

ক্লোয়ি কেলির রূপকথার মতো প্রত্যাবর্তনের গল্পটা একটু অন্যরকম। তাই আপনার মনে হতেই পারে ইংলিশ ফুটবলে ধারণার চেয়েও বেশি সফল তিনি। গত বছরের শেষে তিনি সত্যি সত্যি ফুটবল থেকে দূরে সরে যাওয়ার কথা ভাবছিলেন। ২০২০ সালে কেলি যোগ দিয়েছিলেন ম্যানচেস্টার সিটিতে। সেখানে তিনি নিজেকে মানিয়ে নিতে পারছিলেন না। গভীরভাবে অসন্তুষ্ট ছিলেন। কেলির সব সময় মনে হতো ক্লাব তাকে খেলতেও দেবে না, আবার চলে যেতেও দেবে না। ওদিকে এগিয়ে আসছিল ২০২২ সালের ইউরো টুর্নামেন্টের জন্য দল বাছাইয়ের সময়।
সিটির হয়ে খেলার জন্য কেলিকে মাঠে যথেষ্ট সময় দেওয়া হচ্ছিল না। তাই তিনি নিশ্চিত ছিলেন না যে তিনি ইংল্যান্ডের জন্য নির্বাচিত হবেন কি না। সেই সংকটপূর্ণ অভিজ্ঞতা নিয়ে কেলি বলেছেন, ‘আমার মনে আছে আমার মা আমাকে দেখতে এসেছিলেন এবং তার বাড়িতে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তিনি যাননি, কারণ তিনি খুব চিন্তিত ছিলেন।’ কেলির সেই সংকটপূর্ণ সময় শুধু কেটেই যায়নি, এক বছরেরও কম সময় পর এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। ইতিহাসের সৃষ্টিকারী প্রত্যাবর্তনের পর কেলি এখন স্পোর্টস পার্সোনালিটি অব দ্য ইয়ার জেতার অপেক্ষায় আছেন। জানুয়ারির শেষে তাকে আর্সেনালে লোনে দেওয়া হয়েছিল। মে মাসে তিনি দলকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ট্রফি এনে দেন। ফাইনালে বার্সেলোনার বিপক্ষে তারা ছিল আন্ডারডগ। কিন্তু ১-০ গোলে জয় পেয়েছিল আর্সেনাল। জুলাইয়ের শেষে কেলি ইংল্যান্ডের হয়ে সেই পেনাল্টি স্কোরটি করেন, যা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী স্পেনের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইউরো শিরোপা নিশ্চিত করে। নারী ব্যালন ডি’অর প্রতিযোগিতায় পঞ্চম স্থান অর্জন করেন কেলি। প্রথমবারের মতো ফিফপ্রো ওয়ার্ল্ড একাদশে নাম লেখান। এখন অপেক্ষা করছেন স্পোর্টস পার্সোনালিটি অব দ্য ইয়ার জেতার। ২০২৫ সালকে একটি দুর্দান্ত বছরে পরিণত করেছেন কেলি। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই। ফিরে আসা, এটাই আমার ক্যারিয়ারের সেরা বছর করে তুলেছে।’
যদি ভেবে থাকেন কেলি শুধু এ বছরই সাফল্য পেলেন, তাহলে ভুল ভেবেছেন। ২০২২ সালের নারী ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল ম্যাচ স্মরণ করুন। সেই ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল জার্মানি ও ইংল্যান্ড। তুমুল লড়াইয়ের পর ইংল্যান্ড শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে জয়লাভ করে। জয় কিন্তু খুব একটা সহজে আসেনি। ম্যাচের ১১০ মিনিটের মাথায় কেলির গোলই নিশ্চিত করে ইংল্যান্ডের জয়। ২৪ বছরের ক্লোয়ে কেলি সেদিন নিজের শার্ট খুলে হাওয়ায় ঘোরাতে শুরু করেন। ওয়েম্বলির সবুজ গালিচায় তখন তাকে ধরতে ছুটছিলেন দলেরই সতীর্থ জিল স্কট ও লরেন হেম্প। বিশ্বজয়ের আনন্দে তিনি আত্মহারা ছিলেন। সেই ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় একেবারে হট কেক হয়ে গিয়েছিল। শুধু গোলের জন্য নয়, গ্ল্যামারের কারণেও। তার গোলেই প্রথমবার ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জয় করে ইংল্যান্ড। ইংল্যান্ডের পুরুষ ও নারী ফুটবল দল নির্বিশেষে ১৯৬৬ সালের পর থেকে ওটাই প্রথমবার বড় কোনো টুর্নামেন্টে জয়ের স্বাদ পেয়েছিল। কেলির সেই দৌড় দেখে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েছিলেন চ্যাস্টেইন। ৫৪ বছর বয়সী ফুটবলার টুইট করে লিখেছিলেন, ‘তোমার খেলা দেখলাম। অসাধারণ পারফরম্যান্স করেছ ক্লোয়ে কেলি। বাকি জীবন পুরো ইংল্যান্ডবাসীর কাছ থেকে নিখরচায় ডিনার করো।’
কেলির ফুটবল দক্ষতার পেছনে রয়েছে কঠোর পরিশ্রম। তিনি বলেন, ‘আমি মনোবিজ্ঞানীদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করি, যাতে আমার খেলার দক্ষতা শীর্ষে থাকে। এটা রাতারাতি হয় না। আমি মনে করি, আমার ক্যারিয়ার জুড়ে... হয়তো আমি কখনো কখনো খুব বেশি আত্মবিশ্বাসী। কিন্তু আমি সত্যিই নিজেকে সমর্থন করি। আমি বেশিরভাগ সময়ই নিখুঁত ফুটবল খেলতে পছন্দ করি।’