

গাজার মধ্যাঞ্চলের দেইর আল-বালাহ শহরে একটি গাড়িতে লক্ষ্য করে চালানো ইসরায়েলি বিমান হামলায় হামাস-নিয়ন্ত্রিত ফিলিস্তিনি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থার এক শীর্ষ কর্মকর্তা এবং তার সহযোগী নিহত হয়েছেন। রোববার (২৬ জুলাই) এ তথ্য জানিয়েছে স্থানীয় চিকিৎসাকর্মী ও পুলিশ কর্মকর্তারা। খবর রয়টার্সের।
নিহতরা হলেন, মধ্য গাজার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের প্রধানকর্নেল ওয়ায়েল আল-লেদাউই এবং মেজর রামেজ আবু জারাইক। হামাস পরিচালিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। হামাস সাধারণত নিজেদের যোদ্ধাদের হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করে না।
এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা হামাসের একজন সদস্যকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তবে ওই ব্যক্তির পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়নি।
গত কয়েক মাসে হামাস-নেতৃত্বাধীন পুলিশ বাহিনীর বহু সদস্য ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। তাদের অভিযোগ, এসব কর্মকর্তার অনেকেই হামাসের সামরিক শাখার সদস্য ছিলেন এবং ইসরায়েল ও গাজায় অবস্থানরত ইসরায়েলি বাহিনীর জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি তৈরি করছিলেন।
অন্যদিকে হামাসের দাবি, পুলিশ বাহিনী ও তাদের সদর দপ্তরে ইসরায়েলের হামলার উদ্দেশ্য হলো গাজায় বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করা। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত অক্টোবরে কার্যকর হওয়া ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধবিরতি চুক্তিও এসব হামলার মাধ্যমে লঙ্ঘন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ সংগঠনটির।
গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত এক হাজার ১৯০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক।
যুদ্ধবিরতির ফলে পূর্ণমাত্রার সংঘর্ষ বন্ধ হলেও প্রায় প্রতিদিনই গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। একই সময়ে গাজায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলায় চারজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন।
২০২৩ সালে দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর শুরু হওয়া দুই বছরের সামরিক অভিযানে গাজার বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে উপকূলীয় এই ছোট ভূখণ্ডের প্রায় ৬৪ শতাংশ এলাকার কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ইসরায়েলের হাতে রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
গাজার প্রায় ২০ লাখ বাসিন্দার অধিকাংশই এখন উপকূলের অল্প কিছু এলাকায় আশ্রয় নিয়েছেন। তারা অস্থায়ী তাঁবু কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে মানবেতর পরিস্থিতিতে বসবাস করছেন, আর ওই এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণ এখনো হামাসের হাতেই রয়েছে।