স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ : ০২ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
আপডেট : ০২ জুলাই ২০২৬, ১১:৩১ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বকাপে হতাশ করেছে এশিয়া

জাপান দেখিয়েছে বিশ্বসেরাদের সঙ্গেও লড়াই করা যায়
বিশ্বকাপে হতাশ করেছে এশিয়া

২০২৬ সালের বিশ্বকাপে এশিয়ার দলগুলোর পারফরম্যান্স ছিল বেশ হতাশাজনক। তবে এই হতাশার মাঝেও জাপান দেখিয়েছে সাহস, দক্ষতা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার শক্তি। শেষ ষোলোর ম্যাচে শক্তিশালী ব্রাজিলের বিপক্ষে দীর্ঘ সময় দাপট দেখিয়েও শেষ মুহূর্তের গোলে ২-১ ব্যবধানে হেরে বিদায় নেয় জাপান। ম্যাচজুড়ে তারা প্রমাণ করে যে, সঠিক পরিকল্পনা ও ধারাবাহিক উন্নয়নের মাধ্যমে এশিয়ার দলগুলোও বিশ্বের সেরাদের সঙ্গে সমানতালে লড়তে পারে।

জাপানের প্রধান কোচ হাজিমে মরিয়াসু ম্যাচের আগে বলেছিলেন, এশিয়ার প্রতিনিধিত্ব করাই তাদের লক্ষ্য এবং তারা অন্য এশীয় দেশগুলোর জন্য অনুপ্রেরণা হতে চান। তার এ বক্তব্য মাঠের পারফরম্যান্সেও প্রতিফলিত হয়। তবে কাওরু মিতোমা, ওয়াতারু এন্দো, তাকুমি মিনামিনো ও তাকেফুসা কুবোর মতো গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতি শেষ পর্যন্ত জাপানের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এবারের বিশ্বকাপে এশিয়ার ৯টি দলের মধ্যে সাতটি গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। শুধু জাপান ও অস্ট্রেলিয়া নকআউট পর্বে উঠতে সক্ষম হয়। অন্যদিকে আফ্রিকার ১০টি দলের মধ্যে মাত্র একটি দল গ্রুপ পর্বে বাদ পড়ে, যা দুই মহাদেশের পারফরম্যান্সের পার্থক্য স্পষ্ট করে। ইরান তিনটি ম্যাচেই ড্র করলেও নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছিল। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তাদের প্রস্তুতি ব্যাহত হয়, তবু তারা নকআউট পর্বে ওঠার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিল। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া জর্ডান ও উজবেকিস্তান এবং কঠিন গ্রুপে পড়া ইরাকও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। তবে অভিজ্ঞতার অভাব সত্ত্বেও তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবল উপহার দিয়েছে, যা ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে। সৌদি আরব ও কাতারের ব্যর্থতার অন্যতম কারণ ছিল দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব এবং দেশীয় লিগনির্ভরতা। বিদেশি খেলোয়াড়ে সমৃদ্ধ লিগে স্থানীয় ফুটবলারদের সুযোগ সীমিত হওয়ায় সেখানে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরি হচ্ছে না। বিশেষ করে কানাডার কাছে কাতারের ৬-০ ব্যবধানে পরাজয় এশিয়ার অন্যতম হতাশাজনক ফল হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়াও প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়। প্রথম ম্যাচে জয়ের পর পরবর্তী দুই ম্যাচে নিষ্প্রভ পারফরম্যান্সের কারণে তারা বিদায় নেয়। এই ব্যর্থতার পর প্রধান কোচ হং মিয়ং-বো পদত্যাগ করেন। বিশ্লেষকদের মতে, এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)-এর নীতিগত দুর্বলতাও এশিয়ার পিছিয়ে পড়ার একটি কারণ। ক্লাব ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার কাঠামোতে ভারসাম্যের অভাব এবং কয়েকটি দেশের প্রতি অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

সব মিলিয়ে, বিশ্বকাপ এশিয়ার ফুটবলের জন্য অনেক শিক্ষা রেখে গেছে। জাপানের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, ধৈর্য ও উন্নয়নের মডেল অনুসরণ করতে পারলে ভবিষ্যতে আরও বেশি এশীয় দল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিতে সক্ষম হবে। আগামী জানুয়ারিতে সৌদি আরবে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়ান কাপ সেই নতুন যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হতে পারে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমি অনেক দিন ধরেই ইরানের হিটলিস্টে আছি: ট্রাম্প

ঢামেকের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রী, উদ্বোধন করলেন বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির 

তিস্তার পানি কমলেও কচুরিপানায় ভরে গেছে ফসলি জমি

ওয়ালটনে চাকরির সুযোগ, পাবেন বিভিন্ন সুবিধা

কেইন বনাম হালান্ড, কাকে সেরা বললেন ইংলিশ অধিনায়ক?

বায়ুদূষণে শীর্ষে কিনশাসা, ঢাকার অবস্থান কত

বন্যা, ঝড় ও অতিবৃষ্টিতে ইসলামের নির্দেশনা

‘কখনো হাল না ছাড়া’ দল হিসেবে আর্জেন্টিনাকে মানুষ মনে রাখুক: স্কালোনি

এক সপ্তাহে দ্বিতীয়বার ব্ল্যাকআউটে কিউবা

আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড ম্যাচে জিতবে কে, ভবিষ্যদ্বাণী দিল সুপার কম্পিউটার

১০

‘বৈষম্যহীন দেশের জন্য এত রক্ত দেওয়ার পরও চাঁদাবাজি-দখলবাজি শুরু হয়েছে’

১১

বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস আজ

১২

বদলে যাচ্ছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের চিত্র / ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে ট্রাম্পের অনুমতি

১৩

টানা বৃষ্টিতে পানের বরজে ধস, স্বপ্নভঙ্গ চাষিদের 

১৪

বালুর ব্যবসা বন্ধ করেছি, এবার পাহাড় কাটাও বন্ধ করব: হুমাম কাদের

১৫

কোরআনের যে ৪০ আয়াত প্রতিটি মুসলিমের মুখস্থ থাকা উচিত

১৬

সন্তানকে নিয়ে নদীতে ঝাঁপ, জীবিত উদ্ধার মা-শিশু

১৭

মিয়ানমারে ২৪ ঘণ্টায় দুই দফা ভূমিকম্প

১৮

বন্যপ্রাণীর সুরক্ষায় পাঁচটি রোপওয়ে করিডোর

১৯

আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ ও রুপা

২০
X