

এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের ম্যাচে মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে ভারত। সেই ম্যাচে ভারতকে হারিয়ে ‘প্রথম জয়’ পেতে চান সামিত সোম। এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তৃতীয় রাউন্ডে বাংলাদেশ চারটি ম্যাচ খেলে এখনো জয়ের দেখা পায়নি। শনিবার অনুশীলনে নামার আগে কানাডা প্রবাসী এই মিডফিল্ডার ভারতের বিপক্ষে ‘প্রথম জয়’ পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী।
এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের প্রথম লেগের ম্যাচটি ড্র হয়েছিল। ফিরতি লেগের ম্যাচ খেলতে গতকাল ঢাকায় এসেছে ভারত। দলে অভিজ্ঞ সুনীল ছেত্রী না থাকলেও রায়ান উইলিয়ামসকে রাখা হয়েছে। ৩২ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের জন্ম ও বেড়ে ওঠা অস্ট্রেলিয়ায়। ২০১৯ সালে তিনি অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলের হয়ে একটি ম্যাচও খেলেছেন। তবে ঘরের মাঠে ভারতীয় দলের মোকাবিলা করতে ভয় পাচ্ছে না বাংলাদেশ। সামিত বলেছেন, ‘হ্যাঁ, মিডফিল্ডের নিয়ন্ত্রণ রাখার ব্যাপারে আমরা আত্মবিশ্বাসী। আমি মনে করি, পুরো দল, গোলকিপার, ডিফেন্স, মিডফিল্ড, স্ট্রাইকিং—সব পজিশনের খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস আছে যে, আমরা ম্যাচটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারব, জিততে পারব। বিগত ম্যাচগুলোতে আমাদের পারফরম্যান্স ভালো হয়েছে, কিন্তু জয়টা পাচ্ছি না। জয়টা আমাদের পাওয়া উচিত। আশা করি, আমরা এবার সেটা পাব।’ ভারতের বিপক্ষে ২০১৯ সালে কলকাতার সল্টলেকে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ে ড্র করেছিল। ৮৮তম মিনিটে গোল খেয়ে ১-১ ড্র করে জামাল ভূঁইয়ারা। সর্বশেষ ম্যাচে পিছিয়ে পড়ে ড্র করেছিল বাংলাদেশ। ভারতের বিপক্ষে ২০০৩ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে মতিউর মুন্নার গোল্ডেন গোলে ২-১ ব্যবধানে শেষ ম্যাচ জিতেছিল বাংলাদেশ। এবারও জিততে চান সামিত। তবে হংকংয়ের বিপক্ষে হারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘ফুটবলে এমন হয় (শেষ দিকে মনোযোগ হারানো), তাই না? আমরা শুধু ভাগ্যকে পক্ষে পাচ্ছি না। এমনকি নেপালের বিপক্ষে ম্যাচে ওরা যে কর্নার কিক পেয়েছে, ওটা আসলে মনে হয় অফসাইডও ছিল, তাই না? কিন্তু ফুটবলে এগুলো হয়। জানি না, কী কারণে আমরা মনোযোগ হারাচ্ছি, কিন্তু আশা করি ভাগ্যকে সামনে পাশে পাব, মনোযোগ হারাব না এবং আমরা যেন ওভাবে গোল হজম না করি। মূল বিষয় হলো, আমাদের মনোযোগ ধরে রাখতে হবে শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত।’ ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে তাদের দুর্বলতা নিয়ে সামিত বলেন, ‘ভারত ভালো দল, কিন্তু তাদেরও দুর্বলতা আছে। ওদের মিডফিল্ড লাইন ও ডিফেন্স লাইনের মাঝে ফাঁক থাকে, জায়গা থাকতে পারে। আপনারা দেখেছেন, নেপাল যেভাবে ডিফেন্ড করেছে, ভারত মনে হয় এত ভালোভাবে ডিফেন্ড করতে পারবে না, স্ট্রাকচার ওইভাবে রাখতে পারবে না। আমরা ওই জায়গায় সুযোগটা নিতে পারব। জানি, ভারত ভালো দল, আমরাও ভালো দল। এই ম্যাচটার অনেক অর্থ আছে, তাই না? যে দ্বৈরথটা আমাদের মধ্যে আছে, ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে, কিন্তু আমরা প্রস্তুত থাকব। আশা করি, আমরা জিততে পারব। আমরা ভালো খেলতে পারি, ভালো পারফরম্যান্স দিতে পারি। যে জয়টা খুঁজছি আমরা, এই মঙ্গলবারের ম্যাচে সেটা আশা করি পাব।’