

এমবিবিএস ও বিডিএস কোর্সে ভর্তির নতুন নীতিমালা জারি করেছে সরকার। নীতিমালাটি এরই মধ্যে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। এতে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, অসচ্ছল, মেধাবী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য কোটা প্রথা চালু রাখার পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য এসএসসি ও এইচএসসির জিপিএতে সামান্য ছাড় দেওয়া হয়েছে।
প্রকাশিত নীতিমালায় বলা হয়েছে, দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য একই সঙ্গে অভিন্ন প্রশ্নে জাতীয় ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষার এক মাস পর সরকারি এবং বেসরকারি ডেন্টাল কলেজ ও ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অভিন্ন প্রশ্নে অনুষ্ঠিত হবে। এসএসসি ও এইচএসসির জিপিএকে ১০০ নম্বর হিসেবে নির্ধারণ করা হবে। দুই পরীক্ষার জিপিএ এবং জাতীয় ভর্তি পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে। ১০০ নম্বরের ভর্তি পরীক্ষার সময় থাকবে এক ঘণ্টা। প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য দশমিক ২৫ নম্বর কাটা যাবে। ভর্তি পরীক্ষায় ৪০ নম্বরের কম প্রাপ্তরা দেশে ভর্তি এবং বিদেশে এমবিবিএস বা বিডিএস সমতুল্য কোর্সে ভর্তির জন্য অকৃতকার্য হবেন। এমবিবিএস ও বিডিএস পরীক্ষা কেন্দ্রে শুধু শিক্ষার্থী নয়, পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও মোবাইল ফোনসহ ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করতে পারবেন না। তবে কেন্দ্রপ্রধান জরুরি প্রয়োজনে পরীক্ষার কন্ট্রোল রুমে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন।
নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, দেশি-বিদেশি শিক্ষার্থীদের এসএসসি ও এইচএসসিতে কমপক্ষে জিডিএ ৯ পেতে হবে। সেইসঙ্গে জীবিজ্ঞানে ন্যূনতম জিপিএ ৪ থাকতে হবে। তবে বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে যেসব দেশে এসএসসি পর্যায়ের পাবলিক পরীক্ষা নেই, সেসব দেশের শিক্ষার্থীদের দশম শ্রেণি বা ও লেভেল এবং এইচএসসি পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ ৭ থাকতে হবে। তাদের জীববিজ্ঞানে জিপিএ থাকতে হবে ৩ দশমিক ৫ পয়েন্ট। এসএসসি পাসের তিন বছরের মধ্যে এইচএসসি উত্তীর্ণ হতে হবে। বিদেশে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের তাদের নম্বরপত্রগুলো স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে সমন্বয় করতে হবে।
এদিকে দেশের সব ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী এবং পার্বত্য জেলার শিক্ষার্থীদের এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ ন্যূনতম ৮ পেতে হবে। এককভাবে এসএসসি কিংবা এইচএসসিতে জিপিএ ৩ দশমিক ৫ পয়েন্টের কম পেলে প্রার্থীকে অযোগ্য বিবেচনা করা হবে। জীববিজ্ঞানে জিপিএ ৩ দশমিক ৫ পয়েন্ট থাকতে হবে।
নীতিমালা অনুযায়ী, সরকারি স্বীকৃত মেডিকেল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ ও ডেন্টাল ইউনিটে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে। ভর্তি পরীক্ষায় ফলাফল প্রকাশের ৪৫ কর্মদিবসের মধ্যে সরকারি মেডিকেল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ ও ডেন্টাল ইউনিটের ভর্তি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে। এরপর বেসরকারি মেডিকেল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ ও ডেন্টাল ইউনিটের ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হবে। এ-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট এবং জাতীয় গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি হিসেবে প্রকাশ করতে হবে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ভর্তির সময়সীমা পার হওয়ার পর শূন্য আসনে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে তৃতীয়বার পর্যন্ত শিক্ষার্থী নির্বাচন করা যাবে। কোনো অবস্থাতেই সরকার নির্ধারিত ক্লাস শুরু হওয়ার পর শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে না।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তানদের জন্য এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য কোটা প্রথা বহাল থাকবে। এ ছাড়া অসচ্ছল ও মেধাবী কোটায়ও শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। শিক্ষার্থী ভর্তির পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সনদ ও নম্বরপত্র যাচাই করে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরে অবশ্যই জমা দিতে হবে। ভর্তির পরও কোনো বিদেশি শিক্ষার্থীর সনদ ও নম্বরপত্র নিয়ে অভিযোগ উঠলে বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উপযুক্ত প্রক্রিয়ায় অনুসন্ধান করবে। কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি বাতিল করলে তার অনুমোদন সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় সম্পন্ন করতে হবে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর কোনো দায়িত্ব নেবে না।