

বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলায় গাছ থেকে এক বৃদ্ধের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় ধর্ষণচেষ্টার অপবাদ দিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা হয়েছে। ঘটনার ছয় দিন পর গত শুক্রবার তার বড় ছেলে আক্তার হোসেন ঢালী বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন।
মামলার অভিযোগে তিনি বলেন, তার বাবার বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অপবাদ দিয়ে পাড়ার কয়েকজন ব্যক্তি তাদের কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। তারা কিছু টাকা তাদের দেনও। পরে তার বাবার লাশ পাওয়া যায়। মামলায় অভিযুক্ত পাঁচজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনেছেন তিনি।
গত ১৮ অক্টোবর রাতে মেহেন্দীগঞ্জ পৌরসভার দুর্গাপুরে বাড়ির সামনে একটি গাছ থেকে মোতাহার হোসেন ঢালী (৭০) নামে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়।
পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় মোতাহারকে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অপবাদ দিয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে এলাকার চার ব্যক্তি। তারা কিছু টাকা তাদের দেন। পুরো টাকা দিতে না পারায় এ নিয়ে তাদের সঙ্গে মোতাহারের পরিবারের লোকজনের ঝগড়াঝাটি হয়। তার কিছু সময় পরই বাড়ির সামনে গাছে মোতাহারের লাশ ঝুলতে দেখেন স্বজনরা। পরিবারের দাবি, চাঁদার টাকা না পেয়ে ওই ব্যক্তিরা মোতাহারকে হত্যা করে গাছে ঝুলিয়ে রাখে।
ছোট ছেলে মোক্তার হোসেনে ঢালী বলেন, ‘ওইদিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে আমার বাবাকে শিশু ধর্ষণচেষ্টার অপবাদ দিয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে এলাকার তারেক, বড় সুমন, ছোট সুমন ও আমির। আমরা গরিব মানুষ, এত টাকা কোথায় পাব। ধারদেনা করে ৮ হাজার দিয়েছি। তাতে তারা ক্ষুব্ধ হয়। টাকা দিয়ে বাড়িতে ফিরে দেখি বাবার লাশ আমগাছে ঝুলছে। আমার বাবাকে ওরা মেরে ঝুলিয়ে রাখতে পারে। আমরা এর বিচার চাই।’
পুত্রবধূ ঝরনা বেগম বলেন, ‘আমার শ্বশুরকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে চাঁদা দাবি করা হয়েছে। কিছুক্ষণ পর এসে দেখি তার লাশ গাছে ঝুলছে।’
প্রতিবেশী কাঞ্চন রাঢ়ী বলেন, ‘মোতাহার একজন ধার্মিক মানুষ ছিলেন। তার স্বভাব চরিত্র ভালো। তিনি যদি অপরাধ করে থাকেন তাহলে থানায় জানাত। আমরা এর বিচার দাবি করছি।’
ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ প্রসঙ্গে সেই শিশুটির মা-বাবা বলেন, ‘উনি সম্পর্কে আমাদের মেয়ের দাদা হন। ঘটনার দিন বিকেলে আমাদের মেয়েকে একটি পান এনে দিতে বলেছিলেন তিনি। মেয়ে পান না পেয়ে বিষয়টি জানাতে তার ঘরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অভিযুক্তরা সেখানে গিয়ে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে চাঁদা দাবি করে। আমরা কারও কাছে কোনো অভিযোগ করিনি। জরিমানা চাওয়ারও কোনো প্রশ্নই আসে না। তিনি একজন ধার্মিক লোক ছিলেন।’
স্থানীয় বাসিন্দা নুরে আলম বাবু বলেন, ‘যারা চাঁদা দাবি করেছে তারা বখাটে প্রকৃতির লোক। এলাকায় ওদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মাদক বিক্রির অভিযোগ আছে।’
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক। তবে মামলার প্রধান আসামি তারেক বেপারির মামা আজম সরদার বলেন, ‘আমার ভাগ্নে এ ঘটনায় কীভাবে জড়াল, বুঝতে পারছি না। আমার মনে হয় ভাগ্নে ষড়যন্ত্রের শিকার।’
এদিকে, মোতাহারের পরিবার হত্যার অভিযোগ করলেও পুলিশ বলছে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে সঠিকটা জানা যাবে। সে অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেবেন তারা। মেহেন্দীগঞ্জ থানার এসআই রুবেল হোসেন বলেন, লাশের গলায় কালো দাগ ছাড়া শরীরের কোথাও আঘাতের কোনো চিহ্ন নেই।
মেহেন্দীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মতিউর রহমান বলেন, ধর্ষণচেষ্টার অপবাদ দিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি এজাহার হিসেবে নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।