

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে অবৈধ দোকান, উদ্বাস্তু, ভবঘুরে ও নেশাগ্রস্তদের উচ্ছেদ অভিযানের জেরে শনিবার রাতে বিক্ষোভ ও পাল্টা বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাসের অংশ হিসেবে তিন দিন ধরে এ অভিযান পরিচালনা করে আসছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের নেতৃত্বে পরিচালিত এ উচ্ছেদ অভিযানে অংশ নেন ডাকসু নেতারা। এর মধ্যে সমাজকল্যাণ সম্পাদক এ বি জুবায়ের (জুবায়ের বিন নেছারী) ও সদস্য সর্বমিত্র চাকমা সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। ঢাকা মহানগর পুলিশ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ এবং গ্রিন ফিউচার ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবীরা এ অভিযানে সহযোগিতা করেন। ঢাবি প্রশাসন ও ডাকসু নেতারা নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধির কারণ দেখিয়ে অভিযানের পক্ষে যুক্তি দেন।
সহকারী প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষার্থী অবৈধ বিক্রেতাদের উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ দাবি উপেক্ষা করতে পারে না।’
ডাকসু নেতারা অভিযোগ করে বলেন, ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। মেট্রোরেলের নিচে ও আশপাশে অনেক ভাসমান ব্যক্তি স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছেন, যাদের অনেকে মাদক সেবন, বিক্রি ও রাতে ছিনতাইয়ের মতো অপরাধে জড়িত।
ডাকসু সমাজসেবাবিষয়ক সম্পাদক যুবায়ের বিন নেছারী বলেন, ‘ক্যাম্পাসে গৃহহীনদের অবস্থান অপরাধী নেটওয়ার্ককে সক্রিয় রাখছে।’ ডাকসু সাধারণ সম্পাদক এস এম ফারহাদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশীদারত্বের মধ্যে মাদক কারবারি, অনুমোদনহীন দোকানদার বা হকারদের স্থান নেই। যারা উচ্ছেদের বিরোধিতা করছেন, তারা আসলে পুরোনো মাদক ও অর্থনৈতিক সিন্ডিকেট রক্ষা করতে চাইছেন।’
অসদাচরণের অভিযোগ: শনিবার রাত ৯টায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, যখন এ অভিযানকে অমানবিক আখ্যা দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে কয়েকটি বাম সংগঠন। বিক্ষোভ মিছিলটি সোহরাওয়ার্দী উদ্যান গেট থেকে শুরু হয়ে ভিসি চত্বর ঘুরে টিএসসি পর্যন্ত যায় এবং রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সমাবেশ করে শেষ হয়। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নেতাদের অভিযোগ, উচ্ছেদ অভিযানে কিছু দোকান ভাঙচুর করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা অভিযানের নিন্দা জানিয়ে একে ‘অমানবিক’ ও ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেন তারা।
এ বিষয়ে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম রিয়াদ বলেন, ‘উচ্ছেদ কোনোভাবেই এলোমেলোভাবে করা যায় না; এটি পরিকল্পিত ও পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।’
পাল্টা বিক্ষোভ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা: রাত ১১টায় ডাকসু নেতারা প্রক্টর অফিসের সামনে পাল্টা বিক্ষোভের আয়োজন করেন। এতে অংশ নেন ডাকসু সমাজসেবা সম্পাদক যুবায়ের বিন নেছারী, সদস্য সর্বমিত্র চাকমা, সূর্যসেন হলের ভাইস প্রেসিডেন্ট আজিজুল হক এবং জিয়াউর রহমান হলের সাধারণ সম্পাদক আসিফ ইমাম।
পরে সহকারী প্রক্টরদের সঙ্গে এক বৈঠকে (যার মধ্যে সহযোগী অধ্যাপক রফিকুল ইসলামও ছিলেন) ডাকসু নেতারা উচ্ছেদবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান এবং বিক্ষোভের ভিডিও ফুটেজ জমা দেন। সর্বমিত্র চাকমা দাবি করেন, ‘উচ্ছেদবিরোধী মিছিল বামঘেঁষা ছাত্রদের উসকানিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে।’
সহকারী প্রক্টর রফিকুল ইসলাম নিশ্চিত করেন যে, সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের ‘শোকজ’ নোটিশ দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘যদি কোনো বর্তমান শিক্ষার্থী হকারদের সঙ্গে মিছিলে অংশ নেয়, তবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এটি প্রশাসনের প্রথম এবং নিশ্চিত পদক্ষেপ।’