বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩
শেখ হারুন
প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৮ পিএম
প্রিন্ট সংস্করণ

অপারেটরদের মামলার ফাঁদে বিটিআরসি

আইনি লড়াই সামলাতেই সময় পার
অপারেটরদের মামলার ফাঁদে বিটিআরসি

টেলিযোগাযোগ খাতে সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া। লাইসেন্স ফি, রেভিনিউ শেয়ার, স্পেকট্রাম চার্জ, অডিট আপত্তি কিংবা অন্যান্য পাওনা পরিশোধে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) দাবি উত্থাপন করলেই আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছে একের পর এক প্রতিষ্ঠান। ফলে সরকারের পাওনা বছরের পর বছর ধরে আটকে থাকছে মামলার জালে। এ কারণে একদিকে বাড়ছে অনিষ্পন্ন অডিট আপত্তির সংখ্যা, অন্যদিকে আদালতের দীর্ঘসূত্রতায় আটকে যাচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব। এতে রাজস্ব আদায়ের চেয়ে আইনি লড়াই সামলাতেই বেশি সময় ব্যয় করতে হচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটিকে।

বিটিআরসির সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে কমিশনের অনিষ্পন্ন সরকারি অডিট আপত্তির সংখ্যা ১৭৬টি। এসব আপত্তির বিপরীতে সরকারের দাবি ৫৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে অডিট আপত্তি-সংশ্লিষ্ট ২৭টি মামলায় আটকে আছে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা। বাকি প্রায় ৩১ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা এখনো বিভিন্ন প্রশাসনিক, আর্থিক ও অডিট প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। অন্যদিকে, কমিশন ও বিভিন্ন অপারেটর কিংবা লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের দায়ের করা মোট ৮৮টি মামলা বর্তমানে নিম্ন আদালত থেকে শুরু করে আপিল বিভাগ পর্যন্ত বিচারাধীন রয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিটিআরসির ৩০৬তম কমিশন সভার কার্যবিবরণীতে উঠে এসেছে এসব তথ্য। কমিশনের পর্যবেক্ষণ বলছে, বছরের পর বছর মামলা ঝুলে থাকায় সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। তাই এবার মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি এবং পাওনা আদায়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

অডিট আপত্তির বিশাল অঙ্ক: বিটিআরসির কমিশন সভার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১৭৬টি অডিট আপত্তির মধ্যে ৫২টি সাধারণ, ৭০টি অগ্রিম এবং ৫৪টি খসড়া আপত্তি রয়েছে। সাধারণ আপত্তিতে সংশ্লিষ্ট অর্থের পরিমাণ ২ হাজার ৪২০ কোটি টাকা। অগ্রিম আপত্তিতে রয়েছে ২২ হাজার ৬৮৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকা এবং খসড়া আপত্তিতে রয়েছে ৩০ হাজার ১৬২ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে মোট অঙ্ক দাঁড়িয়েছে ৫৫ হাজার ২৭২ কোটি ৯২ লাখ ১৬ হাজার ৪৪১ টাকা। কমিশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এসব আপত্তির উল্লেখযোগ্য অংশ দীর্ঘদিন ধরে নিষ্পত্তি না হওয়ায় সরকারের রাজস্ব আদায় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, এ অর্থের সবটাই তাৎক্ষণিকভাবে আদায়যোগ্য নয়। কারণ অনেক আপত্তি এখনো নিষ্পত্তির বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। কোনোটি নিরীক্ষা পর্যায়ে, কোনোটি ব্যাখ্যা যাচাইয়ের ধাপে, আবার কোনোটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে এসব আপত্তি নিষ্পত্তি না হওয়ায় সরকারি পাওনার অনিশ্চয়তা ক্রমেই বাড়ছে।

দাবি উঠলেই আদালতে অপারেটর, মামলায় ঝুলছে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা: কমিশনের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে দেখা গেছে, বড় অঙ্কের বকেয়া রাজস্ব, রেভিনিউ শেয়ার, লাইসেন্স ফি কিংবা অডিট আপত্তির দাবি উঠলেই সংশ্লিষ্ট অপারেটরগুলোর একটি বড় অংশ আদালতের আশ্রয় নেয়। এর ফলে আদায়ের প্রক্রিয়া দীর্ঘ হয় এবং বছরের পর বছর রাজস্ব অনিশ্চয়তায় পড়ে থাকে। বর্তমানে নিম্ন আদালত, হাইকোর্ট, কোম্পানি বেঞ্চ এবং আপিল বিভাগ—সব স্তরেই মামলা বিচারাধীন রয়েছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একই দাবিকে কেন্দ্র করে একাধিক আদালতে পৃথক আইনি কার্যক্রমও চলছে।

বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিভিন্ন আদালতে মোট ৮৮টি মামলা বিচারাধীন। এর মধ্যে ২৭টি দেওয়ানি, সার্টিফিকেট ও রিভিশন মামলা, ২৪টি ফৌজদারি মামলা, ছয়টি রিট এবং আপিল বিভাগ ও কোম্পানি বেঞ্চে ৩১টি মামলা। মামলাগুলোর বড় অংশ বহু বছর ধরে বিচারাধীন। কোনো কোনো মামলায় একাধিক স্তরে শুনানি চলছে। বিচারাধীন মামলাগুলোর বড় অংশই বকেয়া রাজস্ব, লাইসেন্স ফি, রেভিনিউ শেয়ার এবং বিভিন্ন আর্থিক দাবিকে কেন্দ্র করে।

কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এ মামলাগুলোর মধ্যে অডিট আপত্তি-সংশ্লিষ্ট ২৭টি মামলায় ঝুলে আছে ২৩ হাজার ৯৩২ কোটি ৮৯ লাখ ৩৫ হাজার ৩৯১ টাকা। অর্থাৎ মোট অডিট দাবির প্রায় অর্ধেকই বর্তমানে আইনি জটিলতায় আটকে রয়েছে। মামলা সংক্রান্ত বকেয়ার তালিকায় সবচেয়ে বড় দাবি রয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে। এরপরে রয়েছে রবি আজিয়াটা। এ ছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটক এবং টেলিযোগাযোগ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিটিসিএলের বিপরীতে অডিট আপত্তির পরিমাণ কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত অডিট দাবির চেয়েও বেশি।

কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বড় অঙ্কের দাবি উঠলেই অধিকাংশ বড় অপারেটর আদালতের শরণাপন্ন হয়। অনেক প্রতিষ্ঠান মামলাকে সময়ক্ষেপণের কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছে। আদালতে মামলা হওয়ার পর আদায় কার্যক্রম দীর্ঘ সময়ের জন্য স্থগিত হয়ে যায়। ফলে কমিশনকে বছরের পর বছর মামলা চালাতে হয় এবং সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে।

অপারেটরভিত্তিক মামলার চিত্র: বিটিআরসির নথি অনুযায়ী, বিচারাধীন মামলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় দেওয়ানি দুটি মামলা দেশের শীর্ষ দুই মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন ও রবি আজিয়াটা সংশ্লিষ্ট। ২০১৯ সালে দায়ের করা ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকার কমিশনের অডিট দাবিকে চ্যালেঞ্জ করেছে গ্রামীণফোন। একইভাবে রবি আজিয়াটা ৮৬৭ কোটি ২৩ লাখ ৯১ হাজার ৪৭৬ টাকার দাবির বিরুদ্ধে মামলা করেছে।

সার্টিফিকেট আদালতে সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে বিভিন্ন টেলিযোগাযোগ লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বকেয়া রাজস্ব আদায়ে। এসব মামলার মধ্যে ভিশন টেলের বিরুদ্ধে ১৯৯ কোটি ৬৩ লাখ টাকা, অ্যাপল গ্লোবাল টেলের বিরুদ্ধে ১৩৭ কোটি ১৯ লাখ, কে টেলিকমের বিরুদ্ধে ১৩৩ কোটি ১০ লাখ, রাতুল টেলিকমের বিরুদ্ধে ১৩২ কোটি ২৩ লাখ, বেসটেক টেলিকমের বিরুদ্ধে ১৩০ কোটি ১৪ লাখ, আগুর ওয়্যারলেসের বিরুদ্ধে ১১৩ কোটি ২৫ লাখ ও টেলক্স লিমিটেডের বিরুদ্ধে ১০৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকা বকেয়া আদায়ে মামলা চলছে। রাতুল টেলিকমের মামলায় পরবর্তী সময়ে রিভিশন আবেদনও করা হয়েছে, যা বর্তমানে বিচারাধীন।

এ ছাড়া বাংলালায়ন কমিউনিকেশনের বিরুদ্ধে ২১২ কোটি ২৮ লাখ টাকা, বিডিক্সের (বিআইইএল) বিরুদ্ধে ৭৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, মাইক্রো ট্রেডের বিরুদ্ধে ৭৭ কোটি ৯০ লাখ, ক্লাউড টেলের বিরুদ্ধে ৪৭ কোটি ৩০ লাখ, আমরা টেকনোলজিসের বিরুদ্ধে ২৭ কোটি ৭৩ লাখ, আইডিয়া কমিউনিকেশনের বিরুদ্ধে ২১ কোটি ১২ লাখ, ওয়ার্ল্ডটেল বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ১৩ কোটি ৪১ লাখ এবং ডিজিটাল কানেক্টিভিটির বিরুদ্ধে প্রায় ৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা বকেয়া আদায়ে পৃথক সার্টিফিকেট মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি আইডিএস বাংলাদেশ, সাইন-টেন (বিডি), জে এফ অপটিক্যাল, বিনিত মোবাইল, মিলোডিক বাংলাদেশ ও আলভি এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধেও বকেয়া আদায়ে মামলা করেছে কমিশন।

বন্ধ হয়ে যাওয়া মোবাইল অপারেটর সিটিসেলের (প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম) বিরুদ্ধেও কমিশনের আইনি লড়াই অব্যাহত রয়েছে। সার্টিফিকেট আদালতে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে প্রায় ৪৪৯ কোটি টাকা বকেয়া আদায়ে মামলা রয়েছে। তবে সুদ ও অন্যান্য সমন্বয়ের পর হালনাগাদ পাওনার পরিমাণ প্রায় ৩৭৪ কোটি ৬৭ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। একই বকেয়া আদায়কে কেন্দ্র করে উচ্চ আদালতের কোম্পানি বেঞ্চেও পৃথক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

নিম্ন আদালতে ফৌজদারি মামলাগুলোর বড় অংশই চেক ডিজঅনার, প্রতারণা ও আর্থিক অনিয়মসংক্রান্ত। এসব মামলার মধ্যে ভিশন টেলের বিরুদ্ধে প্রায় ১৯ কোটি ৮৮ লাখ টাকা এবং পৃথক আরেক মামলায় ৮ কোটি টাকার অভিযোগ রয়েছে। টেলক্স লিমিটেডের বিরুদ্ধে প্রায় ২৯ কোটি ৬১ লাখ টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে একটি মামলা চলছে। আরেকটি মামলায় টেলক্সের বিরুদ্ধে ১৫০ কোটি টাকার যৌথ জরিমানার বিষয়ও বিচারাধীন। বাকি ফৌজদারি মামলাগুলোর বেশিরভাগেই আসামিদের বিচারিক অবস্থার বিবরণ থাকলেও নির্দিষ্ট আর্থিক অঙ্ক উল্লেখ নেই।

উচ্চ আদালতের কোম্পানি বেঞ্চ ও আপিল বিভাগে বিচারাধীন ৩১টি মামলার বড় অংশই নিম্ন আদালতের বকেয়া রাজস্বসংক্রান্ত মামলার ধারাবাহিকতা। এসব মামলার মধ্যে সিটিসেল-সংক্রান্ত তিনটি মামলায় প্রায় ৩৭৪ কোটি ৬৭ লাখ টাকা, অ্যাপল গ্লোবাল টেল-সংক্রান্ত পাঁচটি মামলায় ১০৭ কোটি ১৯ লাখ, ভিশন টেল-সংক্রান্ত দুটি মামলায় ১৯১ কোটি ৬৩ লাখ, বেসটেক টেলিকম-সংক্রান্ত পাঁচটি মামলায় ১৩০ কোটি ১৪ লাখ এবং টেলক্স-সংক্রান্ত চারটি মামলায় প্রায় ১৩৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকার দাবি নিয়ে আইনি লড়াই চলছে। এসব মামলায় কোম্পানি অবলোপন, বকেয়া রাজস্ব আদায় এবং কমিশনের আর্থিক দাবির বৈধতা নিয়ে শুনানি চলছে।

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানও বকেয়ার তালিকায়: বেসরকারি মোবাইল অপারেটরদের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার দাবি থাকলেও বিটিআরসির নথিতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও বড় অঙ্কের অডিট আপত্তির তথ্য উঠে এসেছে। বিশেষ করে রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটক এবং টেলিযোগাযোগ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিটিসিএলের বিপরীতে অডিট আপত্তির পরিমাণ কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে সম্মিলিত দাবির চেয়েও বেশি।

কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, টেলিটকের বিরুদ্ধে ১০টি অডিট আপত্তিতে সংশ্লিষ্ট অর্থের পরিমাণ ১০ হাজার ৩৪৯ কোটি ৬৮ লাখ ৭১ হাজার ৭৩২ টাকা। অন্যদিকে, বিটিসিএলের বিরুদ্ধে পাঁচটি অডিট আপত্তিতে সংশ্লিষ্ট অর্থের পরিমাণ ২ হাজার ৭৬৮ কোটি ৪২ লাখ ১২ হাজার ৭৩২ টাকা। অর্থাৎ শুধু এ দুই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেই অডিট আপত্তির পরিমাণ ১৩ হাজার কোটি টাকার বেশি। তবে এসব অডিট আপত্তির সবই আদালতে বিচারাধীন নয়।

কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা কালবেলাকে বলেন, বড় অঙ্কের দাবি উঠলেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো আদালতের আশ্রয় নেয়। অনেক ক্ষেত্রে একই দাবিকে কেন্দ্র করে একাধিক আদালতে পৃথক মামলা হয়। এতে একই বিষয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে দীর্ঘ আইনি লড়াই চলে। একটি মামলা শেষ হতে কয়েক বছর লেগে যায়। এর মধ্যে নতুন নতুন মামলাও যুক্ত হয় ফলে কমিশনের কর্মকর্তাদের বড় একটি অংশকে নিয়মিত আদালতে হাজিরা, আইনজীবীদের সঙ্গে সমন্বয় এবং মামলার নথিপত্র প্রস্তুত করতেই সময় দিতে হচ্ছে।

মামলার বাইরেও আটকে ৩১ হাজার কোটি টাকা: বিচারাধীন মামলায় আটকে থাকা ২৩ হাজার ৯৩২ কোটি টাকার বাইরেও প্রায় ৩১ হাজার ৩৪০ কোটি টাকার অডিট আপত্তি এখনো আদালতে যায়নি। কমিশনের নথি অনুযায়ী, এসব আপত্তির মধ্যে সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল (এসওএফ), স্পেকট্রাম বরাদ্দ, বিভিন্ন লাইসেন্স ফি, রেভিনিউ শেয়ার এবং অন্যান্য আর্থিক দাবিও রয়েছে। এসওএফ-সংক্রান্ত পাঁচটি আপত্তিতে জড়িত অর্থের পরিমাণ প্রায় ৫ হাজার ৫২৫ কোটি টাকা।

অন্যদিকে, স্পেকট্রাম বরাদ্দ-সংক্রান্ত আপত্তির পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ২৪৩ কোটি টাকা। এসব আপত্তি নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, অপারেটর এবং নিরীক্ষা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে রোডম্যাপ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে কমিশন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ৩০৬তম কমিশন সভায় কমিশনার (এএলএল) এবং মহাপরিচালকের (প্রশাসন) সমন্বয়ে মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। একই সঙ্গে প্রতিটি মামলা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, আইনজীবীদের সঙ্গে সমন্বয় এবং আদালতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র দ্রুত উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়। লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাওনা পরিশোধ না করলে প্রয়োজনে টেলিযোগাযোগ আইনের বিধান অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে তাদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করার মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

যা বলছে বিটিআরসি: সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে লিখিত জবাবে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) কালবেলাকে জানিয়েছে, পাওনা আদায়-সংক্রান্ত মামলাগুলো দেশের উচ্চ ও নিম্ন উভয় আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। বকেয়া-সংক্রান্ত মামলাগুলোর মধ্যে অপারেটর কর্তৃক বিটিআরসির অডিট দাবির বিরুদ্ধে দায়ের করা দেওয়ানি মামলা যেমন রয়েছে, তেমনি বকেয়া রাজস্ব আদায়ের জন্য অপারেটরের বিরুদ্ধে বিটিআরসির দায়ের করা সার্টিফিকেট মামলাও রয়েছে। এ ছাড়া হাইকোর্ট বিভাগের কোম্পানি বেঞ্চে কোম্পানির অবসায়ন-সংক্রান্ত ম্যাটারও রয়েছে। রিট মামলা, রিভিশন মামলা এবং চেক-সংক্রান্ত ও অন্যান্য ফৌজদারি মামলাও চলমান রয়েছে।

বিটিআরসি জানিয়েছে, সরকারি পাওনা আদায়ে কমিশন কোনো ধরনের ছাড় দেওয়ার নীতি অনুসরণ করছে না। প্রতিটি মামলা নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে এবং প্যানেল আইনজীবীদের মাধ্যমে আদালতে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করা হচ্ছে। যেসব সার্টিফিকেট মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে, সেগুলো কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট থানার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি কোম্পানি আদালতে চলমান মামলাগুলোতেও কমিশন প্রয়োজন অনুযায়ী পক্ষভুক্ত হচ্ছে, যাতে সরকারের স্বার্থ সংরক্ষিত থাকে। যেখানে আইনি সুযোগ রয়েছে, সেখানে আদালতের অনুমতি নিয়ে সমঝোতার মাধ্যমেও পাওনা আদায়ের চেষ্টা চলছে।

কমিশন বলছে, সংশ্লিষ্ট মামলাগুলো নিষ্পত্তি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে কমিশন সভায় সিদ্ধান্ত নিয়েও কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তদুপরি বকেয়া আদায়ের লক্ষ্যে বিভিন্ন মামলায় উপর্যুক্ত গৃহীত পদক্ষেপগুলোর পাশাপাশি বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে ‘সংশ্লিষ্ট লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান’-এর আর্থিক তথ্য তলব ও ব্যাংক হিসাব জব্দ করতে বকেয়া সরকারি পাওনাগুলো আদায়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ (সংশোধিত ২০২৬) আইন, ২০০১-এর ধারা-২৬ (৩) এ সংশ্লিষ্ট বিধান সন্নিবেশ করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী বিটিআরসি থেকে সময়ে সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচের রেফারিং নিয়ে নিউইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণ

জয়ের পর কান্নায় ভেঙে পড়লেন স্কালোনি, কথা শেষ না করেই চলে গেলেন

প্রথমার্ধের বিরতিতে গোলশূন্য কলম্বিয়া-সুইজারল্যান্ড

পিছিয়ে থেকে ফিরে আসা সহজ ছিল না : মেসি

মিশরের দ্বিতীয় গোল বাতিল নিয়ে তীব্র সমালোচনা, প্রশ্নের মুখে ভিএআর

রেফারি অন্যায় করেছেন, আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট : জিকো

এমনও রাতে মেসির চোখে কেন জল?

কলম্বিয়া ও সুইজারল্যান্ডের শুরুর একাদশ

৯৬ বছরের ‘অবিশ্বাস্য’ রেকর্ড ছুঁলেন মেসি

ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটিতে ‘বোর্ড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটরস’ দিল সরকার

১০

মিশরকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা, মেসিদের পরের ম্যাচ কবে, প্রতিপক্ষ কে?

১১

‎কক্সবাজার জেলারও বুধবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত 

১২

অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন আর্জেন্টিনার, মিশরকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা

১৩

মেসির জাদুতে সমতায় আর্জেন্টিনা

১৪

বিশ্বকাপে টানা দুই পেনাল্টি মিস, লজ্জার এই রেকর্ডে নাম শুধুই মেসির

১৫

আর্জেন্টিনার জালে আরও এক গোল মিসরের

১৬

মেসির পেনাল্টি ‘কলঙ্কে’ বিপদে আর্জেন্টিনা 

১৭

দরজা ভেঙে যুবকের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার

১৮

দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক রূপান্তরে বাংলাদেশের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হয়েছে: সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ

১৯

বন্যায় চট্টগ্রাম ও রাঙামাটিতে বুধবার এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

২০
X