

দেখতে দেখতে সাফল্য ও জনকল্যাণে দুই মাস পার করল বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার। মূলত একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যবস্থা থেকে রাষ্ট্রকে পুনর্গঠনের কাজটি চ্যালেঞ্জিং হলেও গত ৬০ দিনে বিএনপি সরকার সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণে সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে। জনগণের সুউচ্চ প্রত্যাশা আর ভঙ্গুর অর্থনীতির মধ্যে দাঁড়িয়ে স্বল্প সময়ে অনেক বড় পদক্ষেপ নিয়েছে বিএনপি সরকার। সরকারের একাধিক মন্ত্রী এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই সরকারের প্রথম দুই মাসকে সংস্কার ও জনকল্যাণে ইতিবাচক অভিযাত্রা হিসেবেই দেখছেন। তাদের মতে, সরকারের ইতিবাচক-নেতিবাচক দিক থাকলেও সাফল্যের পাল্লা বেশি ভারী। এই সময়ের মধ্যে ‘টাইম’ ম্যাগাজিনের প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্থান পাওয়ার বিষয়টিকেও গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। সরকারের একাধিক মন্ত্রী-এমপি মনে করেন, তারা এক কঠিন সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বভার নিয়েছেন। এরপর এই স্বল্প সময়ের মধ্যে জনজীবন শান্ত করা, অর্থনীতিতে গতি আনা এবং জনবান্ধব কর্মসূচি চালুর মাধ্যমে সরকার নিজের সক্ষমতা অব্যাহতভাবে জানান দিচ্ছে।
বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে চলমান পরিস্থিতিতে সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়, কৃষির পুনরুজ্জীবনে খাল খনন ও কৃষক কার্ড এবং নিম্নবিত্তের সামাজিক সুরক্ষায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণসহ সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছে, যা টেকসই উন্নয়নের ইঙ্গিত বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
তারা এ-ও বলছেন যে, দুই মাসের এই সময়কাল একটি দেশের আমূল পরিবর্তনের জন্য পর্যাপ্ত নয়, তবে বিএনপির নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার সঠিক দিশায় যাত্রা শুরু করেছে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—আসন্ন দিনগুলোতে এই সংস্কার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে এবং দ্রুততম সময়ে একটি টেকসই গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত হবে।
এদিকে সরকারের ‘দুই মাস পূর্তি’ উপলক্ষে আজ শনিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, প্রেস সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ (সালেহ শিবলী) এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রেস উইংয়ের সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন।
উল্লেখ্য যে, দীর্ঘ ১৭ বছর পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্বে বিএনপি এককভাবে ২১১টি আসনে বিজয়ী হয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পেয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ৬৮টি। বাকি আসনগুলোতে বিভিন্ন জোট, দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন। এরপর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হয়। প্রধানমন্ত্রীসহ ৫০ সদস্যবিশিষ্ট মন্ত্রিসভায় চমক হিসেবে রয়েছেন ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী। যারা একেবারেই নতুন। এ ছাড়া পূর্ণ মন্ত্রীর মধ্যে ১৬ জনই নতুন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দুই দশক পর রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরল বিএনপি।
সরকার গঠনের পরদিনই প্রথম কর্মদিবসে সচিবালয়ে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অন্যান্য মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা যে যার দপ্তরে যান। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনার একপর্যায়ে নিত্যপণ্যের দাম নাগালে রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটানোসহ আগামী ১৮০ দিনের কর্মসূচি নির্ধারণ করে তা বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারের একাধিক মন্ত্রী জানান, মূলত ছয় মাসের ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ প্রণয়নসহ সরকারের প্রথম ১০০ দিনে কী কী কাজ করা হবে, তারও একটি রূপরেখা তৈরি হয়েছে। তারা জানান, প্রথম একশ দিন মূলত ‘রাষ্ট্র মেরামতের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সময়। এই সময়ে বড় কোনো অবকাঠামোগত প্রকল্পের চেয়ে নীতিনির্ধারণী সংস্কার এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হবে।
জানা গেছে, প্রথম একশ দিনের পরিকল্পনা ও নির্বাচনী ইশতেহার মোতাবেক বিভিন্ন কর্মসূচি অব্যাহতভাবে পালন করছে সরকার। এরই মধ্যে নারীর ক্ষমতায়ন, খাদ্য নিরাপত্তা এবং হতদরিদ্র পরিবারের জীবনমান উন্নয়নে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ১০ মার্চ ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় পাইলট প্রকল্পের আওতায় হতদরিদ্র নারীদের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ উদ্বোধন করেছেন। এই কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত ৩৭ হাজার ৫৬৭ জন নারী মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সরাসরি তাদের মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ভাতা পাবেন। সর্বশেষ পহেলা বৈশাখে (১৪ এপ্রিল) কৃষক কার্ড বিতরণ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে তিনি স্থানীয় ১৫ জন কিষান-কিষানির হাতে কৃষক কার্ড ও গাছের চারা তুলে দেন। প্রথম ধাপে সারা দেশের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলায় প্রায় ২১ হাজার ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকের মধ্যে এই কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ১৬ মার্চ দিনাজপুরের কাহারোলে সাহাপাড়া খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধনের মাধ্যমে দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির সূচনা করেছেন। এই উদ্যোগের লক্ষ্য আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-নালা-খাল খনন করে সেচব্যবস্থা উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং কৃষি উৎপাদন বাড়ানো। প্রথম পর্যায়ে ৫৩টি জেলায় প্রায় ১২০০ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হবে। দেশের বিভিন্ন স্থানে খালখনন কর্মসূচি চলমান রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দক্ষ জনগোষ্ঠী তৈরি, শিক্ষার উন্নয়ন এবং সুশাসনের রূপরেখা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি নতুন সরকারের জন্য অন্যতম প্রাথমিক চ্যালেঞ্জ ও লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনী ইশতেহারে বেশকিছু বিষয়ের কথা আগেই জানিয়েছেন। তার প্রত্যাশা—‘ন্যায্য, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’ গড়া। বিএনপির ইশতেহারের মূলমন্ত্র হলো—‘সবার আগে বাংলাদেশ’। বিশেষত, শিক্ষা ও দক্ষতা এবং কর্মসংস্থানের প্রাধান্য বিএনপির ইশতেহারের কেন্দ্রবিন্দু। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, সব পরিবারে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, স্বাস্থ্য কার্ড, কৃষি কার্ড প্রদানের পাশাপাশি তরুণদের জন্য চাকরি-সংস্থান সৃষ্টির ব্যাপক কর্মসূচির বাস্তবায়ন। এ ছাড়াও ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ, ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ধর্মগুরুদের মাসিক ভাতা প্রদান করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের দুই মাসের বড় সাফল্য প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কালবেলাকে বলেন, দুই মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় সাকসেস তো হচ্ছে—যে কমিটমেন্টগুলো আমরা করেছিলাম আমাদের নির্বাচনের আগে তা বাস্তবায়ন করতে শুরু করতে পেরেছি। তার মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড পাইলট প্রজেক্ট আমরা শুরু করে দিয়েছি, কৃষকদের ১০ হাজার টাকার কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ, সারা দেশে খাল খনন কর্মসূচি, ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ধর্মগুরুদের মাসিক ভাতা প্রদান শুরু করতে পেরেছি। পয়লা বৈশাখে কৃষক কার্ড দেওয়া শুরু হয়েছে। সব মিলিয়ে দিস ইজ ভেরি বিগ এচিভমেন্টস। এটা ছোটখাটো কোনো ব্যাপার না। তিনি বলেন, তবে এটাও ঠিক, বড় রকমের একটি ঝামেলাও এসেছে। বিএনপির গভর্নমেন্ট যখনই আসে তখনই একটি করে ঝামেলা আসে, এর আগেও দেখা গেছে। এবার এসেছে ইরান যুদ্ধ। এ যুদ্ধের ফলে যে তেলের দাম বেড়ে গেছে, বড় রকমের সমস্যা তৈরি হয়েছে। আল্লাহর রহমত যে, এখন পর্যন্ত যোগ্যতার সঙ্গে এ জিনিসগুলোকে মোকাবিলা করা গেছে। তার মধ্যে সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয় হচ্ছে যে, তেলের দাম এখনো বাড়েনি। তেল নিয়ে বড় রকমের কোনো স্ক্যান্ডাল তৈরি হয়নি। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।
জানা গেছে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে বৈপ্লবিক পদক্ষেপ নিয়েছে বিএনপি সরকার। সরকারি-বেসরকারি অফিস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়ার কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা বন্ধ এবং অফিসের কর্মঘণ্টা পুনর্নির্ধারণের মাধ্যমে বিদ্যুতের ওপর চাপ কমানো হয়েছে। সরকারি পর্যায়ে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের অপচয় রোধে কঠোর তদারকি শুরু হয়েছে। ভিআইপি প্রটোকল ও অপ্রয়োজনীয় গাড়ি ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের ভিত্তি মজবুত করতে সরকার কৃষকদের অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
বিএনপি চেয়ারপারসনের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য বদরুল আলম চৌধুরী শিপলু মনে করেন, ফ্যাসিবাদের সময়কালের দুর্নীতি দুঃশাসনে পর্যুদস্ত একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল শাসন কাঠামো আর অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে বিএনপি সরকার যাত্রা শুরু করেছে। জনগণের মনে শান্তি নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই হচ্ছে আমাদের সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। জনজীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ উদ্যোগ গ্রহণ করছে। দেশের প্রতিটি সাংবিধানিক এবং সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চলবে বিধিবদ্ধ নীতি নিয়মে। দলীয় কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব প্রতিপত্তি অথবা জোর জবরদস্তি নয়; আইনের শাসনই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার শেষ কথা।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম কালবেলাকে বলেন, বিএনপি সরকার মাত্র দুই মাস পার করল। সে হিসাবে সরকারের সাফল্যের পাল্লা ভারী। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রোটোকাল হ্রাস করা, মানুষের মাঝে মিশে যাওয়ার প্রবণতা, সকাল বেলায় সচিবালয়ে অফিস করাসহ বিভিন্ন ইতিবাচক পদক্ষেপ জনগণের মাঝে প্রশংসিত হচ্ছে। তবে ইরান যুদ্ধের কারণে পরিস্থিতি কিছুটা সংকটজনক। হয়তো প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী পদক্ষেপে তা একটি স্থিতিশীলতার দিকে যাবে। যদিও একটি সরকারের কর্মকাণ্ড মূল্যায়নের জন্য দুই মাস যথেষ্ট সময় নয়।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সাহাবুল হক কালবেলাকে বলেন, গত দুই মাসে বিএনপি সরকার গঠনের পর তাদের পারফরম্যান্সে ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় দিকই পরিলক্ষিত হচ্ছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—সংসদে আলোচনা সংস্কৃতির পুনরুজ্জীবন। বিভিন্ন বিষয়ে সংসদ সদস্যরা কথা বলার সুযোগ পাচ্ছেন, যা গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করে। নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া কিছু প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নও শুরু হয়েছে—যেমন গরিব ও দুস্থ মানুষের জন্য সহায়তা কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড এবং খাল খনন কর্মসূচি। এসব উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি করেছে। প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত আচরণ—সরল জীবনযাপন, সংযত বক্তব্য, যানজটে সাধারণ মানুষের মতো অপেক্ষা করা, এমনকি ছুটির দিনেও কাজ করা—এগুলো ইতিবাচক জনমত গঠনে ভূমিকা রাখছে।
তিনি বলেন, তবে নেতিবাচক দিকও রয়েছে। দ্রব্যমূল্য এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি, যা সাধারণ মানুষের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। জ্বালানি তেলের সংকট নিয়ে সরকারের বক্তব্য ও বাস্তবতার মধ্যে অসামঞ্জস্য দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকে গভর্নর নিয়োগ-সংক্রান্ত বিতর্কও সরকারের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। পাশাপাশি ‘জুলাই সনদ’ ও গণভোট ইস্যুতে সরকারের অস্পষ্ট অবস্থান জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। কিছু ব্যাংকে সাবেক লুটেরা ফিরে আসছে বলে জানা যাচ্ছে।