বিশ্ববেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম
আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০২৫, ০৭:৩৫ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

ইউক্রেন যে পাঁচ কারণে যুদ্ধ চালিয়ে যাবে

পলিটিকোর বিশ্লেষণ
রাশিয়ার হামলায় বিধ্বস্ত একটি ভবন। ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ার হামলায় বিধ্বস্ত একটি ভবন। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে ইউরোপকে চমকে দিয়ে এক নাটকীয় আলটিমেটাম দেন—ইউক্রেনের যুদ্ধ বন্ধে ওয়াশিংটনের যুদ্ধবিরতির খসড়া প্রস্তাব গ্রহণ করতে হবে, না হলে মার্কিন অস্ত্র ও গোয়েন্দা সহায়তা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি আছে। যদিও ইউরোপ ও ইউক্রেনের চাপের মুখে প্রস্তাবটি কিছুটা সংশোধিত হয়েছে, তবুও সহায়তা বন্ধের ঝুঁকি এখনো বহাল আছে। তাহলে প্রশ্ন একটাই—যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা বন্ধ হলে কি ইউক্রেন লড়াই চালিয়ে যেতে পারবে? পলিটিকোর বিশ্লেষণে উঠে এসেছে স্পষ্ট উত্তর—ট্রাম্প প্রশাসন অস্ত্র প্রত্যাহার করলে কিয়েভের জন্য যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া কঠিন, তবে অসম্ভব নয়।

পলিটিকো ট্রাম্পের আলটিমেটামের ফলে উত্থাপিত পাঁচটি বিষয় এবং ইউক্রেনের যুদ্ধ প্রচেষ্টার জন্য এর অর্থ কী, তা পর্যালোচনা করেছে।

ইউরোপ কি যুক্তরাষ্ট্রের জায়গা পূরণ করতে পারবে: সংক্ষিপ্ত উত্তর—না, অন্তত শিগগির নয়।

ইউরোপ ইউক্রেনকে গোলাবারুদ, ট্যাংক, যুদ্ধবিমানসহ বহু ধরনের সহায়তা দিচ্ছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা অস্ত্র এখনো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত প্যাট্রিয়ট আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যার প্যাক-৩ ক্ষেপণাস্ত্র শুধু যুক্তরাষ্ট্রই উৎপাদন করে।

ইউক্রেনের নিরাপত্তা বিশ্লেষক মাইকোলা বেলিয়েস্কভের মতে, কিছু সময়ের জন্য ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া চলতে পারে, তবে প্যাক-৩ ছাড়া রাশিয়ার ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রতিহত করা প্রায় অসম্ভব। যদিও ইউরোপ এসএএমপিটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করছে, কিন্তু রাশিয়ার প্রতিদিনের তীব্র হামলার মুখে ইউক্রেনের আরও অনেক ব্যবস্থা প্রয়োজন।

গোয়েন্দা তথ্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ: ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র আগাম শনাক্ত করার ক্ষমতা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের উপগ্রহ ও সেন্সর নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভরশীল। ইউরোপের কিছু সক্ষমতা আছে ঠিকই, কিন্তু তা মোটেও মার্কিন নেটওয়ার্কের সমকক্ষ নয়।

এ বছর মার্চে ট্রাম্প সাময়িকভাবে ইউক্রেনকে গোয়েন্দা তথ্য দেওয়া বন্ধ করেছিলেন, যার ফলে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তথ্য ছাড়া ইউক্রেনের আগত রুশ ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত, রুশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা তেল শোধনাগারে দীর্ঘপাল্লার হামলা—সবই কঠিন হয়ে পড়বে।

একজন ইউক্রেনীয় ড্রোন অপারেটর বলেন, মার্কিন সহায়তা না থাকলে দীর্ঘ পাল্লার আঘাত হানার সক্ষমতা অনেক কমে যাবে, যদিও তারা সম্পূর্ণভাবে তা হারাবে না।

ইউরোপ কি এখন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বেশি ব্যয় করছে: হ্যাঁ, মোট ব্যয়ে ইউরোপ এখন যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে গেছে।

কিন্তু ব্যয়ের পরিমাণ বেশি মানেই নেতৃত্ব ইউরোপের হাতে—এমন নয়।

২০২২-২৪ সালের মধ্যে দুই পক্ষই প্রায় সমান সামরিক সহায়তা দিয়েছে। কিন্তু ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের মাসিক সামরিক সহায়তা প্রায় শূন্যে নেমে আসে। এর বিপরীতে ইউরোপ মাসে প্রায় ৪ বিলিয়ন ইউরো পর্যন্ত সহায়তা বাড়িয়েছে।

আর যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অস্ত্র দিচ্ছে না, বরং বিক্রি করছে এবং ইউরোপকে বাধ্য করছে অর্থ পরিশোধ করতে, যাকে বলা হচ্ছে পিইউআরএল ব্যবস্থা। এ তালিকা এমন অস্ত্রকে ঘিরে, যেগুলো ইউক্রেন অন্য কোনো উৎস থেকে পেতে পারে না—যেমন প্যাট্রিয়ট।

কিন্তু এতে ইউরোপের নিয়ন্ত্রণ বাড়ে না। ইউরোপীয় নীতিবিদদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এখন তার প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতিকে অস্থির ও রাজনৈতিকভাবে পরিবর্তনশীল করে তুলেছে, যা ইউরোপকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে।

যুক্তরাষ্ট্র কি সত্যিই অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করে দিতে পারে: বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য ইউক্রেনকে অস্ত্র বিক্রি করা লাভজনক; শুধু পিইউআরএলের প্রতিশ্রুতির পরিমাণই ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বাণিজ্যিক স্বার্থকে ছাপিয়ে যেতে পারে।

হোয়াইট হাউস চাইলে এক সিদ্ধান্তেই অস্ত্র রপ্তানি বন্ধ করতে পারে, ধীরগতি করতে পারে বা ইউরোপের রি-এক্সপোর্টও আটকে দিতে পারে। এরই মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসন এমন পদক্ষেপ নিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া কি ইউক্রেন লড়াই চালাতে পারবে: সংক্ষিপ্ত উত্তর—হ্যাঁ, তবে অনেক বেশি ঝুঁকি নিয়ে। ইউক্রেনের ড্রোন প্রযুক্তি, নিজস্ব গোলাবারুদ উৎপাদন ও উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র তাদের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। বর্তমানে ইউক্রেন নিজের প্রয়োজনের প্রায় ৬০ শতাংশ অস্ত্র নিজেই উৎপাদন করছে, যা তিন বছরে বিশাল অগ্রগতি। কিন্তু বাকি ৪০ শতাংশের একটি বড় অংশ এখনো যুক্তরাষ্ট্র থেকেই আসে। বিশেষ করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ, দীর্ঘ পাল্লার আক্রমণ, উচ্চক্ষমতার এয়ার ডিফেন্স—এগুলো যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া প্রায় অসম্ভব।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউক্রেন অতীতে বহুবার সংকট কাটিয়েছে—অল্প গোলাবারুদ, কম ইন্টারসেপ্টর, রাশিয়ার প্রচণ্ড ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। তবু দেশটি আত্মসমর্পণ করেনি।

তার মানে, ট্রাম্প সহায়তা বন্ধ করলে যুদ্ধ অনেক কঠিন হয়ে উঠবে, কিন্তু ইউক্রেন লড়াই বন্ধ করবে—এমন লক্ষণ নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা বন্ধ হলে ইউক্রেন কঠিন অবস্থায় পড়বে ঠিকই, কিন্তু ইউক্রেনের উন্নত শিল্প, ইউরোপের আর্থিক সহায়তা এবং জনগণের দৃঢ় প্রতিরোধ ক্ষমতা—সব মিলিয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা এখনো টিকে আছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

৬ ঘণ্টা পর ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রাম-সিলেটের ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক

বিদ্যুৎস্পর্শে প্রাণ গেল স্বামী-স্ত্রীর

জার্মানিতে ভেঙে পড়লো উড়োজাহাজের ল্যান্ডিং গিয়ার

আদ্-দ্বীন হাসপাতালকে শোকজ, জবাব না দিলে লাইসেন্স বাতিল

ভৈরবে রেলপথ অবরোধ, ৫ ট্রেন আটকা

৬ দফা দাবিতে চমেক ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মানববন্ধন, শনিবার থেকে কর্মবিরতির হুঁশিয়ারি

সিএন্ডএফ ভবনেই মিলবে চসিকের ট্রেড লাইসেন্স, বুথ স্থাপনের নির্দেশ মেয়রের

নানার বাড়ি বেড়াতে গিয়ে পুকুরে ডুবে ২ ভাইয়ের মৃত্যু

নানার বাড়ি থেকে ফেরার পথে নিখোঁজ, খালে মিলল মরদেহ

দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে নিহত ১, একাধিক বাড়িঘরে আগুন

১০

কারাগারে আইভীকে গান শোনাতেন মমতাজ, যে গান না গাইতে অনুরোধ

১১

পাকিস্তানের সিরিজ জয়

১২

ইউক্রেন ছাড় দিলে সমঝোতায় প্রস্তুত রাশিয়া : পুতিন

১৩

ডাচদের হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ শেষ বাংলাদেশের

১৪

আফগানিস্তানকেও রুখে দিল বাংলাদেশ

১৫

দিল্লির হোটেলে ভয়াবহ আগুনে প্রাণ হারালেন বাংলাদেশি নাগরিক

১৬

পদোন্নতিতে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে সিআইডি প্রধানের পদত্যাগ

১৭

যুবদলের যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক হলেন নির্যাতিত নেতা সাজিদ হাসান বাবু

১৮

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তথ্য পেয়ে চুক্তি ও ঋণপত্র বাতিল, ফেরত যাচ্ছে ‘এমটি মেমেই’

১৯

ছবি প্রকাশ করলেন রাশেদ খান / সরকার পতনের পর আ. লীগ নেতাদের সঙ্গে কয়েক ধাপে মিটিং হান্নান মাসউদের

২০
X