

বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠ ও জলাভূমিতে দেখা মিলেছে দুর্লভ প্রজাতির শামুকখোল পাখির। শত শত শামুকখোল পাখির কলরবে ভোর থেকে সন্ধ্যা নামে বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার রিধইল গ্রামের মাঠে। খাবারের সন্ধানে তারা বারবার ছুটে আসে এখানে। তাদের কিচিরমিচির শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে ওই এলাকা। ধানকাটা মাঠে ঝাঁকে ঝাঁকে নেমে খাবার সংগ্রহ করতে দেখা যাচ্ছে পাখিগুলোকে। এ মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রকৃতিপ্রেমীরা।
গত রোববার সকালে উপজেলার রিধইল মাঠে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় দুই থেকে তিনশ শামুকখোল পাখি একসঙ্গে খাবার সংগ্রহ করছে। দিনের আলোয় আশপাশের বিল, জলাশয় ও কৃষিজমি থেকে শামুক, ব্যাঙ, ছোট মাছ, কাঁকড়া ও বিভিন্ন জলজ প্রাণী খেয়ে বেড়াচ্ছে। আবার সন্ধ্যা নামতেই তারা ফিরে যায় নিজেদের আবাসস্থলে।
স্থানীয় কৃষক আব্দুল জলিলের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রিধইল গ্রামের চারপাশের বাঁশবাগান, শিমুল, কদম, পাকুড়, মেহগনি ও অন্যান্য বড় গাছে বাসা বেঁধেছে পাখিগুলো। এ ছাড়াও নন্দীগ্রাম কপাল মাঠসহ বিভিন্ন এলাকায় এসব পাখির আনাগোনা দেখা যাচ্ছে। বিকেলের পর গাছের উঁচু ডালে শত শত পাখিকে পাশাপাশি বসে বিশ্রাম নিতে দেখা যায়।
আরেক বাসিন্দা আবদুর জোব্বার জানান, ধূসর-সাদা রঙের এই পাখির ডানা বড়, ঠোঁট লম্বা এবং মাঝখানে ফাঁকাযুক্ত হওয়ায় সহজেই শামুকের খোল ভেঙে ভেতরের অংশ খেতে পারে। লেজ ও পাখার শেষভাগ কালো রঙের হওয়ায় দূর থেকেই পাখিগুলোকে আলাদা করে চেনা যায়। দেখতে অনেকটা বকের মতো হলেও আচরণ ও খাদ্যাভ্যাসে রয়েছে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য।
পাখি বিশেষজ্ঞ আমজাদ হোসেন বলেন, শুকনো ডাল, কঞ্চি ও লতাপাতা দিয়ে স্ত্রী ও পুরুষ শামুকখোল মিলে প্রায় ১০ থেকে ১২ দিনে বাসা তৈরি করে। জুলাই-আগস্ট মাসে তিন থেকে পাঁচটি ডিম দেয় এবং প্রায় ২৫ দিনে ডিম ফুটে ছানা বের হয়। এক মাসের কিছু বেশি সময়ের মধ্যেই ছানাগুলো উড়তে সক্ষম হয়।প্রায় ৮১ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্যের এই পাখির ডানার বিস্তার প্রায় ৪০ সেন্টিমিটার। ঠোঁটের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৫ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার এবং পা প্রায় ১৪ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার। প্রজনন মৌসুমে এদের দেহ আরও উজ্জ্বল সাদা রং ধারণ করে।
বর্ষা মৌসুমে দেশের উত্তরাঞ্চলের জলাভূমি এলাকায় শামুকখোলের উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। পর্যাপ্ত খাদ্য ও নিরাপদ পরিবেশ পেলে তারা দীর্ঘ সময় একই এলাকায় অবস্থান করে। খাদ্যের সংকট দেখা দিলে আবার অন্যত্র চলে যায় এবং অনুকূল পরিবেশ ফিরে এলে ফের একই এলাকায় ফিরে আসে।
প্রকৃতির এই মনোমুগ্ধকর অতিথিদের নিরাপদ আবাস ও খাদ্য সংস্থানের জন্য স্থানীয়রা সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তাদের আবাসস্থল সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন।
পরিবেশবিদদের মতে, শামুকখোলের আগমন কোনো এলাকার জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের সুস্থতার একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে।
নন্দীগ্রাম উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, বিষয়টি আমিও শুনেছি। পাখিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।