মাসুদ কামাল
প্রকাশ : ১৬ অক্টোবর ২০২৫, ১২:০০ এএম
আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২৫, ০৮:১৩ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

জুলাই সনদ: নীতি ও বাস্তবায়ন নিয়ে কিছু কথা

জুলাই সনদ: নীতি ও বাস্তবায়ন নিয়ে কিছু কথা

জুলাই সনদ ও এর বাস্তবায়ন নিয়ে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো এ মুহূর্তে যতটা সম্পৃক্ত ও ব্যস্ত, অন্য কিছু নিয়ে সম্ভবত নয়। সরকার নিজেও এটা নিয়ে বেশ সিরিয়াস। ড. ইউনূসের সরকার শুরু থেকেই তাদের লক্ষ্য হিসেবে তিনটি বিষয়ের কথা উচ্চারণ করেছে—সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন। প্রথম যে লক্ষ্য—সংস্কার, সেই কার্যক্রমের চূড়ান্ত স্তর এই ‘জুলাই সনদ’। এখানেই ঠিক করে দেওয়া হবে আগামীতে কীভাবে চলবে দেশ। দেশ চালাতে গিয়ে রাজনীতিবিদরা কী করতে পারবেন, আর কী করতে পারবেন না—তার অনেক কিছুই বলে দেওয়া থাকবে এই সনদে। সে হিসেবে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মাঝে একবার দেখলাম দাবি উঠেছে—জুলাই সনদকে সংবিধানের ওপরে স্থান দিতে হবে! এই সনদ নিয়ে পরবর্তী সময়ে কোনো আদালতে প্রশ্ন তোলা যাবে না। যারা এই দাবি তুলেছিলেন, তারা এ সময়ে সরকারের কাছে খুবই গুরুত্ব পেয়ে থাকেন। তবে এটাও ঠিক, আগামী নির্বাচনে তাদের ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনা খুব একটা প্রবল নয়।

এই জুলাই সনদটি চূড়ান্ত হচ্ছে যে ‘জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে’, সেখানে প্রতিটি আলোচনায় ৩৫টির মতো রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, এদের মধ্যকার কমপক্ষে ২৮ থেকে ২৯টি দলের কেউই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একটি আসনেও বিজয়ী হতে পারবেন না। অথচ কথা বলার সময়, মতামত দেওয়ার সময় সেসব দলের প্রতিনিধিরা কিন্তু বড় দলের প্রতিনিধিদের মতো সমান গুরুত্বই পাচ্ছেন। আমাদের দেশে এমন অনেক জনপ্রিয় মানুষ রয়েছেন যারা হয়তো কোনো দল করেন না; কিন্তু নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন। মাঝেমধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিজয়ীও হন। আমার কেন যেন মনে হয় আগামী নির্বাচনে এরকম স্বতন্ত্র এমপির সংখ্যাটা বেশ উল্লেখ করার মতোই হবে। এই যে দলবিহীন স্বতন্ত্র প্রার্থী, তাদেরও কোনো প্রতিনিধি নেই জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায়। আলোচনায় অংশ নিতে আমন্ত্রণ পাননি বিতাড়িত সরকারের দল আওয়ামী লীগের কোনো প্রতিনিধি। এর অবশ্য একটা কারণ আছে। সরকার আওয়ামী লীগের বিচার করছে, তাদের কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের শরিক হিসেবে অন্য যে রাজনৈতিক দলগুলো ছিল, যেমন জাতীয় পার্টি, জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি—এরা তো আর নিষিদ্ধ নয়। এদের রাজনীতি করার ওপর কোনো স্থগিতাদেশও নেই। অথচ তারাও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে মতামত দেওয়ার জন্য ডাক পায়নি। জুলাই আন্দোলনের সময় তৎকালীন সরকার সাধারণ মানুষের ওপর যে অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়েছে, নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে, তার দায়ে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধেই মামলা হয়েছে। তাদের বিচার হবে। যেহেতু বিচার হবে, তাদের রাজনীতি আপাতত স্থগিত থাকবে। এমন স্থগিতাদেশ এসেছে বর্তমানে দায়িত্বে থাকা ড. ইউনূস সরকারের একটা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে। কিন্তু ওই শরিক দলগুলোর বিরুদ্ধে তো কোনো মামলা হয়নি, তাদের কর্মকাণ্ডের ওপর কোনো স্থগিতাদেশও নেই। তাহলে তাদের আলোচনার বাইরে রাখা হচ্ছে কোন বিবেচনায়, কোন আইনে? নাকি বিচার ছাড়াই বিশেষ কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর অভিমতের ওপর নির্ভর করে চলছে সরকার ও সরকার কর্তৃক গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশন?

এখানে আরও একটা প্রশ্ন আসতে পারে। আওয়ামী লীগ ও তার শরিক দলগুলোর কোনো ভোট কি দেশজুড়ে নেই? আগের নির্বাচনগুলোর মধ্যে যেগুলোয় আওয়ামী লীগের ভরাডুবি হয়েছে, সেসবের দিকে তাকালেও দেখা যায় কয়েক কোটি ভোট এদের রয়েছে। দেশে আগামী দিনে শাসনতন্ত্র কি এই লোকগুলোর ওপর প্রযোজ্য হবে না? এরা কি আগামী নির্বাচনে ভোট দেবে না? উত্তর যদি উভয় ক্ষেত্রেই ‘হ্যাঁ’ হয়, তাহলে জুলাই সনদে তাদের মতামত রাখার সুযোগ থাকছে না কেন? এই বিপুল জনগোষ্ঠীকে বাইরে রেখে যে আলোচনা, যে ঐকমত্য, সেটাকে জাতীয় ঐকমত্যই বা বলা যায় কীভাবে? নাকি আগামী সরকারের আমলে, এই জুলাই সনদের আলোকে যে দেশ পরিচালিত হবে, সেখানে এই বিপুল জনগোষ্ঠী দ্বিতীয় অথবা তৃতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে পরিগণিত হবে?

আমি জানি, এসব প্রশ্নের জবাব দিতে অনেকেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন না। কেউ কেউ হয়তো এমনও বলবেন—এসব নিছকই কুতর্ক, আওয়ামী লীগকে প্রাসঙ্গিক করে তোলার জন্য কৌশলী কথাবার্তা। তবে আমার মতে, শেখ হাসিনা ও তার অনুগত গোষ্ঠী, দল হিসেবে আওয়ামী লীগ এবং দেশজুড়ে আওয়ামী লীগের অগণিত সমর্থক—এই তিনটি সমর্থক নয়। এই তিনকে একই পাল্লায় মাপা যাবে না। শেখ হাসিনার বিচার করুন, তার মন্ত্রী বা দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের বিচার করুন, দল হিসেবে অন্যায় করে থাকলে আওয়ামী লীগেরও বিচার হতে পারে। কিন্তু আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দানকারী দলটির যে অগণিত সমর্থক দেশজুড়ে আছে, তাদের অস্তিত্বকে কি অস্বীকার করা যাবে? যদি না যায়, তাদের মতামতকেই বা কীভাবে উপেক্ষা করবেন? জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কি তাদের মতামত শোনার কোনো সুযোগ ছিল? অন্যদিকে জাতীয় পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ—এদেরও কিছু কর্মী-সমর্থক রয়েছে। সংখ্যায় কম, তারপরও বলব জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে মতামতদানকারী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার ৫০ শতাংশ দলের তুলনায় ওই দলগুলোর কর্মী-সমর্থক বেশি রয়েছে। তাহলে তাদের উপেক্ষাই বা করা হলো কোন বিবেচনায়? অথবা কোন আইনে? এসব প্রশ্নের আসলে কোনো জবাব নেই। কেউ জবাব দেবে না। বরং উল্টা, প্রশ্নকর্তার দিকেই সরু করে তাকানো হবে। যেন বলা হবে—‘তুই ব্যাটা স্বৈরাচারের দালাল, ফ্যাসিস্টের দোসর!’

এতসব আলোচনা বাদ রেখে আমরা বরং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সম্ভাব্য পথগুলোর দিকে একটু তাকাই। এই সংস্কার কমিশনগুলোর প্রতি শুরু থেকেই আমার কিছুটা অস্বস্তি ছিল। সেটা মূলত ছিল কমিশনের সদস্যদের কারণে। অনেক সদস্যকেই আমার কাছে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ একটা কাজ করার জন্য পর্যাপ্ত যোগ্যতাসম্পন্ন বলে মনে হয়নি। আপত্তি ছিল বেশ কয়েকজন দ্বৈত নাগরিককে নিয়েও। তারা যে প্রতিবেদনগুলো দিয়েছে, সেগুলো যে খুব ভালো কিছু হয়েছে, তাও হয়তো নয়। এতকিছুর পরও তাদের একটা ক্ষেত্রে ধন্যবাদ দেওয়া যেতে পারে। কোয়ালিটি যা-ই হোক, শেষ পর্যন্ত তারা তাদের কাজটা গুটিয়ে আনতে পেরেছে। রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে একত্রে দিনের পর দিন বসে বেশিরভাগ সংস্কার প্রস্তাবের সঙ্গে দলগুলোকে একমত করতে পেরেছে। এটা অবশ্যই একটা অর্জন। আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সাধারণত কোনো বিষয়ে একমত হওয়ার উদাহরণ তেমন একটা নেই। কিন্তু এই কমিশন সেই অসাধ্য সাধন করতে সক্ষম হয়েছে।

এই সাফল্যকে বিবেচনায় রাখার পরও একটা বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে সংস্কার প্রস্তাবগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে। কবে, কীভাবে এগুলো বাস্তবায়ন হবে? প্রস্তাব অনেকই ছিল। কিন্তু সব পক্ষের আলোচনা শেষে টিকে থাকল গণভোটের প্রস্তাবটি। বিএনপি বলেছিল কিছু সংস্কার প্রস্তাব রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমেই বাস্তবায়ন করা যায়, আর যেগুলো বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন পড়বে, সেগুলো নির্বাচনের পর যে নতুন সরকার আসবে তারা ক্রমান্বয়ে বাস্তবায়ন করবে। যেহেতু ঐকমত্য হয়েছে তাই নির্বাচনের মাধ্যমে যে নতুন সংসদ আসবে, তারা প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সংবিধান সংশোধন করবে; কিন্তু জামায়াত বা এনসিপি এতে রাজি হচ্ছিল না। তারা যেন ধরেই নিয়েছিল নির্বাচনে বিএনপি বিজয়ী হবে এবং তারপর তারা আর কথা রাখবে না। সে কারণেই সম্ভবত তারা নির্বাচনের আগেই যা কিছু আদায় করার চেষ্টা করছিল। শেষ পর্যন্ত সবাই মিলে গণভোটেই রাজি হলো। এ রাজিই কিন্তু সব সমস্যার সমাধান নিয়ে এলো না। বরং নতুন এক প্রশ্ন সামনে এলো—কবে হবে এই গণভোট? নির্বাচনের আগে নাকি একেবারে নির্বাচনের সময়। বিএনপি বলল, ২৬-এর ফেব্রুয়ারিতে যে নির্বাচন হবে, সেই একই দিনে গণভোট হোক। তাহলে সরকারে কারা যাচ্ছে সেটা যেমন নির্ধারিত হবে, তেমনি একই সঙ্গে নতুন সরকার গণভোটের রায় পাওয়ার কারণে জুলাই সনদ বা সংস্কার প্রস্তাবনাগুলোও বাস্তবায়ন করতে পারবে।

জামায়াত, এনসিপিসহ বেশ কয়েকটি দল অবশ্য বিএনপির সঙ্গে একমত হলো না। তারা চায় নভেম্বর বা ডিসেম্বরে হোক গণভোট। তারপর সেই রায়, অর্থাৎ জুলাই সনদের ভিত্তিতেই হোক জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দুপক্ষই যার যার চাওয়ার পেছনে তাদের যুক্তি দিল। বিএনপি যুক্তি হিসেবে ব্যয় সংকোচনের কথা জানাল। তাদের মতে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন একই সঙ্গে গণভোট হলে খরচ অনেকটাই কমে যাবে। প্রায় একই অর্থ ব্যয়ে দুটি নির্বাচন হয়ে যাবে। ভোটারদের কেবল দুটি ব্যালট পেপারে ভোট দিতে হবে। আর সবকিছু এক খরচেই হয়ে যাবে। যুক্তিটা মন্দ নয়। কিন্তু এর বিপরীতে জামায়াত এনসিপির যুক্তিটাও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। তাদের মতে, একই দিনে দু্ই ভোট হলে ভোট গ্রহণ ধীর গতিতে হবে। তাতে সময়জনিত একটা জটিলতা তৈরি হবে। এ ছাড়া অনেক ক্ষেত্রে ভোটাররাও কনফিউজড হয়ে যেতে পারে। তাদের আরও একটা যুক্তি হলো—একই দিনে দুটি নির্বাচন হলে, গণভোটের প্রচারটা যথাযথ নাও হতে পারে। মানুষ হয়তো ঠিকঠাকমতো জানাতে পারবে না জুলাই সনদের বিষয়গুলো সম্পর্কে।

যুক্তির দিক দিয়ে দুপক্ষই বেশ শক্ত অবস্থানে। কিন্তু আমার প্রশ্নটি অন্য জায়গায়। দেখুন, এই যে দুই পক্ষের কথাবার্তা, তাতে একটি বিষয় কিন্তু দেখা যায়, দুপক্ষই যেন ধরেই নিয়েছে—গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জিতে যাবে। এমনটি আসলে হতেও পারে। আমাদের দেশে এর আগে তিন-তিনবার গণভোট হয়েছে। প্রথমবার হয়েছিল ১৯৭৭ সালের ৩০ মে। জিয়াউর রহমান তখন ক্ষমতায়। সেই গণভোটে জনগণকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল—‘আপনি কি রাষ্ট্রপতি মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের (বীরউত্তম) প্রতি এবং তার দ্বারা গৃহীত নীতি ও কার্যক্রমের প্রতি আস্থাশীল?’ ৮৮.১ শতাংশ ভোটার তাতে অংশ নিয়েছিল এবং তাদের মধ্যে ৯৮.৯ শতাংশ হ্যাঁ ভোট দিয়েছিল। দ্বিতীয়বার গণভোট হয় ১৯৮৫ সালের ২১ মার্চ। জেনারেল এরশাদ সেটির আয়োজন করেন। সেবার জনগণের কাছে প্রশ্ন করা হয়েছিল—‘আপনি কি রাষ্ট্রপতি এরশাদের গৃহীত নীতি সমর্থন করেন এবং আপনি কি চান, জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের পূর্ব পর্যন্ত তিনি তার প্রশাসন পরিচালনা করবেন?’ সেবার আগের বারের তুলনায় ভোট কিছুটা কম পড়েছিল, ৭২.২ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছিল এবং এর মধ্যে হ্যাঁ ভোট পড়েছিল ৯৪.৫ শতাংশ। তৃতীয়বার গণভোট হয় ১৯৯১ সালে। সেটিকে বলা হয়েছিল সাংবিধানিক গণভোট। সেবার জনগণের কাছে প্রশ্ন করা হয়েছিল—‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান (দ্বাদশ সংশোধন) বিল ১৯৯১-এ রাষ্ট্রপতির সম্মতি দেওয়া উচিত কি না?’ প্রশ্নটি পড়ে আসলে এই গণভোটের প্রকৃত চরিত্রটি ঠিক বোঝা যায় না। অথচ এ গণভোটটিই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই গণভোটের মাধ্যমেই জনগণ জানিয়েছিল তারা রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকারের পরিবর্তে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় যেতে চায়। সেই গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে ভোট পড়েছিল ৮৪.৩৮ শতাংশ। লক্ষ্য করুন, হ্যাঁ ভোটের এই হার কিন্তু পূর্ববর্তী সামরিক শাসনামলের দুই গণভোটের চেয়ে অনেক কম। আরও লক্ষণীয় তথ্য হচ্ছে, গুরুত্বপূর্ণ এই গণভোটে ভোট পড়েছিল মাত্র ৩৫.১৯ শতাংশ! এমন আকাশ-পাতাল পার্থক্যের কারণ কী? কারণ একটাই, আসলে এবারই প্রকৃতপক্ষে গণভোট হয়েছিল। আর আগের দুবার গণকারচুপি হয়েছিল।

এখন জুলাই সনদের জন্য যে গণভোট তার ভাগ্যে কী আছে? আমার মনে হয় যত বিরোধই এখন থাক না কেন, শেষ পর্যন্ত এর একটা সুরাহা হয়ে যাবে। তারপর যে গণভোটটা হবে, তাতে ভোট দেবে কত শতাংশ মানুষ? আমাদের দেশের ভোটের যে প্যাটার্ন, তাতে ভোটারদের নানাভাবে প্রভাবিত করে ভোটকেন্দ্রে নিতে হয়। সাধারণত প্রার্থীরা এই কাজটা করে। কিন্তু গণভোটে প্রার্থী আসলে কে? এটাই হলো মূল সমস্যা। সেজন্যই ভোট যদি যথাযথভাবে হয়, গণভোটে ভোট পড়বে কম। এখন গণভোট যদি জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে হয়, তাহলে ভোটারকে কেন্দ্রে আনার বাড়তি ঝামেলাটা থাকবে না। হয়তো ভোট কাস্টিংয়ের হারটাও বাড়বে। আবার যদি নভেম্বর বা ডিসেম্বরে হয়, ভোট প্রদানের হার অবিশ্বাস্যরকম কম হবে। সেটা জুলাই সনদের জন্য কতটুকু সম্মানজনক হবে—সে বিষয়টাও বিবেচনায় রাখতে হবে।

তবে আমার বিবেচনায় আলোচিত এই গণভোটের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বিপত্তিটা তৈরি হতে পারে এর ফলাফল নিয়ে। ধরা যাক, ভোট হলো, কিন্তু ফল প্রকাশের পর দেখা গেল ‘না’ ভোট জয়যুক্ত হয়েছে, তখন? তখন তো পুরো জুলাই সনদটাই বিশাল এক হুমকির মুখে পড়বে। এখন যারা গণভোটের কথা বলছেন, তাদের কথাবার্তা বা ভাবভঙ্গিতে মনে হয় যে, তারা ধরেই নিয়েছেন ‘হ্যাঁ’ জিতবে। তাদের এ ভাবনা খুব অস্বাভাবিক কিছু নয়। একটা কথা মনে রাখতে হবে, বিএনপি কিন্তু এই গণভোট পদ্ধতিতে খুব আনন্দের সঙ্গে রাজি হয়নি। অনেকটা চাপে পড়ে সম্মত হয়েছে। সেই চাপের কথা যদি বিএনপির সাধারণ ভোটাররা মনে রাখে, আর তার সঙ্গে যদি দেশের অগণিত আওয়ামী ভোটাররা যুক্ত হয়, গণভোটের কিন্তু যে কোনো ফলই হতে পারে।

বিষয়গুলো কি বিবেচনায় রেখেছেন অতিউৎসাহী ‘গণভোটপন্থি’ রাজনীতিকরা?

মাসুদ কামাল,সাংবাদিক

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বাধ্যতামূলক জিপিএস সিস্টেমের আওতায় আসছে গণপরিবহন

প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অনশন, আত্মহত্যার হুমকি

আয়াতের পৃথিবীটা একটি হুইলচেয়ারের অপেক্ষায়

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি সম্পন্ন, স্বাগত জানাল বাংলাদেশ

রামপুরায় কার্নিশে ঝুলন্ত তরুণকে গুলি ও ২ জনকে হত্যা মামলার রায় ২৮ জুন

বাতিল হচ্ছে হান্নান মাসউদের এমপি পদ! দাবি রাশেদ খাঁনের

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ

শূন্যরেখায় থাকা ১২ জনকে তিন দিন পর ফেরত নিল বিএসএফ

ত্রাণের টাকা পেলেন জামায়াত এমপির স্বজন ও দলীয় নেতাকর্মীরা

১৩৪০ জনকে নিয়োগ দেবে রিক, এইচএসসি পাসেই আবেদন

১০

নৌবাহিনীতে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, বিবাহিতরাও আবেদন করতে পারবেন

১১

আব্দুল্লাহ হিল রাকিব স্মরণে বিইউএফটিতে স্মরণসভা

১২

দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান

১৩

সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধে বিএসএফের প্রতি বিজিবির আহ্বান

১৪

অভিজ্ঞতা ছাড়াই আরএফএল গ্রুপে চাকরির সুযোগ

১৫

অক্সফোর্ড ইউনিয়নের সেমিনারে হাসনাত-সাদিক

১৬

খেলা শেষে স্টেডিয়াম পরিষ্কার করল জাপানি সমর্থকরা

১৭

জামায়াত কর্মীকে হত্যার পর মরদেহ পোড়ানোর চেষ্টা

১৮

বিশ্বকাপের পরিবর্তে ক্ষুধার্তদের চাহিদা পূরণের আহ্বান আহমাদুল্লার

১৯

চরের নারীদের স্বাস্থ্য সংকট / গরমে বাড়ছে জরায়ু ও ত্বকজনিত জটিলতা

২০
X