ফরহাদ সুমন, চট্টগ্রাম
প্রকাশ : ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৩৪ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম যেন ছিনতাইয়ের অভয়ারণ্য, ব্যবহৃত হচ্ছে আগ্নেয়াস্ত্র-দ্রুতগতির বাইক

১১ মাসে ৯০ মামলা
চট্টগ্রাম যেন ছিনতাইয়ের অভয়ারণ্য, ব্যবহৃত হচ্ছে আগ্নেয়াস্ত্র-দ্রুতগতির বাইক

চট্টগ্রাম মহানগরীতে ছিনতাই এখন নিত্যদিনের ঘটনা। শহরের অলিগলি থেকে প্রধান সড়ক—সবখানেই ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য দেখা যাচ্ছে। তারা এখন কেবল ছুরি বা দেশি অস্ত্রেই সীমাবদ্ধ নেই, ব্যবহার করছে আগ্নেয়াস্ত্রও। নগরবাসীর ভাষায়, আগের মতো শুধু রাত নয়, এখন দিনভর যেকোনো সময়েই ছিনতাইয়ের শিকার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। পরিচিত পথগুলোই হয়ে উঠেছে অচেনা ও বিপজ্জনক।

বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাইয়ের ধরন ও কৌশলে এসেছে পরিবর্তন। আগের মতো সিএনজি ব্যবহার নয়, এখন তারা ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহার করছে অনুমোদনহীন ব্যাটারিচালিত রিকশা ও দ্রুতগতির মোটরসাইকেল। মুখে মাস্ক, মাথায় হেলমেট থাকায় তাদের শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে উঠেছে।

পুলিশ জানায়, অনেক সময় গ্রেপ্তার হলেও আসামিরা জামিনে বেরিয়ে এসে আবার অপরাধে জড়াচ্ছে। মাঠপর্যায়ে ছোট অপরাধীরা ধরা পড়লেও, হোতারা থেকে যাচ্ছে অধরা। বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি, ছিনতাইকারীরা এখন নিজের এলাকা ছেড়ে অপরিচিত এলাকায় গিয়ে ছিনতাই করছে। তারা বাসার কাজের লোক, গাড়িচালক, হকারদের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে। ক্যামেরা এড়িয়ে চলতেও তারা দক্ষ।

আইনজীবী মীর শফিকুল বিজন বলেন, মামলা হালকা ধারায় রুজু হলে জামিন পাওয়া সাধারণ ঘটনা। এ বিষয়ে আইনজীবীদের কোনো হাত থাকে না। আদালত যুক্তি বিবেচনায় জামিন দেন।

নগরের কোতোয়ালি, বায়েজিদ, সদরঘাট, পাঁচলাইশ, চান্দগাঁও, বাকলিয়া, হালিশহর, বন্দর, ডবলমুরিং, চকবাজারসহ প্রায় সব থানা এলাকায় ছিনতাইকারীদের উপস্থিতি নিয়মিত। গত ৫ জানুয়ারি পাঁচলাইশ থানার আতুরার ডিপো এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা চার দুর্বৃত্ত একটি অটোরিকশা থামিয়ে অস্ত্রের মুখে ৩৫০ ভরির ৩৫টি স্বর্ণের বার ছিনিয়ে নেয়। এখনো বারগুলো উদ্ধার হয়নি। এর আগে গত ২৭ নভেম্বর লালদীঘি এলাকায় ছুরিকাঘাতে নিহত হন ইসমাইল হোসেন।

নগরে মোবাইল ফোন ছিনতাইও বেড়েছে উদ্বেগজনক হারে। বাস বা রিকশায় থাকা যাত্রীদের কাছ থেকে প্রকাশ্যে ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ভুক্তভোগীরা থানায় জিডি করলেও অধিকাংশ ফোন আর ফিরে পাচ্ছেন না।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার আমিনুর রশিদ বলেন, ছিনতাই দমনে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে নগরবাসীর মতে, এই অভিযান চোখে পড়ার মতো সুফল দিচ্ছে না। কলেজছাত্র সানি বলেন, ‘নগরের অলিগলি যেন ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্য হয়ে গেছে। দিন-রাত কোনো সময়ই নিরাপদ মনে হয় না।’

সিএমপির তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ মাসে ছিনতাই ও ডাকাতির ৯০টি মামলা হয়েছে। তবে নগরবাসীর মতে, প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি। আতঙ্কে তারা একটাই প্রশ্ন করছেন—‘এই শহরে আর কবে নিরাপদ হবো আমরা?’

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কিছু মানুষ কেন ক্ষুধা পেলে রেগে যান

১৮ জানুয়ারি : আজকের নামাজের সময়সূচি

বিএনপিতে যোগ দিলেন শতাধিক সনাতন ধর্মাবলম্বী

টিভিতে আজকের যত খেলা

উত্তর সিরিয়ায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের

প্রথমবার এলএনজি রপ্তানির চুক্তি করল ভেনেজুয়েলা

ইরানে নতুন নেতৃত্ব দরকার : ট্রাম্প

১৮ জানুয়ারি : কী ঘটেছিল ইতিহাসের এই দিনে

যৌথবাহিনীর অভিযানে জামায়াতের সাবেক নেতাসহ আটক ২

সফল হতে নাশতার আগেই যেসব কাজ করবেন

১০

ইবনে সিনায় চাকরির সুযোগ

১১

রোববার রাজধানীর যেসব এলাকার মার্কেট বন্ধ

১২

টানা ৩ দিন ৭ ঘণ্টা করে বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

১৩

প্রার্থিতা ফিরে পেলেন অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম

১৪

২৪-০ গোলে জিতলেন ঋতুপর্ণারা

১৫

ডাকসু নেতার ‘কোটা না সংস্কার’ স্লোগানের বিপরীতে শিক্ষার্থীদের ‘ইউরেনিয়াম, ইউরেনিয়াম’

১৬

বাংলাদেশের প্রস্তাবে সাড়া দিল না আয়ারল্যান্ড

১৭

জামালপুরের একমাত্র নারী প্রার্থী পূথির মনোনয়ন বৈধ

১৮

বিএনপি জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিশ্বাস করে : শামা ওবায়েদ

১৯

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিজ্ঞান, স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তির সমন্বিত কাজ অপরিহার্য : উপদেষ্টা ফরিদা

২০
X