

কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে প্রায় ৭৬ হাজার দর্শকের সামনে ম্যাচ যেন রূপ নিল রূপকথায়। বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজের ষষ্ঠ অভিযান শুরু করতে লিওনেল মেসি গাঁথলেন তিন গোলের মালা—আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে স্বস্তির সূচনা আর্জেন্টিনার। ম্যাচের নায়ক গড়লেন একাধিক রেকর্ড, ভাসলেন কোচ ও সতীর্থদের প্রশংসায়।
এ হ্যাটট্রিক দিয়ে মেসি স্পর্শ করলেন মিরোস্লাভ ক্লোসার বিশ্বকাপে সর্বকালের সর্বোচ্চ ১৬ গোলের রেকর্ড, বনে গেলেন ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছয় বিশ্বকাপ খেলা ফুটবলারও। ম্যাচের ১৭তম মিনিটে রদ্রিগো ডি পলের নিখুঁত থ্রু বল ধরে দূরপাল্লার শটে জাল কাঁপান মেসি। গোলের পর তার চোখে জল দেখা যায়, যা নিয়ে নিজেই জানান, এই কান্নার সঙ্গে ফুটবলের কোনো সম্পর্ক নেই। দ্বিতীয়ার্ধে আরও দুটি গোল করে সম্পূর্ণ করেন প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিক, পাশাপাশি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে টপকে হয়ে যান বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করা সবচেয়ে বয়স্ক ফুটবলার। জাতীয় দলের জার্সিতে এটি ছিল মেসির দুইশততম ম্যাচ।
ম্যাচ শেষে বিস্ময় আর গর্বের মিশেলে কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেন, ‘ম্যাচ খুবই কঠিন ছিল। চূড়ান্ত ফল এসেছে লিয়োর অসাধারণ নৈপুণ্য এবং খেলোয়াড়দের কষ্ট সহ্য করার মানসিকতার কারণে। মাঝেমধ্যে আলজেরিয়া আমাদের বেশ বিপদে ফেলে দিয়েছিল।’ মেসি প্রসঙ্গে স্কালোনির কণ্ঠে যেন এক চিরন্তন মুগ্ধতার সুর—‘ও যতদিন চাইবে, ততদিনই সেরা থাকবে। আমরা যারা ওকে প্রতিদিন দেখি, তাদের মনে এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। ওকে উপভোগ করতে হবে, ও যখন মাঠে থাকবে না, তখন আমরা খুব মিস করব।’
রদ্রিগো ডি পলের কণ্ঠেও ছিল স্বস্তি আর গর্বের যুগলবন্দি, ‘আমরা প্রথম লক্ষ্য অর্জন করেছি। গতবার আমরা প্রথম ম্যাচ জিততে পারিনি, এবার তা করতে পারাটা দারুণ ব্যাপার। মেসি যেভাবে রেকর্ড ভেঙে চলেছে তাতে আমি খুব খুশি এবং আমার মনে হয়, আমরা তাকে সাহায্য করতে পারি। আমাদের জন্য তার মাঠে থাকাটা সবসময়ই বাড়তি সুবিধা, এমনকি মাঠের বাইরে থাকাটাও।’
তরুণ ডিফেন্ডার ফাকুন্দো মেদিনার কথায় ছিল এক নবীনের বিস্ময় আর কৃতজ্ঞতা মেশানো অনুভূতি, ‘এই জার্সি পরা সবসময়ই বিরাট সম্মানের। আমি আনন্দিত, এটি খুবই রোমাঞ্চকর। মেসি সবকিছুকে সহজ করে তোলে! আমরা অনুশীলনে এটি দেখি এবং এটি অবিশ্বাস্য। আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ ভেবেচিন্তে এগোতে হবে।’
এ ম্যাচের মাধ্যমে মেসি বিশ্বকাপ ইতিহাসে এগারো ভিন্ন দেশের বিপক্ষে গোল করার অনন্য রেকর্ডের মালিক হলেন, যা আগে কেউ স্পর্শ করতে পারেননি। আগামী ম্যাচে অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার আগে স্কালোনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তৃপ্তিতে ভোগার সুযোগ নেই; প্রতিযোগিতার মান বিবেচনায় প্রতি ম্যাচ সমান কঠিন হবে।