

কোরআন শুধু তেলাওয়াতের জন্য অবতীর্ণ কোনো গ্রন্থ নয়; এটি মানুষের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রের জন্য আল্লাহ তাআলার সর্বোত্তম দিকনির্দেশনা। ঈমান, ইবাদত, চরিত্র, পরিবার, সমাজ কিংবা ব্যক্তিগত সংকট; প্রতিটি বিষয়ে কোরআনের রয়েছে সুস্পষ্ট শিক্ষা ও প্রজ্ঞাপূর্ণ নির্দেশনা। তাই একজন মুমিনের জন্য কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক শুধু পড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা বোঝা, মুখস্থ করা, চিন্তা করা এবং জীবনে বাস্তবায়ন করাই প্রকৃত উদ্দেশ্য।
কোরআনে এমন অনেক আয়াত রয়েছে, যেগুলো একজন মুসলিমের দৈনন্দিন জীবনের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কিছু আয়াত সালাতের অবিচ্ছেদ্য অংশ, কিছু আল্লাহর একত্ববাদ ও মহিমার ঘোষণা, কিছু বিপদে ধৈর্য ও আশা জাগায়, আবার কিছু আয়াত দোয়া, তাওয়াক্কুল, তাকওয়া ও উত্তম চরিত্র গঠনের শিক্ষা দেয়। এসব আয়াত মুখস্থ থাকলে প্রয়োজনে সহজেই তা তেলাওয়াত করা যায়, অর্থ নিয়ে ভাবা যায় এবং জীবনের নানা বাস্তবতায় সেগুলোর আলোকে নিজেকে পরিচালিত করা সহজ হয়।
নিচে এমন ৪০টি গুরুত্বপূর্ণ আয়াত তুলে ধরা হলো, যেগুলো প্রতিটি মুসলিমের মুখস্থ রাখার চেষ্টা করা উচিত।
১. সুরা আল-ফাতিহা (১-৭)
অর্থ: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক। যিনি সকলের প্রতি দয়াবান, পরম দয়ালু। যিনি কর্মফল-দিবসের মালিক। (হে আল্লাহ) আমরা তোমারই ইবাদত করি এবং তোমারই কাছে সাহায্য চাই। আমাদের সরল পথে পরিচালিত কর। সেই সকল লোকের পথে, যাদের প্রতি তুমি অনুগ্রহ করেছ। ওই সকল লোকের পথে নয়, যাদের প্রতি আজাব নাজিল হয়েছে এবং তাদের পথেও নয়, যারা পথহারা।
এটি কোরআনের সূচনা এবং প্রতিটি রাকাতে সালাতের অপরিহার্য অংশ (মিশকাত: ৮২৩)। রাসুল (সা.) একে ‘উম্মুল কোরআন’ বা কোরআনের জননী বলেও উল্লেখ করেছেন।
২. আয়াতুল কুরসি (সুরা আল-বাকারাহ: ২৫৫)
ٱللَّهُ لَآ إِلَـٰهَ إِلَّا هُوَ ٱلْحَىُّ ٱلْقَيُّومُۚ لَا تَأْخُذُهُۥ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌۚ لَّهُۥ مَا فِى ٱلسَّمَـٰوَٲتِ وَمَا فِى ٱلْأَرْضِۗ مَن ذَا ٱلَّذِى يَشْفَعُ عِندَهُۥٓ إِلَّا بِإِذْنِهِۦۚ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْۖ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَىْءٍ مِّنْ عِلْمِهِۦٓ إِلَّا بِمَا شَآءَۚ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ ٱلسَّمَـٰوَٲتِ وَٱلْأَرْضَۖ وَلَا يَــُٔودُهُۥ حِفْظُهُمَاۚ وَهُوَ ٱلْعَلِىُّ ٱلْعَظِيمُ
অর্থ: আল্লাহ, তিনি ছাড়া সত্যিকারের কোনো উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সর্বদা রক্ষণাবেক্ষণকারী। তাঁকে তন্দ্রা ও নিদ্রা স্পর্শ করে না। আকাশমণ্ডলে ও ভূমণ্ডলে যা কিছু আছে, তাঁরই। কে সেই ব্যক্তি যে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর নিকট সুপারিশ করে? তিনি লোকদের সমুদয় প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য অবস্থা জানেন। পক্ষান্তরে মানুষ তাঁর জ্ঞানের কোনকিছুই আয়ত্ত করতে সক্ষম নয়, তিনি যে পরিমাণ ইচ্ছে করেন সেটুকু ছাড়া। তাঁর কুরসী আকাশ ও পৃথিবী পরিবেষ্টন করে আছে এবং এ দু’য়ের রক্ষণাবেক্ষণ তাঁকে ক্লান্ত করে না, তিনি উচ্চ মর্যাদাশীল, মহান।
আল্লাহর মহিমা, ক্ষমতা ও একত্ববাদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আয়াত। হাদিসে এসেছে, ফরজ সালাতের পর এবং রাতে ঘুমানোর আগে এটি পাঠের বিশেষ ফজিলত রয়েছে। (আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ, নাসায়ী: ১০০)
৩. সুরা আল-বাকারার শেষ দুই আয়াত (২৮৫-২৮৬)
অর্থ: রাসুল তার নিকট তার রবের পক্ষ থেকে নাজিলকৃত বিষয়ের প্রতি ঈমান এনেছে, আর মুমিনগণও। প্রত্যেকে ঈমান এনেছে আল্লাহর ওপর, তাঁর ফেরেশতাকুল, কিতাবসমূহ ও তাঁর রাসুলগণের ওপর। আমরা তাঁর রাসুলগণের কারও মধ্যে তারতম্য করি না। আর তারা বলে, আমরা শুনলাম এবং মানলাম। হে আমাদের রব! আমরা আপনারই ক্ষমা প্রার্থনা করি, আপনার দিকেই শেষ প্রত্যাবর্তন।
ঈমান, দোয়া ও আল্লাহর ওপর ভরসার অনন্য শিক্ষা রয়েছে এই দুই আয়াতে। হাদিসে এর বিশেষ মর্যাদার কথা উল্লেখ হয়েছে। (সহিহ মুসলিম: ১৭৫০)
৫. সুরা আশ-শারহের ৫ ও ৬ নম্বর আয়াত।
অর্থ: সুতরাং কষ্টের সাথেই রয়েছে সুখ। নিশ্চয় কষ্টের সাথেই রয়েছে সুখ।
বিপদ ও হতাশার সময় আশার আলো দেখায় এই দুই আয়াত।
৬. সুরা আজ-জুমার: ৫৩
قُلْ يَـٰعِبَادِىَ ٱلَّذِينَ أَسْرَفُواْ عَلَىٰٓ أَنفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُواْ مِن رَّحْمَةِ ٱللَّهِۚ إِنَّ ٱللَّهَ يَغْفِرُ ٱلذُّنُوبَ جَمِيعًاۚ إِنَّهُۥ هُوَ ٱلْغَفُورُ ٱلرَّحِيمُ
অর্থ: ‘হে আমার বান্দাগণ, যারা নিজদের ওপর বাড়াবাড়ি করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। অবশ্যই আল্লাহ সকল পাপ ক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’।
যারা ভুল করে অনুতপ্ত, তাদের জন্য এই আয়াতটি কোরআনের অন্যতম আশাব্যঞ্জক বার্তা।
৭. সুরা আত-তালাক: ৩
وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُۚ وَمَن يَتَوَكَّلْ عَلَى ٱللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُۥٓۚ إِنَّ ٱللَّهَ بَـٰلِغُ أَمْرِهِۦۚ قَدْ جَعَلَ ٱللَّهُ لِكُلِّ شَىْءٍ قَدْرًا
অর্থ: তিনি তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দেবেন যা সে কল্পনাও করতে পারবে না। আর যে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট। আল্লাহ তাঁর উদ্দেশ্য পূর্ণ করবেনই। নিশ্চয় আল্লাহ প্রত্যেক জিনিসের জন্য একটি সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন।
তাওয়াক্কুল বা আল্লাহর ওপর নির্ভরতার শিক্ষা দেয় এই আয়াত।
৮. সুরা আর-রাদ: ২৮
ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَتَطْمَئِنُّ قُلُوبُهُم بِذِكْرِ ٱللَّهِۗ أَلَا بِذِكْرِ ٱللَّهِ تَطْمَئِنُّ ٱلْقُلُوب
অর্থ: যারা ঈমান আনে এবং আল্লাহর স্মরণে যাদের অন্তর প্রশান্ত হয়; জেনে রাখো, আল্লাহর স্মরণ দ্বারাই অন্তরসমূহ প্রশান্ত হয়।
অস্থিরতা ও দুশ্চিন্তার সময় এই আয়াত মুমিনকে আল্লাহর জিকিরের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়।
৯. সুরা আল-বাকারাহ: ১৫৩
يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱسْتَعِينُواْ بِٱلصَّبْرِ وَٱلصَّلَوٲةِۚ إِنَّ ٱللَّهَ مَعَ ٱلصَّـٰبِرِينَ
অর্থ: হে মুমিনগণ, ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য চাও। নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।
বিপদ মোকাবিলায় ইসলামের অন্যতম মৌলিক শিক্ষা এই আয়াত।
১০. সুরা আল-বাকারাহ: ২১৬
كُتِبَ عَلَيْكُمُ ٱلْقِتَالُ وَهُوَ كُرْهٌ لَّكُمْۖ وَعَسَىٰٓ أَن تَكْرَهُواْ شَيْــًٔا وَهُوَ خَيْرٌ لَّكُمْۖ وَعَسَىٰٓ أَن تُحِبُّواْ شَيْــًٔا وَهُوَ شَرٌّ لَّكُمْۗ وَٱللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ
অর্থ: তোমাদের ওপর লড়াইয়ের বিধান দেওয়া হয়েছে, অথচ তা তোমাদের কাছে অপছন্দনীয়। কিন্তু হতে পারে কোনো বিষয় তোমরা অপছন্দ করছো, অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর হতে পারে কোনো বিষয় তোমরা পছন্দ করছো; অথচ তা তোমাদের জন্য অকল্যাণকর। আর আল্লাহ জানেন এবং তোমরা জান না।
মানুষের সীমিত জ্ঞান এবং আল্লাহর সর্বোত্তম পরিকল্পনার কথা স্মরণ করিয়ে দেয় এই আয়াত।
১১. সুরা আত-তাওবা: ৪০
لَا تَحْزَنْ إِنَّ ٱللَّهَ مَعَنَاۖ
অর্থ: তুমি দুঃখ করো না, নিশ্চয় আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন।"
ভয় ও সংকটের সময় সাহস জোগায় এই আয়াত।
১২.সুরা আলে ইমরান: ১৭৩
حَسْبُنَا ٱللَّهُ وَنِعْمَ ٱلْوَكِيلُ
অর্থ: আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।
বিপদের সময় এটি পড়তেন সাহাবায়ে কেরাম।
১৩. সুরা ত্বা-হা: ৬৮
لَا تَخَفْ إِنَّكَ أَنتَ ٱلْأَعْلَىٰ
অর্থ: ভয় করো না, নিশ্চয়ই তুমিই বিজয়ী হবে।
হজরত মুসা (আ.)-কে উদ্দেশ্য করে আল্লাহর এই আশ্বাস আজও প্রতিটি মুমিনকে সাহস জোগায়।
১৪. সুরা গাফির: ৬০
وَقَالَ رَبُّكُمُ ٱدْعُونِىٓ أَسْتَجِبْ لَكُمْۚ إِنَّ ٱلَّذِينَ يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِى سَيَدْخُلُونَ جَهَنَّمَ دَاخِرِينَ
অর্থ: তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের জন্য সাড়া দেব। নিশ্চয় যারা অহংকার করে আমার ইবাদাত থেকে বিমুখ থাকে, তারা অচিরেই লাঞ্ছিত অবস্থায় জাহান্নামে প্রবেশ করবে।
দোয়ার গুরুত্ব ও আল্লাহর প্রতিশ্রুতি তুলে ধরা হয়েছে এই আয়াতে।
১৫. সুরা আত-তালাক: ২-৩
وَمَن يَتَّقِ ٱللَّهَ يَجْعَل لَّهُۥ مَخْرَجًا
অর্থ: যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরী করে দেন।
তাকওয়ার প্রতিদান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয় এই আয়াত।
১৬. সুরা আল-ইখলাস: ১-৪
অর্থ: বলুন, তিনি আল্লাহ এক এবং অদ্বিতীয়। আল্লাহ কারও মুখাপেক্ষী নন বরং সকলেই তার মুখাপেক্ষী। তার কোনো সন্তান নেই এবং তিনি কারও সন্তানও নন এবং তার সমতুল্য কেউ নেই।
এই সুরাটি তাওহিদের সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত ও শক্তিশালী ঘোষণা। হাদিসে এসেছে, এটি এক-তৃতীয়াংশ কোরআনের সমান সওয়াবের অধিকারী। (বোখারি: ৪৬৪৫)
১৭. সুরা আল-ফালাক: ১-৫
অর্থ: বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি প্রভাতের পালনকর্তার, তিনি যা সৃষ্টি করেছেন, তার অনিষ্ট থেকে। অন্ধকার রাত্রির অনিষ্ট থেকে, যখন তা সমাগত হয়, গ্রন্থিতে ফুঁৎকার দিয়ে জাদুকারিনীদের অনিষ্ট থেকে এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে।
অকল্যাণ ও অনিষ্ট থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনার শিক্ষা দেয় এই আয়াতগুলো।
১৮. সুরা আন-নাস (১-৬)
অর্থ: তুমি বল, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি, মানুষের প্রতিপালক, মানুষের অধীশ্বর, মানুষের উপাস্যের কাছে— তার কুমন্ত্রণার অনিষ্ট হতে, যে সুযোগমতো আসে ও (কুমন্ত্রণা দিয়ে) সরে পড়ে। যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের হৃদয়ে, জিন ও মানুষের মধ্য হতে।
শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে রক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সুরা।
১৯. সুরা আলে ইমরান: ১৩৯
وَلَا تَهِنُواْ وَلَا تَحْزَنُواْ وَأَنتُمُ ٱلْأَعْلَوْنَ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ
অর্থ: তোমরা নিরাশ হয়ো না ও বিষণ্ণ হয়ো না, যদি তোমরা মুমিন হও তাহলে তোমরাই বিজয়ী হবে।
ঈমানদারদের জন্য এটি সাহস ও আত্মবিশ্বাসের বার্তা।
২০. সুরা আন-নাহল: ৯০
إِنَّ ٱللَّهَ يَأْمُرُ بِٱلْعَدْلِ وَٱلْإِحْسَـٰنِ وَإِيتَآىِٕ ذِى ٱلْقُرْبَىٰ وَيَنْهَىٰ عَنِ ٱلْفَحْشَآءِ وَٱلْمُنكَرِ وَٱلْبَغْىِۚ يَعِظُكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ
অর্থ: নিশ্চয় আল্লাহ ইনসাফ, সদাচার ও নিকট আত্মীয়দের দান করার আদেশ দেন এবং তিনি আশ্লীলতা, মন্দ কাজ ও সীমালঙ্ঘন থেকে নিষেধ করেন। তিনি তোমাদেরকে উপদেশ দেন, যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর।
এই আয়াতকে কোরআনের অন্যতম ব্যাপক নৈতিক নির্দেশনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অনেক মুসলিম দেশে জুমার খুতবার শেষাংশে এটি তেলাওয়াত করা হয়।
কেন এই আয়াতগুলো মুখস্থ করবেন?
কোরআনের আয়াত মুখস্থ করার উদ্দেশ্য শুধু মুখে উচ্চারণ করা নয়; বরং আল্লাহর বাণীকে হৃদয়ে ধারণ করা এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তার আলোকে চলার চেষ্টা করা। একজন মুসলিম যখন নিয়মিত কোরআনের আয়াত মুখস্থ করেন, অর্থ নিয়ে চিন্তা করেন এবং সেই অনুযায়ী আমল করেন, তখন তার ঈমান আরও দৃঢ় হয়, হৃদয়ে প্রশান্তি আসে এবং সংকটের মুহূর্তেও আল্লাহর ওপর ভরসা অটুট থাকে।
ইসলামি স্কলার মুফতি রেজাউল করীম আবরার কালবেলাকে বলেন, এই ৪০টি আয়াত এমন, যা একজন মুসলিমের দৈনন্দিন জীবনের নানা পরিস্থিতিতে পথ দেখাতে পারে। কোনো আয়াত ধৈর্যের শিক্ষা দেয়, কোনোটি আশা জাগায়, কোনোটি আল্লাহর রহমতের সুসংবাদ শোনায়, আবার কোনোটি তাকওয়া, তাওয়াক্কুল ও ন্যায়নিষ্ঠ জীবনের আহ্বান জানায়।
তাই প্রতিদিন একটি করে আয়াত মুখস্থ করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। শুধু মুখস্থ করেই থেমে থাকবেন না; এর অর্থ বুঝুন, তাফসির পড়ুন এবং জীবনে বাস্তবায়নের চেষ্টা করুন। কারণ কোরআন তখনই মানুষের জন্য প্রকৃত হিদায়াত হয়ে ওঠে, যখন তা শুধু ঠোঁটে নয়, হৃদয়ে এবং কর্মেও প্রতিফলিত হয়।