

কিংবদন্তি নেভিল কার্ডাস বলেছিলেন, ‘স্কোরবোর্ড একটা গাধা।’ কার্ডাসের বক্তব্য নিয়ে কোনো কথা চলে না। শুধু স্কোরবোর্ড দেখেই কাউকে বিচার করা যেমন ঠিক নয়, তেমনি বিনয়ের সঙ্গে এ কথাও বলা যেতে পারে যে ক্রিকেটে পরিসংখ্যানও একটা মাপকাঠি। সেই মাপকাঠিতেই মুশফিকুর রহিমের ১০০ টেস্ট খেলার পরিসংখ্যানটা বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের জন্য আলাদা গুরুত্ব বহন করে।
মুশফিক আজ মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ক্যারিয়ারের শততম টেস্ট খেলতে নামবেন। আজ তার ২০ বছরের ক্রিকেট ক্যারিয়ারের মহত্তম বৃত্ত পূরণের দিন। সেই ২০০৫ সালে লর্ডসে সাদা পোশাকে প্রথমবার বাংলাদেশের হয়ে খেলতে নেমেছিলেন। হাবিবুল বাশার তখন অধিনায়ক। প্রথম ইনিংসে ১৯ রান করে ম্যাথু হগার্ডের বলে আউট হয়েছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে করেছিলেন মাত্র ৩ রান। অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফের বলটা বুঝতে পারেননি। উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছিলেন। মুশফিকের টেস্ট ক্যারিয়ারের সকাল দেখে বোঝা যায়নি টেস্ট ক্যারিয়ারের পড়ন্ত বিকেলেও এমন আলো ছড়াবেন তিনি। ৯৯ টেস্টে ৬৩৫১ রান করেছেন মুশফিক। গড় ৩৮.০৪। সেঞ্চুরি আছে ১২টি। হাফ সেঞ্চুরি ২৭টি। এগুলো করেছেন তিনি উইকেটের পেছনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গ্লাভস পরে দাঁড়িয়ে থাকার গুরু দায়িত্ব সামলানোর পর। এর সঙ্গে যোগ করুন অধিনায়কত্বের চাপ। দেখবেন টেস্ট ব্যাটার মুশফিককে অন্য উচ্চতার ক্রিকেটার মনে হচ্ছে। টেস্টে ১১২টি ক্যাচ নিয়েছেন মুশফিক। অধিকাংশ উইকেটের পেছনে দাঁড়িয়ে। ১৫টি স্ট্যাম্পিং। সব ধরনের ক্রিকেট মিলিয়ে মুশফিকের রান কত জানেন? ৪২৬৮৯। মুশফিকের ব্যাট থেকে বের হওয়া এই সংখ্যাগুলো কথা বলে। যেমন কথা বলে মাত্র ৫২ টেস্টে ৬৯৯৬ রান করা স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের পরিসংখ্যান। ৮০ ইনিংসে যিনি ৯৯.৯৪ গড়ে রান তুলে ‘স্কোরবোর্ড একটা গাধা’—এই প্রবাদের দিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন। মুশফিক সম্ভবত বাংলাদেশ ক্রিকেটের উত্তর প্রজন্মের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন আজ শততম টেস্ট খেলতে নেমে। তিলে তিলে ২০ বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমে তিনি যে ইমারত গড়েছেন, তার সমতুল্য কিংবা কাছাকাছি নমুনা কেউ অদূর ভবিষ্যতে দাঁড় করাতে পারবে বলে মনে হয় না। বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের সেরা ব্যাটার তিনি। পরিসংখ্যান বিবেচনায় বাংলাদেশের প্রেক্ষপটে হয়তো ডনের মতো অবিনশ্বর। আমাদের টেস্ট ক্রিকেটে আরেকজন মুশফিকের পাওয়ার সম্ভাবনা তাই আপাতত নেই।