

স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে বিশ্বাস করেন, তার দল টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট ফ্রান্সকে বিদায় জানিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার সামর্থ্য রাখে। মঙ্গলবার রাতে ডালাসের প্রথম সেমিফাইনাল সামনে রেখে তিনি জানিয়েছেন, এ ম্যাচ ঘিরে তার প্রত্যাশা ‘খুবই বেশি’।
কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারানোর পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, এটি ছিল পুরো দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। দুই বদলি মিডফিল্ডার ফাবিয়ান রুইস ও মিকেল মেরিনো গোল করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘আমরা দুদলই ফাইনালে ওঠার দাবিদার হিসেবে বিবেচিত হতে পারি। ফ্রান্সের অসাধারণ সামর্থ্য রয়েছে, আমাদেরও আছে। আগামী ম্যাচ নিয়ে আমাদের প্রত্যাশা অনেক বেশি। প্রতিপক্ষ কতটা শক্তিশালী, তা আমরা জানি। তবে এটাও জানি, শেষ দুটি সেমিফাইনালে তাদের হারাতে পেরেছি একমাত্র আমরাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার মনে হয় ম্যাচটি পুরোপুরি উন্মুক্ত। জিততে হলে সতেজ ও উদ্যমী খেলোয়াড়দের দরকার হবে। আমাদের নিজেদের সেরাটা খেলতে হবে, আরও উন্নতি করতে হবে। যেহেতু আমরা এখানে পৌঁছেছি, তাই সর্বস্ব উজাড় করেই লড়ব।’ স্পেন আত্মবিশ্বাস পাচ্ছে ইউরো ২০২৪-এর সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-১ গোলে হারানোর স্মৃতি থেকে। সেই জয়ের পথ ধরেই তারা শেষ পর্যন্ত ইউরোপের শিরোপা জিতেছিল। অন্যদিকে, টানা তৃতীয় বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা ফ্রান্স কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোকে ম্যাচের প্রতিটি বিভাগেই ছাপিয়ে গেছে। তবুও নিজের স্কোয়াডের মান ও গভীরতা নিয়ে আস্থাশীল দে লা ফুয়েন্তে। বেলজিয়ামের বিপক্ষে তার একাদশে ফাবিয়ান রুইসকে শুরু থেকেই খেলানো এবং পেদ্রিকে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে বদলি হিসেবে নামানোর সিদ্ধান্ত অনেকের ভ্রু কুঁচকে দিয়েছিল। তবে রুইস তার কোচের আস্থার প্রতিদান দেন বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোল করে। অন্যদিকে, মিকেল মেরিনো বেঞ্চ থেকে নেমে পর্তুগালের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের জয়ের গোলের পুনরাবৃত্তি করেন। দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘মাঠে থাকা প্রত্যেক খেলোয়াড়ের নির্দিষ্ট দায়িত্ব থাকে এবং তারা সেটি দারুণভাবে পালন করে। পেদ্রি বিশ্বমানের খেলোয়াড়—সেরাদের একজন, হয়তো সেরাই। কিন্তু ফাবিয়ানও বিশ্বের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার। দুর্ভাগ্যজনকভাবে যারা খেলার সুযোগ পায়নি যেমন মিকেল মেরিনো, মার্তিন জুবিমেন্দি, গাভি কিংবা অন্যরা—তাদের মূল্যায়ন না করাটা অন্যায় হবে। তারা মাঠে থাকা খেলোয়াড়দের মতোই দক্ষ। আমরা প্রতিটি সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সতর্কভাবে বিশ্লেষণ করে এবং প্রতিপক্ষের ধরন বিবেচনায় নিয়ে নিই।’ স্পেনের বিপক্ষে হারের পর বেলজিয়ামের কোচ রুডি গার্সিয়াও স্পেনের স্কোয়াডের গভীরতার প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, ‘স্পেনের শক্তি শুধু দু-একজন খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভর করে না; পুরো দলটাই তাদের আসল শক্তি। ইউরোর দলটির সঙ্গেও এই স্কোয়াডের অনেক মিল রয়েছে। জাতীয় দলের জন্য ধারাবাহিকতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন একসঙ্গে খেলা খেলোয়াড়রাই ইতিহাস গড়ে।’ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের দুর্দান্ত ছন্দ থামাতে পারবে কি না, তা অনেকটাই নির্ভর করবে স্পেন নিজেদের পরিকল্পনা কতটা নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে তার ওপর। বেলজিয়ামের বিপক্ষে রদ্রি সর্বোচ্চসংখ্যক বল স্পর্শ করেন এবং ১০৪টি পাসের মধ্যে ৯৮টিই সফলভাবে সম্পন্ন করেন। তবে দ্বিতীয়ার্ধে, বিশেষ করে ফাবিয়ান রুইস মাঠ ছাড়ার পর বেলজিয়াম তাকে স্বাভাবিক অবস্থান থেকে টেনে বের করে আনতে কিছুটা সফল হয়। লামিনে ইয়ামাল ম্যাক্সিম দে কুইপারের পেছনের ফাঁকা জায়গা খুঁজে পেলেও শেষ পাস কিংবা শটে প্রত্যাশিত ধার দেখাতে পারেননি। আর সামনে মিকেল ওয়ারজাবাল খুব একটা খেলায় প্রভাব ফেলতে না পারায় স্পেনের আক্রমণের শেষটা অনেক সময় অসম্পূর্ণ থেকে যায়। তবে এসব ঘাটতি শুধরে নেওয়ার জন্য দে লা ফুয়েন্তে ও তার কোচিং স্টাফের হাতে এখনো কয়েক দিন সময় রয়েছে। এর পাশাপাশি দলকে অনুপ্রাণিত করছে দুটি ব্যক্তিগত মাইলফলকও। গোলরক্ষক উনাই সিমনের ২০২২ বিশ্বকাপ থেকে শুরু হওয়া টানা ৬৫০ মিনিটের রেকর্ড গোল না খাওয়ার ধারার সমাপ্তি ঘটেছে এই ম্যাচে। আর দে লা ফুয়েন্তে নিজে এখন বিশ্বকাপ ও ইউরো মিলিয়ে টানা ১৩ ম্যাচে অপরাজিত। তবে ফ্রান্সের বিপক্ষে এই রেকর্ড আরও দীর্ঘায়িত করতে হলে স্পেনকে দলগতভাবে নিজেদের সেরা ফুটবলই খেলতে হবে। দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘বিশ্বের সেরা দুদল মুখোমুখি হওয়ায় অসাধারণ এক লড়াই হবে। দুদলই দুর্দান্ত, যদিও তাদের খেলার ধরন ভিন্ন। প্রতিপক্ষের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান রেখেই বলছি, আমরা বিশ্বাস করি, যে কোনো দলকে হারানোর সামর্থ্য আমাদের আছে। শুধু এখন যে সমর্থন পাচ্ছি, তা-ই নয়; এই খেলোয়াড়দের প্রতি আমাদের আস্থা, আমাদের সম্ভাবনা এবং আমরা কারা—সে সম্পর্কে সুস্পষ্ট উপলব্ধিই আমাদের আত্মবিশ্বাসের ভিত্তি। আমরা সত্যিই দারুণ একটি অবস্থানে আছি।’