

জাতিসংঘে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন দূত ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির সদস্য নিকি হ্যালি দাবি করেছেন যে, সম্প্রতি মার্কিন নৌবাহিনীর হাতে জব্দ হওয়া ইরানের জাহাজটি চীন থেকে আসছিল এবং সেটি ক্ষেপণাস্ত্র-সংক্রান্ত রাসায়নিক চালানের সঙ্গে যুক্ত উপকরণ বহন করছিল। তিনি দাবি করেন যে, যুদ্ধে ইরানিদের সাহায্য করার চীনের সম্ভাবনা এমন একটি বাস্তবতা, যা আর উপেক্ষা করা যায় না। তবে ইরান ও মার্কিন কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে মুখে খোলেনি।
নিকি হ্যালি এক্সে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, ‘রোববার হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র যে জাহাজটি জব্দ করেছে, সেটি চীন থেকে ইরানের দিকে যাচ্ছিল এবং ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য রাসায়নিক চালানের সঙ্গে এর যোগসূত্র রয়েছে। জাহাজটি বারবার থামার আদেশ অমান্য করেছিল।’
নিকি হ্যালি বলেন, চীন ইরানের শাসনব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করছে, এমন এক বাস্তবতা যা উপেক্ষা করা যায় না।
রোববার ওমান উপসাগরে তুস্কা নামের ইরানের পতাকাবাহী কনটেইনার জাহাজটিকে জব্দ করে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী, যা ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান শিপিং লাইনস (আইআরআইএসএল) নেটওয়ার্কের অংশ বলে জানা গেছে এবং এ সংস্থাটি এরই মধ্যে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার অধীনে রয়েছে। মেরিন ট্র্যাফিকের জাহাজ-ট্র্যাকিং তথ্য অনুসারে, মার্কিন বাহিনী রোববার ওমান উপসাগরে ইরানের চাবাহার বন্দরের কাছে জাহাজটিতে হামলার পর জব্দ করে। এদিকে, ইরানের সামরিক বাহিনী জানায়, জাহাজটি চীন থেকে আসছিল এবং তারা যুক্তরাষ্ট্রকে ‘সশস্ত্র জলদস্যুতা’র জন্য অভিযুক্ত করেছে। তেহরান আরও বলেছে, অবরোধ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত তারা দ্বিতীয় দফার আলোচনার জন্য ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দেবে না।
এদিকে, মার্কিন নিরাপত্তা সূত্রগুলো সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে যে, তাদের প্রাথমিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, এশিয়া থেকে যাত্রা করার পর জাহাজটি সম্ভবত দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য সামগ্রী বহন করছিল। সূত্রগুলোর মধ্যে একজন বলেছেন, জাহাজটি এর আগেও দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য বলে বিবেচিত সামগ্রী পরিবহন করেছিল।
তবে, সূত্রগুলো এর সামগ্রীগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তবে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ধাতু, পাইপ এবং ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশসহ অন্যান্য পণ্যের একটি তালিকা তৈরি করেছে, যেগুলোর সামরিক ও শিল্প উভয়ক্ষেত্রেই ব্যবহার থাকতে পারে এবং যা জব্দ করাও যেতে পারে।
ওয়াশিংটন ২০১৯ সালের শেষের দিকে আইআরআইএসএলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং এটিকে ইরানি অস্ত্র বিস্তারকারী ও সংগ্রহকারী এজেন্টদের পছন্দের শিপিং লাইন হিসেবে বর্ণনা করে, যার মধ্যে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির জন্য উদ্দিষ্ট সামগ্রী পরিবহনও অন্তর্ভুক্ত ছিল। খবর রয়টার্সের।