

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিদেশের সঙ্গে সম্পাদিত জানা-অজানা সব চুক্তি ফের খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ডকুমেন্টে দেশের সামগ্রিক দায়দেনা পরিস্থিতি এবং বিগত সরকারের করা ক্রয় ও বৈদেশিক চুক্তিগুলো বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা উচিত। এসব চুক্তিতে কোনো নিয়মনীতির ব্যত্যয় ঘটেছে কি না, তা যাচাই করা জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, শেষ সময়ে বিভিন্ন খাতে যে চুক্তিগুলো হয়েছে, সেগুলোর প্রকৃতি ও শর্ত সম্পর্কে অনেক ক্ষেত্রেই জনসমক্ষে স্পষ্ট ধারণা নেই।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার ইনে ‘নতুন সরকারের সূচনাবিন্দু: অর্থনৈতিক পর্যালোচনা’ শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। তার মতে, অন্তর্বর্তী সরকার যে অবস্থায় দেশের অর্থনীতি পেয়েছিল, বিদায়ের সময় তার চেয়ে দুর্বল ও নাজুক পরিস্থিতিতে তা রেখে গেছে। রাজস্ব আহরণে ঘাটতি, চলতি ব্যয়ে সংযম না আনা এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে সমন্বয়ের অভাব এর পেছনে কারণ হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, এলডিসি উত্তরণ প্রক্রিয়া পুনর্মূল্যায়নের প্রেক্ষাপটে বৈদেশিক চুক্তিগুলোকেও নতুন করে বিবেচনায় আনা প্রয়োজন, যাতে নতুন সরকারের ওপর কী ধরনের দায় বর্তাবে, তা স্পষ্ট হয়। একই সঙ্গে জনতুষ্টিমূলক পদক্ষেপ এড়িয়ে আর্থিক ব্যবস্থাপনায় কৃচ্ছ্র ও সংযম দেখানোর আহ্বান জানান তিনি। অন্যথায় আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতিসহ নানা চাপ স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেন এই অর্থনীতিবিদ।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তৌফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন,সরকারের প্রথম পরীক্ষা হবে বাস্তবসম্মতভাবে বাজেট সংশোধন এবং আগামী অর্থবছরের বাজেটকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো একযোগে নয়, ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের দিকেই এগোনো উচিত বলেও মত দেন তিনি।