

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উৎসবমুখর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। কিন্তু এই উৎসবের ভোটে বিপাকে পড়েছেন কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ভোটাররা। কারণ তাদের নিজ কেন্দ্র ফেলে কয়েক কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে আরেকটি কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে হয়। এতে আসছে নির্বাচনে দুর্ভোগের পাশাপাশি সংঘাতের আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ৪০-৫০ বছর ধরে পাহাড়পুর এমদাদুল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে তারা স্বস্তির সঙ্গে ভোট দিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ভোট কারচুপির সুবিধার্থে তাদের এই ভোটকেন্দ্র পরিবর্তন করে ডেকরিরপাড় ফোরকানিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে নিয়ে যায়। আগের কেন্দ্র পার হয়ে তাদের ভোট দিতে যেতে হয় কয়েক কিলোমিটার দূরে। দূরত্বের কারণে ডেকরিরপাড়ের ভোটাররা পাহাড়পুর এমদাদুল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে যেতে চান না।
তাদের আরও অভিযোগ, ভোটকেন্দ্র পরিবর্তন করায় ৯নং ওয়ার্ডের ভোটাররা ৮নং ওয়ার্ডের কেন্দ্র পার হয়ে ডেকরিরপাড় কেন্দ্রে যেতে হয়। এতে ৮নং ওয়ার্ডের ভোটারদের সঙ্গে সংঘর্ষ বা কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা থাকে। এমন অবস্থায় তারা ভোটে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের জন্য আগের কেন্দ্র পাহাড়পুর এমদাদুল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসা পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে পাহাড়পুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ শিকদার বলেন, ‘বিগত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারেনি। এবার যেন স্বতঃস্ফূর্তভাবে মানুষ ভোট দিতে পারে, সে জন্য সব সংঘাত এড়াতে পাহাড়পুর এমদাদুল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসায় আগের মতো কেন্দ্র দেওয়ার জোর দাবি জানাই। অন্যথায় কোনো বিশৃঙ্খলা-সংঘাত হলে দায় নির্বাচন কমিশনের।’
স্থানীয় বাসিন্দা আমিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘আমাদের ওয়ার্ডে ২ হাজার ২০০ ভোটার। পাহাড়পুর এমদাদুল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসা ছিল আমাদের কেন্দ্র। কিন্তু আওয়ামী লীগ ভোট চুরির সুবিধার্থে ডেকরিরপাড় ফোরকানিয়া মাদ্রাসায় কেন্দ্র নিয়ে যায়। আমরা সেই কেন্দ্র পরিবর্তন করে পাহাড়পুর এমদাদুল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্র পুনর্বহালের জন্য আমরা নির্বাচন কমিশন, নির্বাচন কমিশন সচিব, জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করেছি।
আশা করি নির্বাচন কমিশন বিষয়টি বিবেচনায় নেবেন।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুর রহমান বলেন, ‘কেন্দ্রটি ২০১৮ সালের পরে পরিবর্তন করা হয়েছে। আরেকটি কেন্দ্র পার হয়ে ভোট দিতে যাওয়ার ক্ষেত্রে সংঘর্ষের শঙ্কা থাকে। আমরা নির্বাচন কমিশনে রিপোর্ট পাঠিয়েছি। আশা করি সমাধান হবে।’