কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৬, ১২:১৬ এএম
আপডেট : ১১ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৫ এএম
অনলাইন সংস্করণ

‘শুধু হিন্দুরাই বৃত্তি পেয়েছে’ দাবিতে ভুল তথ্য ভাইরাল

ছড়িয়ে পড়া ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট। ছবি: ‘দ্য ডিসেন্ট’ থেকে নেওয়া
ছড়িয়ে পড়া ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট। ছবি: ‘দ্য ডিসেন্ট’ থেকে নেওয়া

ফেসবুকে মাগুরার শালিখা উপজেলার ৩২ জন শিক্ষার্থীর নামে একটি উপবৃত্তির তালিকা ছড়িয়ে দাবি করা হচ্ছে, ‘‘সেখানে শুধুমাত্র হিন্দু শিক্ষার্থীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং মুসলিম শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করা হয়েছে।’’ কিন্তু এটি মূলত একটি বিশেষ বরাদ্দের তালিকা। প্রতিবছর এই শিক্ষার্থীরা এভাবে আর্থিক সহায়তা পেয়ে থাকেন।

কোথাও দাবি করা হচ্ছে, ‘‘বিএনপির সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর মাগুরা-২ আসনের ৩৫ জনের বৃত্তির তালিকায় কোনো মুসলিম শিক্ষার্থী নেই, ৩৫ জনই হিন্দু।’’

মাগুরার শালিখা উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হাসান চৌধুরী কালবেলা অনলাইনকে শুক্রবার (১০ জুলাই) বলেন, “কে যে এভাবে তথ্যটা ছড়াল! এভাবে প্রতিবছরই বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই শিক্ষার্থীরা মূলত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর। মাগুরার চারটি উপজেলাতেই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের বসবাস আছে।”

অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া এই তথ্যগুলোকে বিভ্রান্তিকর বলা হয়েছে ফ্যাক্টচেক প্রতিষ্ঠান দ্য ডিসেন্টের যাচাইয়েও। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছড়িয়ে পড়া তালিকাটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘‘বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা (পার্বত্য চট্টগ্রাম ব্যতীত)’’ শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীভুক্ত শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির তালিকা।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য হলো পার্বত্য চট্টগ্রাম ব্যতীত দেশের অন্যান্য এলাকায় বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীভুক্ত জনগণের জীবনমান উন্নয়ন। কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর দরিদ্র ও অসহায় পরিবার ও শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দিয়ে শিক্ষা বৃত্তি, বসতঘর, বাইসাইকেল ও সেলাই মেশিনসহ বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করা হয়। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীভুক্ত উপকারভোগীদের তালিকা প্রস্তুত করে।

দ্য ডিসেন্টের প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর অনেকে আবার প্রশ্ন তুলছেন, হিন্দুরা আদিবাসী বা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী হয় কীভাবে? এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হাসান চৌধুরী বলেন, “এই উপজেলায় আদিবাসী বা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী আছে। এখন এরা হিন্দু হতে পারে, আবার মুসলিমও হতে পারে। কিন্তু এখানে মুসলিম সম্প্রদায়ের কোনো ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী নেই। থাকলে তারাও পেত। এটা একটি বিশেষ বরাদ্দ।”

২০২২ সালের জনশুমারি ও গৃহগণনা অনুযায়ী মাগুরা জেলায় ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মোট জনসংখ্যা ৮ হাজার ৫৪৮ জন, যা জেলার মোট জনসংখ্যার প্রায় ০.৮৩ শতাংশ।

তানভীর চৌধুরী জানান, ফেসবুকে যে তালিকাটি ছড়িয়েছে, তাতে ৩২ জনের নাম দেখা গেলেও প্রকৃত তালিকায় মোট ৬৪ জন শিক্ষার্থীর নাম রয়েছে। একই পরিবারের একাধিক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীভুক্ত শিক্ষার্থীও তালিকায় রয়েছে এবং উপজেলার কোনো যোগ্য উপকারভোগীকে বাদ দেওয়া হয়নি।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ফ্রান্স যদি কাউকে ভয় পায়, তাহলে সেটা স্পেন: ইয়ামাল

ফাইনালের আগে ‘ফাইনাল’ / সেমিফাইনালে ফ্রান্স-স্পেনের খেলা কবে ও কোথায়?

ফুটবল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে হারেনি যে দুই দল

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে বড় ধাক্কা খেল সুইজারল্যান্ড

সিলেট জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি গোপিকা শ্যাম, সেক্রেটারি দীপক দাস 

প্রধানমন্ত্রী / তরুণদের সম্ভাবনাকে অগ্রগতির চালিকাশক্তিতে পরিণত করা অন্যতম লক্ষ্য

২১তম বিসিএস প্রশাসনের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সম্মিলন

‘ভালো চর্বি শরীরের শত্রু নয়, অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবারই বড় ঝুঁকি’

ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন আজ

বন্যায় বিপর্যস্ত চট্টগ্রামে এবার ব্যাংকে ডাকাতির গুজব

১০

সেই মেরিনোই যখন লা রোজাদের ত্রাতা

১১

স্থগিত নয় সিলেট শিক্ষাবোর্ডের শনিবারের এইচএসসি পরীক্ষা

১২

শেষ মুহূর্তের গোলে বিদায় নিল বেলজিয়াম, সেমিফাইনালে স্পেন

১৩

ইরান আমাকে হত্যা করলে, নজিরবিহীন ‘বোমা হামলা’ হবে: ট্রাম্প

১৪

রূপগঞ্জের ৩৪ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সংসদ ভবন পরিদর্শন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ

১৫

র‍্যাবের সাবেক গোয়েন্দা প্রধানকে ধন্যবাদ জানিয়ে পরীমনির পোস্ট

১৬

সমতায় থেকে বিরতিতে গেল বেলজিয়াম-স্পেন

১৭

এবার নোরা ফাতেহির ফেক ভিডিও ভাইরাল

১৮

সেমির লড়াইয়ে মাঠে নামল স্পেন-বেলজিয়াম

১৯

বিতর্কের পর বিশ্বকাপে ভিএআরে বড় পরিবর্তন আনল ফিফা

২০
X