

রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার মামলায় আদালতে আসামিরা আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে নিজেদের নির্দোষ ও ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। প্রধান আসামি সোহেল রানা বলেছেন, ‘আমার একটা ছাওয়াল আছে, আমাকে মাফ করে দেন স্যার।’ গতকাল বুধবার বেলা ১১টা ৯মিনিটে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আদালতের এজলাসে হাজির হন।
তার আগে আসামিদের কড়া নিরাপত্তা দিয়ে কারাগার থেকে প্রথমে আদালতের হাজতখানা, এরপর এজলাসে তোলা হয়। আসামিদের উপস্থিতিতে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি শুরু হয়। বিচারক আসামিদের বিরুদ্ধে দেওয়া ১৬ সাক্ষীর সাক্ষ্য ও অভিযোগ পড়ে শোনান। সোহেল ও স্বপ্না কাঠগড়া থেকে মনোযোগ সহকারে তা শুনছিলেন। সোহেলকে এসময় ভীত দেখাচ্ছিল। অভিযোগ পড়ে শোনানোর পর এ বিষয়ে আসামিদের কিছু বলার আছে কি না জানতে চান বিচারক।
তখন সোহেল রানা কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বলেন, ‘স্যার আমি দোষ করেছি, কিন্তু একা দোষী না। আমার সঙ্গে ডলার ছিল। তাকে কেউ দেখে নাই। তাকে ধরেন। আরেকটা কথা আমার বউ নির্দোষ।’ এ সময় বিচারক তাকে থামিয়ে বলেন আপনারটা আপনি বলেন। একটু থেমে সোহেল আবার বলেন, ‘আমার একটা ছাওয়াল আছে। আমাকে মাফ করে দেন স্যার। আমি নির্দোষ।’ আদালত তা
নোট করেন।
এরপর অভিযোগের বিষয়ে আরেক আসামি স্বপ্না আক্তারের কিছু বলার আছে কি না আদালত জানতে চান। তখন স্বপ্না বলেন, ‘আমি কিছু করিনি স্যার। আমি নির্দোষ।’ বিচারক তখন বলেন, আপনাকে দরজা খুলতে বলা হয়। খোলেননি কেন। ভিডিওতে তো আছে সেটা। এর কোনো ব্যাখ্যা দিতে চান কি না। এ সময় তাকে সতর্ক করে আদালত বলেন, আপনার স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে যে শাস্তি তার হবে, একই শাস্তি আপনারও হবে। তখনও স্বপ্না বলেন, ‘আমি কিছু করিনি, নির্দোষ আমি।’ বিচারক তা নথিভুক্ত করেন। এরপর আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানি শেষে আদালত মামলার-পরবর্তী ধাপ রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন। পরে কড়া নিরাপত্তায় ফের আসামিদের কারাগারে নেওয়া হয়।
রাষ্ট্রপক্ষে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু বলেন, ‘বিচার প্রক্রিয়া বিভ্রান্ত করতে সোহেল এখন ‘ডলার’ নামে কারও কথা বলছে। কারও বুদ্ধিতে এমন করছেন। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে কখনোই তিনি এই ‘ডলার’ নামে কারও কথা বলেননি।’
রাষ্ট্রপক্ষের এ আইনজীবী আরও বলেন, ‘অন্য মামলার প্রক্রিয়ার মতো ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিরা নির্দোষ দাবি করেছে। কাল (আজ) মামলার যুক্তিতর্ক শেষ করব। এরপর বিচারক মামলার রায়ের দিন ধার্য করবেন।’
অন্যদিকে রাষ্ট্র নিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী মূসা কালিমূল্যাহ বলেন, ‘আসামি সোহেল ক্ষমা চেয়েছেন। নির্দোষ দাবি করেছেন। মামলার যুক্তিতর্ক শেষে রায়ে প্রমাণিত হবে।’ এরআগে গত মঙ্গলবার রামিসার বাবা, মা, বোন, স্বজন, প্রতিবেশী প্রত্যক্ষদর্শী ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ ১৬ জন সাক্ষ্য দেন।
গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীর একটি বাসা থেকে আট বছরের শিশু রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ফ্ল্যাটটিতে বসবাসকারী সোহেল রানা ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর আদালতের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করেছিলেন সোহেল।