

বছরজুড়ে ফুটবলারদের মূল্যায়নের বড় মাপকাঠি ক্লাবের নৈপুণ্যে। কিছু খেলোয়াড় আছেন, যাদের সেরাটা দেখা যায় জাতীয় দলের জার্সিতে। ক্লাবে উত্থান-পতন থাকলেও দেশের হয়ে তারা হয়ে ওঠেন উজ্জ্বল, আস্থার প্রতীক। বিশ্বকাপে কয়েকজন তারকা প্রমাণ করেছেন, জাতীয় দলের জার্সি তাদের খেলাকে নিয়ে যায় ভিন্ন উচ্চতায়। এমন ১১ ফুটবলারের গল্প নিয়েই কালবেলার এই আয়োজন
এনজো ফার্নান্দেজ আর্জেন্টিনা
চেলসির হয়ে ২০২৫-২৬ মৌসুমে এনজোকে লড়তে হয়েছে ছন্দ খুঁজে পেতে। একাধিক পজিশনে খেলতে গিয়ে স্বাভাবিক ভূমিকা ধরে রাখা কঠিন হলেও আর্জেন্টিনার জার্সিতে দেখা গেছে ভিন্ন রূপে। লিওনেল স্কালোনির অধীনে তিনি হয়ে উঠেছেন মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রক। মিশর ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ গোলসহ সৃজনশীলতায় তিনি প্রমাণ করেছেন নিজের সামর্থ্য। যদিও আসরের শুরুটা ছিল কিছুটা নড়বড়ে
এমিলিয়ানো মার্তিনেজ আর্জেন্টিনা
মার্তিনেজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায় লেখা হয়েছে আর্জেন্টিনার জার্সিতে। ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী এই গোলরক্ষক বড় মঞ্চে শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রেখেছেন। এই বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনার রক্ষণ চাপে পড়লে দুর্দান্ত সেভে দলকে ভরসা দিয়েছেন তিনি; ক্লাবে যেমনটা কমই দেখা যায়। চাপের মুহূর্তে অসাধারণ স্থিরতা, তীক্ষ্ণ সিদ্ধান্ত এবং বড় ম্যাচে জ্বলে ওঠায় দলে উজ্জ্বল মার্তিনেজ
দানি ওলমো স্পেন
বার্সেলোনার হয়ে লা লিগা জিতলেও পুরো মৌসুমে ওলমো নিজের সেরাটা দেখাতে পারেননি। স্পেনের জার্সি গায়েই যেন তিনি ফিরে পান আসল রূপ। বিশ্বকাপে দুটি অ্যাসিস্টসহ একাধিক ম্যাচে আক্রমণভাগের প্রাণভোমরা ছিলেন এই মিডফিল্ডার। নিখুঁত পাস, সুযোগ তৈরি এবং মাঝমাঠে সৃজনশীলতার ছোঁয়ায় তিনি স্পেনের শিরোপা জয়ের পথে রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান
মিকেল মেরিনো স্পেন
আর্সেনালের হয়ে চোট ও একাদশে নিয়মিত সুযোগ না পাওয়ার কারণে ছন্দ হারিয়েছিলেন মেরিনো। স্পেনের জার্সিতে তাকে দেখা যাচ্ছে ভিন্নরূপে। সীমিত সময় মাঠে নেমেই পর্তুগাল ও বেলজিয়ামের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ গোল করে দলকে জিতিয়েছেন। মাঝমাঠ থেকে গোল করার অসাধারণ দক্ষতা, নিরলস পরিশ্রম এবং বড় মুহূর্তে জ্বলে ওঠার ক্ষমতায় মেরিনোকে ভিন্ন করে তুলেছে
জন স্টোনস ইংল্যান্ড
ম্যানচেস্টার সিটিতে বারবার চোট আর তীব্র প্রতিযোগিতায় জন স্টোনসকে লড়তে হয়েছে নিজের জায়গা ধরে রাখতে। ইংল্যান্ডের জার্সিতে তিনি বরাবরই নির্ভরতার আরেক নাম। প্রায় একশ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার বিশ্বকাপেও রক্ষণভাগকে নেতৃত্ব দিয়েছেন দুর্দান্তভাবে। নিখুঁত বল নিয়ন্ত্রণে আবারও প্রমাণ করেছেন—বড় মঞ্চে ইংল্যান্ডের নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার তিনিই
অ্যাড্রিয়েন রাবিও ফ্রান্স
ফ্রান্সের তারকাবহুল দলে রাবিওকে ঘিরে প্রশ্নের শেষ ছিল না। ক্লাব ফুটবলে কখনো নিয়মিত, কখনো বেঞ্চে—এভাবেই কেটেছে সময়। জাতীয় দলের জার্সিতে তিনি হয়ে ওঠেন ভরসা। বিশ্বকাপে মাঝমাঠে নিরলস পরিশ্রম, রক্ষণে দৃঢ়তা ও আক্রমণে ভারসাম্য এনে নীরব নায়কের ভূমিকায় ছিলেন রাবিও
কাই হাভার্টজ জার্মানি
আর্সেনালের হয়ে দীর্ঘ চোট কাটিয়ে ফিরলেও হাভার্টজকে লড়তে হয়েছে ছন্দ খুঁজে পেতে। পুরো মৌসুমে গোলসংখ্যাও ছিল প্রত্যাশার চেয়ে কম। জার্মানির জার্সিতে বদলে গেছে সবকিছু। বিশ্বকাপে তিনটি গোল করে আক্রমণের নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। বড় ম্যাচে সুযোগ কাজে লাগানো, বুদ্ধিদীপ্ত মুভমেন্ট এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণে অবিরাম চাপ সৃষ্টির দক্ষতায় তিনি ছিলেন অনন্য
কোডি গাকপো নেদারল্যান্ডস
লিভারপুলের হয়ে ২০২৫-২৬ মৌসুমে গাকপোর নৈপুণ্যে ছিল বিবর্ণ। মৌসুমের দ্বিতীয় ভাগে সমালোচনার মুখেও পড়েছিলেন। নেদারল্যান্ডসের জার্সিতে ফিরে পান পুরোনো ছন্দ। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল, সুইডেনের বিপক্ষে দুর্দান্ত নৈপুণ্য এবং নকআউট পর্বে গুরুত্বপূর্ণ গোল করে তিনি হয়ে ওঠেন দলের অন্যতম ভরসা
জিওভান্নি রেইনা যুক্তরাষ্ট্র
একসময় যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় তরুণ ফুটবলার রেইনা। ক্লাব ক্যারিয়ারে প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলেও বিশ্বকাপে আবারও দেখিয়েছেন নিজের সামর্থ্য। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে দৃষ্টিনন্দন গোলসহ সীমিত সময়েই আক্রমণে গতি ও সুযোগ তৈরির দক্ষতায় তিনি হয়ে উঠেছেন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম কার্যকর অস্ত্র
রাউল জিমেনেস মেক্সিকো
৩৫ বছর বয়সেও জিমেনেস মেক্সিকোর আক্রমণের প্রাণভোমরা। প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ফুলহামের হয়ে আলো ছড়াতে না পারলেও বিশ্বকাপে অভিজ্ঞতার ঝলক দেখিয়েছেন। ধারাবাহিক গোল করে দলকে এনে দিয়েছেন সাফল্য, হয়েছেন অন্যতম নায়কও। অভিজ্ঞতা, নিখুঁত পজিশনিং ও চাপের মুহূর্তে গোল করার ক্ষমতা তাকে মেক্সিকোর ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকারও তিনি
ভোজিনিয়া কেপ ভার্দে
বিশ্বকাপের আগে ভোজিনিয়াকে চিনতেন খুব কম ফুটবলপ্রেমী। ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের এক ক্লাবে অনিয়মিত খেললেও বিশ্বমঞ্চে বদলে দেন নিজের পরিচয়। স্পেন, উরুগুয়ে, সৌদি আরব ও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দুর্দান্ত সব সেভে তিনি হয়ে ওঠেন বিস্ময়