

বর্তমান সময়ে স্থূলতা থেকে সৃষ্ট নানা স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে অন্যতম হলো ফ্যাটি লিভার। অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাবে লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমতে থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, লিভার সাধারণত ৫ থেকে ৬ শতাংশ পর্যন্ত চর্বি ধারণ করতে পারে। এর বেশি চর্বি জমলে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি তৈরি হয়, যা দীর্ঘদিন অবহেলা করলে লিভারে ক্ষত সৃষ্টি কিংবা সিরোসিসের মতো জটিল রোগে রূপ নিতে পারে।
তাই ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওজন কমানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। চিকিৎসকদের মতে, কিছু প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি পানীয় লিভারের সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে। ঘরেই সহজে তৈরি করা যায় এমন তিনটি স্বাস্থ্যকর পানীয় সম্পর্কে জেনে নিন।
হলুদ ও আনারসের স্মুদি
হলুদের কারকিউমিন এবং আনারসে থাকা ব্রোমালিন প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। এই পানীয় লিভারের কার্যকারিতা ভালো রাখতে এবং হজমে সহায়তা করতে পারে।
তৈরির জন্য লাগবে এক কাপ আনারসের টুকরো, আধা চা-চামচ হলুদগুঁড়া, এক ইঞ্চি কাঁচা হলুদ, আধা ইঞ্চি আদা, আধা কাপ নারকেলের পানি, এক চা-চামচ লেবুর রস এবং এক চিমটি গোলমরিচের গুঁড়া। সব উপকরণ একসঙ্গে ব্লেন্ড করে সকালে বা বিকেলে পান করা যেতে পারে।
কাঠবাদাম-ডুমুরের স্মুদি
এই স্মুদি তৈরিতে প্রয়োজন ৫ থেকে ৬টি ভেজানো কাঠবাদাম, একটি শুকনো ডুমুর, এক কাপ দুধ বা কাঠবাদামের দুধ, এক চা-চামচ চিয়া বীজ, আধা চা-চামচ দারুচিনি এবং এক চা-চামচ মধু।
সব উপকরণ ভালোভাবে ব্লেন্ড করে মিহি করে নিন। এরপর দুই ঘণ্টা ফ্রিজে রেখে পান করতে পারেন। এটি শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণে এবং পেশির শক্তি ধরে রাখতে সহায়ক হতে পারে।
শসা, তরমুজ ও জিরার স্মুদি
শসায় ক্যালোরি ও চর্বি খুবই কম। এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বিপাকক্রিয়া সচল রাখতে সাহায্য করে। তরমুজে প্রচুর পানি থাকায় শরীর আর্দ্র থাকে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। অন্যদিকে জিরা হজমশক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তিন উপাদানের সমন্বয়ে তৈরি স্মুদি নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে ওজন নিয়ন্ত্রণে সুবিধা হতে পারে, যা ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমাতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে চিকিৎসকদের পরামর্শ, শুধু এসব পানীয়ের ওপর নির্ভর না করে সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণই ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।