বিশ্ববেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম
আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৯:৩৩ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

আফগানিস্তানে কেন এত বেশি বিধ্বংসী ভূমিকম্প

দুর্যোগ
আফগানিস্তানে কেন এত বেশি বিধ্বংসী ভূমিকম্প

পাকিস্তান সীমান্ত সংলগ্ন আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় পার্বত্য প্রদেশ কুনারে স্থানীয় সময় রোববার রাত ১১টা ৪৭ মিনিটে শক্তিশালী একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে এর তীব্রতা ছিল ৬। এ ভূমিকম্পে এ পর্যন্ত ৮ শতাধিক মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছে প্রায় ১ হাজার জন।

ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল নানগারহার প্রদেশের জালালাবাদ শহর থেকে ২৭ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তরপূর্বে। এর গভীরতা ছিল মাত্র ৮ কিলোমিটার। অগভীর ভূমিকম্পে সাধারণত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি হয়।

উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া তালেবান প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা বিবিসিকে বলেন, কয়েকটি গ্রাম পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। শুধু এই একটি উপত্যকাতেই ‘শত শত মানুষ’ হতাহত হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে হতাহতের এ সংখ্যা সরকারিভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

আফগানিস্তান ভূমিকম্পপ্রবণ একটি দেশ। কারণ দেশটি ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে বেশ কয়েকটি ফল্ট লাইনের ওপর অবস্থিত। যার কারণে হিন্দুকুশ পর্বতমালায় প্রায়ই বড় ধরনের ভূমিকম্প আঘাত হানে।

২০২২ সালে পূর্ব আফগানিস্তানে ৫ দশমিক ৯ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে অন্তত ১ হাজার মানুষ নিহত এবং ৩ হাজার মানুষ আহত হয়। গত দুই দশকে দেশটিতে এটিই ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ। সেই ভূমিকম্পটি মাঝারি মাত্রার হলেও ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে সংঘটিত হওয়ায় অনেক বেশি ধ্বংসাত্মক ছিল।

রোববারের ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল আরও কম, মাত্র ৮ কিলোমিটার। এ কারণে শত শত মানুষের হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর আফগানিস্তানে ৬ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ওই ঘটনায় অন্তত চার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল। তবে জাতিসংঘ মৃতের সংখ্যা অনেক কম, প্রায় ১ হাজার ৫০০ বলে জানিয়েছিল।

কেন এত প্রাণহানি: আফগানিস্তানের বাসিন্দারা ভূমিকম্পের সময় বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকেন। কারণ দেশটির ভবনগুলো কাঠ, কাঁচা ইট বা দুর্বল কংক্রিট দিয়ে তৈরি, যা সাধারণত ভূমিকম্প প্রতিরোধী হয় না।

আফগানিস্তানের পার্বত্য অঞ্চলে ভূমিকম্পের কারণে সৃষ্ট ভূমিধসেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ধসে ঘরবাড়ি চাপা পড়ে, আবার নদীর প্রবাহও আটকে যায় অনেক সময়। ভূমিধসের কারণে রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়, ফলে দূরবর্তী এলাকায় উদ্ধারকর্মী ও সরঞ্জাম পাঠানো কঠিন হয়ে পড়ে। বৃষ্টি, তুষার, কুয়াশা ও তীব্র শীতের মতো প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার কাজ আরও কঠিন হয়ে ওঠে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

১৫ বছর পর বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখল অস্ট্রেলিয়া

সীমান্তবর্তী এলাকায় টহল ও নজরদারি জোরদার

ব্রাজিলের বিখ্যাত ভবিষ্যৎদ্রষ্টার মতে এবার বিশ্বকাপ জিতবে পর্তুগাল

দৌলতদিয়ার বাস ডুবির ঘটনায় দুটি তদন্ত কমিটি গঠন : নৌ প্রতিমন্ত্রী

আর্জেন্টিনার সামনে সেই পুরোনো অভিশাপ

তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার্থীদের পাশে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় : উপাচার্য 

বিশ্বকাপে ভুভুজেলা নিষিদ্ধ করল ফিফা, কঠোর হচ্ছে স্টেডিয়াম প্রবেশনীতি

ভেঙে গেল জার্মানীর বিশ্বকাপজয়ী তারকার দুই দশকের সংসার

আম খাওয়ার পর ভুলেও খাবেন না এই ৫ খাবার

অবশেষে ‘অলৌকিক’ সেই গাছ নিয়ে রহস্যের অবসান

১০

অস্ত্র নামাবে না হামাস, সামরিক অস্ত্রভাণ্ডারের সিদ্ধান্তও আলোচনা ছাড়া নয়

১১

জিমেইল হ্যাক করে ব্যাংক থেকে টাকা আত্মসাৎ, মূলহোতাসহ গ্রেপ্তার ২ 

১২

বাসযোগ্য পৃথিবী গড়তে বৈশ্বিক সহযোগিতার আহ্বান পরিবেশ প্রতিমন্ত্রীর

১৩

সাহারা মরুভূমিতে ট্রাক বিকল, তৃষ্ণায় প্রাণ গেল ৪৯ যাত্রীর

১৪

লেবাননে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী নিহতের ঘটনায় মিসরের নিন্দা

১৫

রাজনীতি ও গণতন্ত্রকে ধ্বংসে সুপরিকল্পিত চক্রান্ত চলছে : মির্জা ফখরুল

১৬

বিয়ের মধ্যে প্রচলিত ৩০ কুসংস্কার

১৭

রাজধানীর কিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ

১৮

‘খালে ময়লা ফেলা বন্ধ না করলে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি মিলবে না’

১৯

রোনালদোর চেয়ে মেসি কেন সেরা, ব্যাখ্যা দিলেন ডি মারিয়া

২০
X