

ভারতের দুই রাজ্য আসাম ও কেরালা এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পদুচেরিতে গতকাল বৃহস্পতিবার বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়েছে। এ নির্বাচনে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপি ও প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের জোটের মধ্যে মূল লড়াইটা হচ্ছে। বিবিসি বলছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপির জন্য এ নির্বাচনকে একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সচরাচর যেসব জায়গায় বিজেপির প্রভাব বেশি তার বাইরেও এখন দলের প্রভাব বিস্তারে চেষ্টা করছে মোদি সরকার। অন্যদিকে তাদের আধিপত্যের বিরুদ্ধে একটি টেকসই চ্যালেঞ্জ গড়ে তোলাই এখন বিরোধী দলগুলোর প্রধান লক্ষ্য।
গতকাল এই তিন রাজ্যে ভোট হলেও ফল ঘোষণা হবে আগামী ৪ মে। একই দিনে পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ু নির্বাচনের ফলাফলও জানানো হবে। পশ্চিমবঙ্গে ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোটগ্রহণ করা হবে। অন্যদিকে তামিলনাড়ুতে ভোট হবে ২৩ এপ্রিল।
কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, আসামের ১২৬টি, কেরালার ১৪০টি এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পদুচেরির ৩০টি আসনে ভোট হবে। আসামে ১০ বছর ধরে ক্ষমতায় রয়েছে বিজেপি। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার প্রধান প্রতিপক্ষ কংগ্রেস। দুদলই স্থানীয় ছোট দলগুলোর সঙ্গে জোট বেঁধে নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছে।
এবার কেরালায় মূল লড়াই হবে কংগ্রেস ও সিপিএম। এ রাজ্যে বিজেপি তৃতীয় শক্তি হিসেবে উঠে এলেও সরকার গড়ার মতো শক্তি এখনো সঞ্চয় করতে পারেনি।
পদুচেরির রাজনীতিতে বরাবরই প্রতিবেশী রাজ্য তামিলনাড়ুর প্রভাব স্পষ্ট। সেখানে ক্ষমতাসীন সর্বভারতীয় এন আর কংগ্রেসের প্রধান ও মুখ্যমন্ত্রী এন রঙ্গস্বামীর জোটসঙ্গী বিজেপি। এই জোটের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ডিএমকে-কংগ্রেস জোট।
ভারতের নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই চার রাজ্য ও পুদুচেরিতে মোট ভোটারের সংখ্যা ১৭ কোটি ৪০ লাখ, যা দেশটির মোট ভোটারের প্রায় ১৮ শতাংশ।
পাঁচটি অঞ্চলে মোট ৮২৪টি আসনের এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশন বলছে, ভুয়া বা পুরোনো নাম বাদ দিয়ে বৈধ ভোটারদের যুক্ত করতেই তাদের এই পদক্ষেপ। তবে বিরোধীরা বলছেন, বিজেপিকে সুবিধা দিতেই লাখ লাখ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যাদের বড় অংশই মুসলমান। বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চের রাজনৈতিক বিশ্লেষক রাহুল বর্মা বিবিসিকে বলেছেন, ‘এটি বিজেপির জন্য বড় পরীক্ষা, যারা বছরের পর বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গ ও দক্ষিণের রাজ্য কেরালা ও তামিলনাড়ুতে জনভিত্তি বাড়ানোর চেষ্টা করছে।’
তার ভাষ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নির্বাচনী প্রভাব ক্রমেই কমতে থাকা কংগ্রেসের জন্য এটি আরও বড় চ্যালেঞ্জ।