

স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলের শহর আন্দালুসিয়ায় ভয়াবহ দাবানলে অন্তত ১২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এ ছাড়া এখনো নিখোঁজ রয়েছেন আরও ২৩ জন। দেশটির অগ্নিনির্বাপন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি স্পেনের ইতিহাসে অন্যতম প্রাণঘাতী দাবানল।
শুক্রবার (১০ জুলাই) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্দালুসিয়া অঞ্চলের আলমেরিয়া প্রদেশের লোস গালিয়ার্দোস শহরসংলগ্ন বনাঞ্চলে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ অমান্য করে গাড়িতে পালানোর চেষ্টা করেন। ধারণা করা হচ্ছে, এসময় ১ স্প্যানিশ নাগরিকসহ অনেকেই নিহত হন, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিলেন বিদেশি নাগরিক।
আন্দালুসিয়ার জরুরি ব্যবস্থাপনা প্রধান আন্তোনিও সান্স জানান, ডান পাশে স্টিয়ারিং থাকা একটি গাড়িতে ৪ জনের মরদেহ পাওয়া গেছে। তারা ব্রিটিশ নাগরিক হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া আরও ৮ জন গাড়ি ছেড়ে দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করলে আগুনে পুড়ে মারা যান। এ ঘটনায় ২৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। অনেক মরদেহ এতটাই দগ্ধ হয়েছে যে পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজন হবে।
আন্দালুসিয়ার আঞ্চলিক প্রধান হুয়ান ম্যানুয়েল মোরেনো বলেন, আগুন বারুদের মতো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার ২০০ হেক্টর বনভূমি পুড়ে গেছে। শক্তিশালী বাতাসের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
নিখোঁজদের মধ্যে কয়েকজন বনাঞ্চলে থাকা পর্যটক বা পর্বতারোহী হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ধারকারীরা ঘটনাস্থলে বেশ কয়েকটি হাঁটার লাঠিও উদ্ধার করেছেন।
চলতি বছর স্পেনে দাবানলের মৌসুম স্বাভাবিক সময়ের আগেই শুরু হয়েছে। একের পর এক তাপপ্রবাহে বনাঞ্চল শুকিয়ে যাওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। ইউরোপীয় বন অগ্নি তথ্য ব্যবস্থার তথ্য অনুযায়ী, এ বছর এখন পর্যন্ত দেশটিতে প্রায় ৫৭ হাজার হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে।
প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, এ ঘটনায় তিনি গভীরভাবে মর্মাহত। একই সঙ্গে তিনি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, একটি বিদ্যুৎ লাইনের তার ছিঁড়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ার পর সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এ দাবির সঙ্গে একমত নয়।
কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানিয়েছে, সামনে আরও দীর্ঘ গ্রীষ্মকাল রয়েছে। তাই দাবানলের ঝুঁকিও এখনো অনেক বেশি।