

ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর বিনামূল্যের খাবার কর্মসূচির বাজেট আরও ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি কমানো হয়েছে। ফলে কর্মসূচির আওতায় সুবিধাভোগীর সংখ্যা কমতে পারে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
কয়েক বিলিয়ন ডলারের এই কর্মসূচি প্রেসিডেন্ট প্রাবোওর অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। তবে বাস্তবায়নের সময় খাদ্যে বিষক্রিয়া ও দুর্নীতির অভিযোগে এটি সমালোচনার মুখে পড়ে।
জাতীয় পুষ্টি সংস্থার সচিব লিলি খামিলিয়াহ মঙ্গলবার জানান, চলতি বছরের জন্য কর্মসূচির বাজেট ২৬৮ ট্রিলিয়ন রুপিয়া (প্রায় ১৪ দশমিক ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) থেকে কমিয়ে ২২৯ ট্রিলিয়ন রুপিয়া করা হয়েছে।
এর আগে এ কর্মসূচির জন্য ৩৩৫ ট্রিলিয়ন রুপিয়া বরাদ্দ ছিল। পরে ব্যয় সংকোচনের অংশ হিসেবে কয়েক দফায় বাজেট কমানো হয়।
সংস্থার মুখপাত্র আগুস্তিনা আরুমসারি বলেন, বাজেট এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কর্মসূচির বাস্তবায়ন মূল্যায়নের পর আরও কাটছাঁট করা হতে পারে।
তিনি বলেন, ‘কর্মসূচির ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে প্রেসিডেন্ট আমাদের এক মাস সময় দিয়েছেন।’
আগুস্তিনা জানান, বাজেট কমার ফলে সুবিধাভোগীর সংখ্যা কমবে। তবে সরকার এখন নির্দিষ্ট সংখ্যার চেয়ে খাবারের মান উন্নয়ন, প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সহায়তা পৌঁছানো এবং নতুন করে খাদ্যে বিষক্রিয়া প্রতিরোধের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
বর্তমানে প্রায় ৬ কোটি ২৭ লাখ মানুষ এই কর্মসূচির আওতায় খাবার পাচ্ছেন। তবে নতুন বাজেটের কারণে কতজন এই সুবিধা থেকে বাদ পড়বেন, তা জানানো হয়নি।
গত মাসে জাতীয় পুষ্টি সংস্থা জানিয়েছিল, স্কুলের ছুটির সময় বিনামূল্যে খাবার বিতরণ সাময়িক বন্ধ রেখে ৩ ট্রিলিয়ন রুপিয়ার বেশি সাশ্রয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এর আগে মার্চে সপ্তাহে ছয় দিনের পরিবর্তে পাঁচ দিন খাবার বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধজনিত অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় ওই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রায় ৪০ ট্রিলিয়ন রুপিয়া সাশ্রয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।
এদিকে জাতীয় পুষ্টি সংস্থার প্রধান নানিক সুদারিয়াতি দেয়াং বুধবার স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে ফেসবুকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
এর আগে প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সংস্থার সাবেক প্রধান দাদান হিন্দায়ানা ও দুই উপপ্রধানকে বরখাস্ত করেন। পরে তাদের বিরুদ্ধে সংস্থার ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে।
বিনামূল্যের খাবার কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল অন্তত ৮ কোটি ২৯ লাখ শিশু এবং গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারীকে পুষ্টিসহায়তা দেওয়া। এটি ইন্দোনেশিয়ার মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী, ইন্দোনেশিয়ায় এখনো ২০ শতাংশের বেশি শিশু খর্বাকৃতির (স্টান্টিং) সমস্যায় ভুগছে।