

বিকেলে বাবার দাফন শেষ করে রাতে কৃষি ব্যাংকের এটিএম বুথে ডিউটি পালন করে সকালে এইচএসসি পরীক্ষায় বসা সেই ইকনের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। বুধবার (২২ জুলাই) বাগেরহাটের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর বাতিঘর খ্যাত প্রতিষ্ঠান লতিফ মাস্টার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সিপিএ মো. রফিকুল ইসলাম জগলুর মাধ্যমে ইকনের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার ইচ্ছার কথা জানান তিনি।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে কালবেলা অনলাইনে ইকনের খবর প্রকাশের পর দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ডেপুটি স্পিকারের নির্দেশনার পর সিপিএ মো. রফিকুল ইসলাম জগলু কালবেলার বাগেরহাট প্রতিনিধি রুহুল আমিন বাবুর মাধ্যমে ইকনের পরিবারের খোঁজখবর নেন। এ সময় ইকন ও তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এবং লতিফ মাস্টার ফাউন্ডেশনের পক্ষে তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
লতিফ মাস্টার ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইকনের শিক্ষা ও প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তার বিষয়ে তাকে সহযোগিতা করা হবে।
ইকনকে সহযোগিতার জন্য আরও অনেকেই মৌখিকভাবে আশ্বাস দিয়েছেন। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার কাছে কোনো সহায়তা পৌঁছায়নি।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার সকালে ইকনের বাবা ইসরাফিল দাড়িয়া হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে দুপুরে মারা যান। ৪৬ বছর বয়সী ইসরাফিল জীবিকার তাগিদে মোটরসাইকেল চালিয়ে সংসার চালাতেন। ইকনের দাদার বাড়ি মূলত গোপালগঞ্জ। বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডে গাড়িচালকের চাকরির সুবাদে তিনি এই জেলা শহরে আসেন। অবসরের পর ইকনের দাদা গোপালগঞ্জ ফিরে গেলেও তার বাবা ইসরাফিল রয়ে যান বাগেরহাটে। মা আর মানসিক ভারসাম্যহীন ভাইকে নিয়ে ৪ হাজার টাকার ভাড়া বাসায় তাদের বসবাস।
ইকনকে মঙ্গলবার রাতে এটিএম বুথে বই পড়তে দেখে এগিয়ে যান কালবেলার জেলা প্রতিনিধি। এরপর তার মুখেই শোনেন হৃদয়বিদারক এই ঘটনা।