

মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করা ছাড়া দেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, সমবায়ের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ঐক্য, আত্মনির্ভরশীলতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার চেতনা গড়ে ওঠে।
শনিবার (৪ জুন) ১০৪তম আন্তর্জাতিক সমবায় দিবস উপলক্ষে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সমবায় অধিদপ্তরের মাল্টিপারপাস হলে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এবারের আন্তর্জাতিক সমবায় দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল 'কোঅপারেটিভ ফর এ্যা পিসফুল ওয়ার্ল্ড'।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং টেকসই উন্নয়ন অর্জনে সমবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। তাই নতুন সমবায় সমিতির সংখ্যা বাড়ানোর চেয়ে বিদ্যমান সমিতিগুলোর গুণগত মান, দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি সমবায়ীদের উৎপাদিত পণ্য আধুনিকায়নের মাধ্যমে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির উদ্যোগ জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।
সমবায় আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার সমবায় খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক সমবায় দিবস শুধু উদযাপনের দিন নয়, বরং সমবায়ের আদর্শ, মূল্যবোধ ও অবদান নতুনভাবে মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।
তিনি জানান, পর্যায়ক্রমে উপজেলা পর্যায়ের সমবায় সমিতি পরিদর্শন করে মাঠপর্যায়ের সমস্যা চিহ্নিত করা হবে এবং সমাধানে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে। এ সময় তিনি সমবায় অধিদপ্তরের বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং বিভিন্ন সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে অবহিত হন।
প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব বণ্টনে অধিক সতর্কতা এবং যোগ্য ব্যক্তিকে যোগ্য দায়িত্ব দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে জেলা কার্যালয়গুলোর কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে উন্নয়ন প্রকল্প (ডিপিপি) প্রণয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংগ্রহ, পদোন্নয়ন, কর-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন এবং প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশনা দেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচির সূচনা হয়। পরে প্রতিমন্ত্রী বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন এবং সমবায়ীদের উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্যের প্রদর্শনী স্টল পরিদর্শন করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জাতীয় সমবায় ইউনিয়নের সভাপতি ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, গ্রামীণ জনগণের অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি, নারী ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সমবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণ, স্বল্পসুদে ঋণ, বিভিন্ন প্রণোদনা এবং প্রয়োজনীয় আইন সংস্কারের মাধ্যমে সমবায়কে আরও জনবান্ধব করার আহ্বান জানান।
সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধক ও মহাপরিচালক মো. সেলিম ফকিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মোহাং শওকত রশীদ চৌধুরী, সমবায় অধিদপ্তরের অতিরিক্ত নিবন্ধক মো. নবীরুল ইসলাম, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং সমবায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।