ঘটনা ঘটেছে, যা দেখে বোঝা যায় যে যুদ্ধবিরতি এখনো অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে।
সপ্তাহের শুরুতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী দুটি জাহাজে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বাহিনী পাল্টাপাল্টি হামলা চালায়। ওই হামলার ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে আবারও জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়। যদিও গত সপ্তাহে প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল, তা এখনো যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় অনেক কম।
এদিকে, সহিংসতা কমানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন সমঝোতা থাকা সত্ত্বেও দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহ যোদ্ধা ও ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।
সমঝোতা স্মারকে বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরবর্তী আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে। তবে চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য নির্ধারিত ৬০ দিনের মধ্যে ইতোমধ্যে দুই সপ্তাহ পার হলেও মূল বিষয়গুলোতে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি।
সমঝোতার একটি ধারা জটিল পরিস্থিতি তৈরি করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, ইরানের জব্দ সম্পদ, ইরানি তেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল, ইরানি বন্দরের ওপর মার্কিন অবরোধ এবং দুই দেশের পাশাপাশি লেবাননের সংঘাত এসব ইস্যু নিষ্পত্তির পরই পরবর্তী আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে। ফলে আলোচনার ক্রম নির্ধারণ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
ইরান গতকাল জানায়, কাতারে আটকে থাকা তাদের জব্দ সম্পদের অর্ধেক ফেরত দেওয়া হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলেছেন, এখন পর্যন্ত কোনো সম্পদই মুক্ত করা হয়নি।
অন্যদিকে, ইরান এখনো জোর দিয়ে বলছে, নির্ধারিত নৌপথ দিয়ে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে হলে তাদের অনুমতি নিতে হবে। কিন্তু ক্রমেই বেশি সংখ্যক জাহাজ ওমান উপকূলঘেঁষা বিকল্প পথ ব্যবহার করছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে এখনো কোনো অর্থবহ বা আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়নি।
সূত্র : সিএনএন