কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

প্রশ্নফাঁস বিরোধী আন্দোলন করে হয়েছিলেন নেতা, সেই একই আন্দোলনে হলো পতন

তরুণ ধর্মেন্দ্র প্রধান (বায়ে) ও ককরোচ পার্টির আন্দোলনের ছবি (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত
তরুণ ধর্মেন্দ্র প্রধান (বায়ে) ও ককরোচ পার্টির আন্দোলনের ছবি (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের রাজনৈতিক উত্থানের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল ১৯৯৭ সালের একটি প্রশ্নফাঁস বিরোধী ছাত্র আন্দোলন। প্রায় তিন দশক পর সেই প্রশ্নফাঁস ইস্যুকে ঘিরে সৃষ্ট বিতর্কের জেরেই শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করতে হয়েছে তাকে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ১৯৯৭ সালে তৎকালীন কংগ্রেস সরকারের আমলে একটি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদে রাজ্য সচিবালয়ের সামনে প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থীর বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন তখনকার অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) নেতা ধর্মেন্দ্র প্রধান।

সেসময় উত্কল বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন ধর্মেন্দ্র। ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত দুই দফায় তিনি এবিভিপির জাতীয় সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় এই সময়েই প্রশ্নফাঁসবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে তিনি ব্যাপক পরিচিতি পান।

ধর্মেন্দ্র প্রধানের সহপাঠী ও বর্তমানে ভুবনেশ্বরের আরএমডি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ প্রশান্ত রাউতের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বিক্ষোভে প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। শুরুতে আন্দোলন শান্তিপূর্ণ থাকলেও পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে।

রাউত দাবি করেন, ওই ঘটনায় ধর্মেন্দ্র প্রধান গুরুতর আহত হন এবং তার শরীরের কয়েকটি হাড় ভেঙে যায়। তিনি আরও বলেন, সে সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংসদ নির্বাচনগুলোও প্রায়ই সহিংস হয়ে উঠত। একবার নির্বাচনে জয় নিশ্চিত হতে চললে প্রতিপক্ষের হামলারও শিকার হন তিনি।

ছাত্ররাজনীতির সেই অভিজ্ঞতার পর বিজেপির সাংগঠনিক রাজনীতিতে সক্রিয় হন ধর্মেন্দ্র প্রধান। পরে তিনি পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী, দক্ষতা উন্নয়নমন্ত্রী এবং ২০২১ সালে ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পান। উড়িশায় বিজেপির সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করতেও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

তবে ২০২৬ সালে নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে দেশজুড়ে শুরু হওয়া বিক্ষোভে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন জোরদার হয়। শিক্ষার্থী, বিরোধী দল এবং ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের মুখে শেষ পর্যন্ত শিক্ষামন্ত্রীর পদ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি।

যে প্রশ্নফাঁস বিরোধী আন্দোলন একসময় ধর্মেন্দ্র প্রধানকে জাতীয় রাজনীতিতে পরিচিত করে তুলেছিল, প্রায় ২৯ বছর পর একই ধরনের প্রশ্নফাঁস বিতর্কই তার শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটাল।

কালবেলা/এএমএম/এমএ
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

যুবদল কর্মী পারভেজ হত্যা: ৩ দিনের রিমান্ডে শ্যুটার চঞ্চল

অস্ট্রেলিয়া সিরিজ থেকে ছিটকেই গেলেন নাহিদ রানা, অনিশ্চিত আরও দুই ক্রিকেটার

সারাদেশে বৃষ্টি নিয়ে দুঃসংবাদ

জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে: ঢাবি ভিসি

রিমান্ড শেষে শীর্ষ সন্ত্রাসী বাপ্পি ও তার সহযোগী কারাগারে

পরিচ্ছন্ন চট্টগ্রাম গড়তে ৩৩০০ ভবনে একযোগে অভিযান

পরিকল্পিত নগরায়ন গড়তে সবুজায়নের বিকল্প নেই: ভূমিমন্ত্রী 

মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে খেলাধুলা ও শিক্ষার বিকল্প নেই: পানিসম্পদমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্র যে কারণে শুল্ক আরোপ করেছে তা ভিত্তিহীন: বাণিজ্যমন্ত্রী

সেরা গোলের দৌড়ে আর্জেন্টিনার দুই তারকা, তালিকায় আরও আছেন যারা

১০

শিকড় সন্ধানী 'ইত্যাদি' এবার লক্ষ্মীপুরে, কবে প্রচার?

১১

ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে বাঁধনের সিনেমা

১২

সাধারণ মানুষ ভাবে, যা হয় সবই সরকারের দোষ: বিদ্যুৎমন্ত্রী

১৩

খেলতে গিয়ে খালের পানিতে ডুবে গেল ২ শিশু

১৪

নিয়োগ পরীক্ষার হলে সাবেক এমপি পুত্রের উপস্থিতি নিয়ে বিতর্ক

১৫

প্রবাসীদের আইন মেনে চলতে হবে: মোবাশ্বের আলম

১৬

মেধাবী নীরবের উচ্চশিক্ষার দায়িত্ব নিলেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

১৭

সিলেটে জামায়াতের আমির / ‘ভালোয় ভালোয় জুলাই সনদ মেনে নিন, না হলে জনগণই জবাব দেবে’

১৮

আইইউবিএটিতে আন্তর্জাতিক বৃত্তিবিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত

১৯

প্রধানমন্ত্রী বন্যার্তদের পাশে আছেন: চসিক মেয়র

২০
X