

সরকার বিচার বিভাগকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল। গতকাল শনিবার সুপ্রিম কোর্ট রিপোর্টার্স ফোরামের এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের আদালতে প্রবেশে সুযোগ বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন কাজল।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, অবাধ-সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে নতুন সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে আমি প্রায় তিন মাস দায়িত্ব পালন করেছি। কোনো মামলায় বা কোনো ব্যক্তির পক্ষে কিংবা রাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থার বিন্দুমাত্র ব্যত্যয় ঘটুক, এমন কোনো রাজনৈতিক চাপ কিংবা রাজনৈতিক প্রত্যাশার কথা কেউ আমাকে আজ পর্যন্ত বলেনি। এতে প্রমাণিত হয় যে, বর্তমান সরকার বিচার বিভাগকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে চায়।
তিনি বলেন, ‘অপরাধ সংঘটিত হলে রাষ্ট্র দ্রুত ব্যবস্থা নেবে, দোষীদের চিহ্নিত করবে এবং বিচারের মুখোমুখি করবে। জনগণকে বিচার প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ফল দেখতে দিতে হবে।’
মামলার জট নিরসনে প্রচলিত ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, বিচারক সংকট, দক্ষতার ঘাটতি এবং অতীতের নানা রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে বিপুলসংখ্যক মামলা অনিষ্পণ্ন রয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ উদ্যোগ প্রয়োজন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আপিল দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতির গঠিত বিশেষ বেঞ্চের প্রশংসা করে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ফাঁসির দণ্ড মাথায় নিয়ে থাকা আসামিদেরও দ্রুত বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকারের বিষয়ে তিনি জানান, বিষয়টি প্রধান বিচারপতির কাছে উত্থাপন করেছেন। সাংবাদিকদের জন্য বিশেষ পাস, কার্ড বা নির্দিষ্ট ব্যবস্থা চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।
তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট বিটের সাংবাদিকরা অভিজ্ঞ। তবে বিচারাধীন মামলার শুনানিকালে বিচারক বা আইনজীবীদের অন্তর্বর্তী মন্তব্য অনেক সময় প্রেক্ষাপট ছাড়া প্রচারিত হয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করে। এ বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।
সংবাদমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, বিচার যেন আদালতে হয়, গণমাধ্যমে নয়। সাংবাদিকদের দায়িত্ব হলো তথ্যনির্ভর ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশন করা।