

রাজধানীতে অপরাধ করে নিজেদের লুকাতে পার্শ্ববর্তী কেরানীগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও সাভারে ‘সেফ হাউসে’ আশ্রয় নেন অপরাধীরা। এরপর পরিস্থিতি খানিকটা স্বাভাবিক হলে আবার রাজধানীতে ফিরে চালান অপরাধমূলক কার্যক্রম। সম্প্রতি রাজধানীর আদাবরে একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত চিহ্নিত সন্ত্রাসী বেলচা মনিরকে চার সহযোগীসহ গ্রেপ্তারের পর এসব তথ্য জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
গতকাল শনিবার বিকেলে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবি তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ রাকিব খান। এ সময় ডিএমপি মিডিয়া শাখার ডিসি তালেবুর রহমান এবং তেজগাঁও বিভাগের এডিসি মোর্শেদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন—রাকিব হাওলাদার ওরফে ছোট রাকিব (২২), মো. গোলাম রব্বানি সাহস (২৩), মনির হোসেন ওরফে গুজা মনির (৩০) ও মো. আকাশ খাঁ (২২)।
হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে ডিবির ডিসি রাকিব খান জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত ১৬ সেপ্টেম্বর ভোরে আদাবর-১০ নম্বর এলাকায় রিপন ওরফে নিপুকে নিজ বাসায় সামুরাই দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে বেলচা মনিরের নেতৃত্বাধীন গ্রুপ। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর বিকেলে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী আরজু বেগম বাদী হয়ে আদাবর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও সোর্সের তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার ভোরে রাজধানী ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তাদের হেফাজত থেকে খুনের কাজে ব্যবহৃত তিনটি সামুরাই, একটি চায়নিজ কুড়াল ও একটি সুইচ গিয়ার চাকু উদ্ধার করে ডিবি।
ডিসি রাকিব খান বলেন, ‘আদাবরে অপরাধ ঘটিয়ে তারা পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোয় তৈরি করা সেফ হাউসে লুকিয়ে থাকে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার এলাকায় ফিরে আসে এবং আধিপত্য বিস্তারের তৎপরতা চালায়।’