

উপমহাদেশের সংগীত ইতিহাসে এক অনন্য নাম লতা মঙ্গেশকর। যিনি শুধু ভারত নয়, সমগ্র বিশ্বে পরিচিত ছিলেন ‘নাইটিঙ্গেল অব ইন্ডিয়া’ নামে। অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় ধরে তিনি ভারতীয় চলচ্চিত্রের সংগীতকে সমৃদ্ধ করেছেন অসংখ্য কালজয়ী গানে। ১৯২৯ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ ভারতের ইন্দোরে জন্মগ্রহণ করেন লতা। ছোটবেলা থেকেই গানের প্রতি অগাধ ভালোবাসা ছিল তার। মাত্র ১৩ বছর বয়সে মারাঠি ছবিতে প্রথম প্লেব্যাক করেন। এর পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। দীর্ঘ সংগীতজীবনে তিনি এক হাজারের বেশি হিন্দি ছবিতে গান করেছেন। শুধু হিন্দিই নয়, ভারতের ৩৬টি ভাষায় প্রায় ৩০ হাজার গান উপহার দিয়েছেন এই মহারথী শিল্পী। বাংলাতেও রয়েছে তার বহু জনপ্রিয় গান।
লতা মঙ্গেশকর ছিলেন সংগীত পরিবার থেকে উঠে আসা অনন্য এক নক্ষত্র। তার বাবা ছিলেন গায়ক, থিয়েটারের অভিনেতা ও মারাঠি গীতিনাট্যের প্রযোজক। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়।
দশকের পর দশক তিনি ছিলেন বলিউডের সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন প্লেব্যাক গায়িকা। শীর্ষ অভিনেত্রীরা চাইতেন তাদের ছবির গানটি যেন এই শিল্পীর কণ্ঠে শোনানো হয়। তার কণ্ঠ ভারতের চলচ্চিত্রকে দিয়েছে অন্য রকম এক মাত্রা। সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য লতা মঙ্গেশকর পেয়েছেন অসংখ্য সম্মাননা। ভারতের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ভারত রত্ন, পদ্মবিভূষণ, পদ্মভূষণ ছাড়াও অর্জন করেছেন দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার। পেয়েছেন তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, চারবার ফিল্মফেয়ার পুরস্কার এবং ১২ বার বেঙ্গল ফিল্ম জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন পুরস্কার। শুধু ভারত নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সম্মানিত হয়েছেন তিনি—ফ্রান্স সরকার তাকে দিয়েছে সে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘অফিসার দে লা দি’ অনার। ২০২২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি করোনায় আক্রান্ত হয়ে এই কিংবদন্তি শিল্পীর জীবনাবসান ঘটে।