

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে গত মঙ্গলবার রাতে মেয়র পদে জোহরান মামদানির জয়ের পেছনে কিছু বিষয় রয়েছে। ভোটাররা যা পরিবর্তন চান, তা সাধারণত দ্রুতই অনুভব করতে চান। এ কারণে আপনি লক্ষ করলে দেখবেন যে, একই এলাকার ভোটাররা একবার রিপাবলিকান ও পরেরবার ডেমোক্র্যাটদের ভোট দিচ্ছিলেন কোনো ধরনের মাথা ঘামানো ছাড়াই। তবে এবার মামদানির প্রচার কৌশলে এমন কিছু ঘটনা ঘটে, যা পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।
এ কারণেই নিউইয়র্কে মেয়র নির্বাচনে মামদানির জয়ে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথ খুলেছে ডেমোক্রেটিক পার্টির আরেক নেতার। মেয়র হিসেবে তার ঐতিহাসিক বিজয় শুধু শহরের রাজনীতিতেই নয়, গোটা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিসরে এক নতুন ধারা তৈরি করেছে।
অনেক বিশ্লেষকের মতে, এই জয়ের মাধ্যমে মামদানি যুক্তরাষ্ট্রের প্রগতিশীল শিবিরের সবচেয়ে জনপ্রিয় মুখ আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ বা এওসি’র জন্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থিতার পথ সুগম করে দিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক পাবলো ও’হানার মতে, মামদানির বিজয়ের মূল রহস্য ছিল ‘দ্রুত পরিবর্তনের অনুভূতি তৈরি করা’, যা সাধারণ ভোটাররা কথায় নয়, কাজে দেখতে চান। মার্কিন ভোটাররা এখন দল নয়, বাস্তব পরিবর্তনের সন্ধান করছেন।
ও’হানার মতে, ‘মানুষ শান্তি নয়, ধাক্কা চায়। তারা এমন কাউকে চায়, যে টেবিল উল্টে দিতে পারে।’
এ বাস্তবতায় মামদানির প্রচার ছিল নতুন ধরনের—‘ভাষণের’ চেয়ে ‘ফলাফলের’ রাজনীতি। তিনি ভাড়া, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং দুর্নীতিগ্রস্ত চুক্তির বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এর মধ্য দিয়েই তিনি বাম ঘরানার রাজনীতি আবার সাধারণ মানুষের জীবনের সঙ্গে যুক্ত করতে পেরেছেন। ও’হানার মতে, ওকাসিও-কর্টেজ যদি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নামেন, তবে মামদানির প্রচার তার জন্য এক আদর্শ মডেল হতে পারে। তিনি তিনটি বিষয় মূল কৌশল হিসেবে তুলে ধরেছেন—নির্বাচনের পর ছয় মাসের মধ্যে তিনটি বড় প্রতিশ্রুতির বাস্তব ফল দেখাতে হবে। মামদানি যেমন বাড়িওয়ালা ও মূল্যবৃদ্ধিকারীদের দায়ী করেছেন, সেভাবে এওসি’কেও ‘খলনায়ক’ নির্ধারণ করে বাস্তব সমাধান দিতে হবে। ও’হানা লিখেছেন, আজকের ভোটাররা প্রেমে পড়েন না, অধৈর্য হন। এওসি যদি ছয় মাসের মধ্যে পরিবর্তনের ছোঁয়া দিতে পারেন, তাহলে তার জন্য পথ প্রস্তুত। তিনি আরও বলেন, টেবিল কেউ না কেউ উল্টে দেবে এবং ব্রঙ্কসের এই তরুণী, শ্রমজীবী, স্পষ্টভাষী নারী সেই কাজটি করতে পারেন বলেই মনে হয়।