কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৪ নভেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম
আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০২৫, ০৩:৩৫ পিএম
প্রিন্ট সংস্করণ
মুদ্রাবাজার

যুক্তরাষ্ট্র আর বানাবে না ‘এক সেন্ট’

যুক্তরাষ্ট্র আর বানাবে না ‘এক সেন্ট’

দুই শতাব্দীর বেশি সময় ধরে চলা এক ঐতিহ্যের অবসান ঘটাতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ব্যয় সাশ্রয় ও ডিজিটাল লেনদেনের যুগে তাল মেলাতে দেশটি এক সেন্ট মূল্যের মুদ্রা ‘পেনি’ উৎপাদন বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে উৎপাদন বন্ধ হলেও চলমান পেনি মুদ্রাগুলো কার্যকর থাকবে। গত বুধবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় বুধবার ফিলাডেলফিয়া মিন্টে শেষবারের মতো এ মুদ্রা তৈরি করা হবে। এর মাধ্যমে ১৭৯৩ সাল থেকে টানা ২৩০ বছরের বেশি সময় ধরে চলা পেনি উৎপাদনের ইতি ঘটবে।

দেশটির সরকারের দাবি, এ পদক্ষেপে বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় হবে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বলেন, আমাদের দেশের বাজেট থেকে অপচয় দূর করতে হবে। এমনকি তা যদি এক পেনিও হয়।

বর্তমানে তামা-প্লেটেড জিঙ্ক দিয়ে তৈরি প্রতিটি পেনি তৈরি করতে খরচ হয় প্রায় ৪ সেন্ট, যা মূল্যমানের চার গুণ এবং এক দশক আগের তুলনায় দ্বিগুণ। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, উৎপাদন বন্ধের ফলে প্রতি বছর প্রায় ৫৬ মিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হবে।

ডিজিটাল লেনদেনের প্রসারেও এক সেন্টের মুদ্রার ব্যবহার দ্রুত কমে যাচ্ছে। ১৭৯৩ সালে চালু হওয়া এই কয়েন এখন বাজারে এত বেশি পরিমাণে প্রচলিত আছে প্রায় ৩০০ বিলিয়ন, যা বাস্তব চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি। এমনকি দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ কয়েন ব্যবহারহীন অবস্থায় ঘরে জমে থাকে, গড়ে প্রতি পরিবারে এর মূল্য ৬০ থেকে ৯০ ডলার।

তবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো দাম সমন্বয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এক সেন্ট বাদ পড়ায় পণ্যের দাম পূর্ণ সংখ্যায় রাউন্ড করা হলে ভোক্তাদের বার্ষিক অতিরিক্ত খরচ পড়তে পারে প্রায় ৬ মিলিয়ন ডলার, এমনটি জানায় রিচমন্ড ফেডারেল রিজার্ভের একটি গবেষণা।

বিশ্বের আরও অনেক দেশ এরই মধ্যে স্বল্পমূল্যের মুদ্রা বাদ দিয়েছে। কানাডা শেষবার এক সেন্টের কয়েন তৈরি করে ২০১২ সালে। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড ১৯৯০-এর দশকে এক ও দুই সেন্টের কয়েন বাতিল করে এবং নিউজিল্যান্ড ২০০৬ সালে পাঁচ সেন্টের কয়েন তৈরিও বন্ধ করে দেয়। যুক্তরাজ্যও ২০২৪ সালে ১ ও ২ পেনি কয়েন তৈরি বন্ধ করেছে।

এদিকে এখন যুক্তরাষ্ট্রের নজর পড়েছে পাঁচ সেন্ট মূল্যের ‘নিকেল’ মুদ্রার দিকে। এটি তৈরি করতে খরচ হয় প্রায় ১৪ সেন্ট অর্থাৎ মূল্যমানের তিন গুণের বেশি। রিচমন্ড ফেডের হিসাবে, নিকেল উৎপাদনও বন্ধ করা হলে ভোক্তাদের বার্ষিক অতিরিক্ত খরচ দাঁড়াতে পারে প্রায় ৫৫ মিলিয়ন ডলার।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল ৩ অটোরিকশা যাত্রীর

রোগীকে আটকে ইনজেকশন পুশের টাকা দাবি, নার্সকে শোকজ  

গৃহকর্মী থেকে মন্ত্রী : কলিতা মাঝির উত্থানের গল্প

নিউমার্কেট এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করল চসিক

এসএসসি পরীক্ষার্থীকে বলাৎকার, আ.লীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ২

তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর

ব্রাজিলের সামনে এবার মিসর

আগামী পাঁচ দিন কেমন থাকবে আবহাওয়া, জানাল অধিদপ্তর

ফ্ল্যাটে মিলল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ, শরীরে আঘাতের চিহ্ন

সিলেটের কৃষিপণ্য বিদেশে রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে : সিসিক প্রশাসক

১০

আসছে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ, দিনে-দুপুরে নেমে আসবে অন্ধকার

১১

বিদ্যুৎস্পর্শে প্রাণ গেল বিএনপি নেতার

১২

আইভীকে ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

১৩

গাজায় বিয়ের অনুষ্ঠানে ইসরায়েলি হামলা, নিহত ৫

১৪

সরকারি দলের বৈঠক / এমপি-মন্ত্রীদের জনগণের কাছে সরকারি সেবার সুফল পৌঁছানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

১৫

গ্রুপ পর্ব থেকে ফাইনাল: কেমন হতে পারে ব্রাজিলের সম্ভাব্য যাত্রা

১৬

গ্রুপ পর্ব থেকে ফাইনাল: কেমন হতে পারে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য যাত্রা

১৭

বুবলীর মা হওয়ার খবরে স্মিতার কড়া সমালোচনা

১৮

বাংলাদেশের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে দিল ভারত

১৯

যুবলীগ-ছাত্রলীগের ১৩ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

২০
X