

ফিলিস্তিন ইস্যুতে শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্র দ্বিরাষ্ট্র (ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন আলাদা দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র) সমাধানকে সমর্থন করে আসছে। তবে এখন পর্যন্ত সেটি তারা বাস্তবায়ন করেনি। গত কয়েক দশকে প্রধান মিত্র দেশগুলো স্বীকৃতি দিলেও ওয়াশিংটনের অবস্থান বদলাচ্ছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগে জো বাইডেন প্রশাসনও দুই রাষ্ট্র সমাধানের নীতির প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। কিন্তু এরপরও ভেটো দিয়ে ফিলিস্তিনকে জাতিসংঘের সদস্য হওয়া থেকে বিরত রেখেছে। তাই প্রশ্ন উঠছে, যুক্তরাষ্ট্রের এমন অবস্থানের পেছনের কারণ কী? কেন তারা ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রেখেছে?
এই অবস্থান বুঝতে ইতিহাসের প্রেক্ষাপট ও দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি জানা জরুরি। কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনের নিবন্ধ অনুযায়ী, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অল্প কিছুদিন পর তারা এতে জড়িত হয়। ১৯৪৬ সালে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে মিলে যুক্তরাষ্ট্র একটি অনুসন্ধান কমিশনে অংশ নেয়, যেখানে প্রস্তাব ওঠে হলোকাস্ট থেকে বেঁচে যাওয়া এক লাখ মানুষকে ফিলিস্তিনে পুনর্বাসন করা হবে। এটি ইহুদি কিংবা আরব—কোনো ধরনের রাষ্ট্রই হবে না। পরে ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল প্রতিষ্ঠা হলে যুক্তরাষ্ট্রই প্রথম দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। বিরোধিতা করে প্রতিবেশী আরব দেশগুলো। ১৯৬৭ সালে ইসরায়েলের সঙ্গে মিশর, ইরাক, জর্ডান, লেবানন ও সিরিয়ার ৬ দিনের যুদ্ধ হয়। পরে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া ও জাতিসংঘ মিলে সংঘাত মীমাংসার চেষ্টা করে। কিন্তু ১৯৭৩ সালে ইসরায়েলের সঙ্গে মিশর-সিরিয়ার ফের সংঘাত শুরু হয়। এতে ইসরায়েল জয়ী হলে আরব দেশগুলো বড় ধরনের মানসিক ধাক্কা খায়। যেটির প্রতিক্রিয়ায় আরব দেশগুলো ইসরায়েলের সমর্থনকারী যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তেল নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
১৯৭৩ সালের যুদ্ধটি ফিলিস্তিনি আন্দোলনের জন্যও আশীর্বাদ হয়ে আসে। পরের বছর আরব লিগ ফিলিস্তিনি মুক্তি সংস্থাকে (পিএলও) ‘ফিলিস্তিনি জনগণের একমাত্র বৈধ প্রতিনিধি’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
মধ্যপ্রাচ্য দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত। বিল ক্লিনটন থেকে শুরু করে পরবর্তী সব প্রশাসনই কিছু স্বার্থ সামনে রেখে এগিয়েছে। যেমন— জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ইরানি প্রভাব ঠেকানো, ইসরায়েল ও আরব মিত্রদের অস্তিত্ব ও নিরাপত্তা সুরক্ষিত করা, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা এবং গণতন্ত্র প্রচার করা।
কিন্তু ইসরায়েলের নিরাপত্তা সুরক্ষিত করার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ কী? সাবেক মার্কিন কূটনীতিক ডেনিস জেট বলছেন, এই প্রশ্নের সহজ উত্তর হলো—দেশীয় রাজনীতি।
ট্রাম্পের অবস্থান: সিএনএন বলছে, নেতানিয়াহু প্রশাসনের দৃঢ় সমর্থক হওয়ার অবস্থান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে আসার কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না। ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তি দিচ্ছে, ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়াটা হামাসকে আরও উসকে দেবে, যা বিপরীতে ইসরায়েলের আগ্রাসী প্রতিক্রিয়া বাড়াবে।
পরিষ্কার করে বললে, ট্রাম্প কখনোই দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের বিষয়ে একমত নন। দ্বিতীয় দফায় তিনি ক্ষমতায় বসার কিছুদিন আগেও এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি এক রাষ্ট্রকেই পছন্দ করি, যা উভয় পক্ষই পছন্দ করে। আমি এক রাষ্ট্রের সঙ্গেই সুখী।’